ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক ২০০৯ সালের পর ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড ফাঁস হলো স্যামসাং জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রার দাম ও ফিচার হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোরআনের এই ১০ আয়াত চট্টগ্রামের দুর্গতদের পাশে যুবদল সভাপতি মুন্না বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : অর্থমন্ত্রী সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, পরীমণির বাঁধভাঙ্গা উল্লাস জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের হিট লিস্টে ১৩ বিশ্বনেতা দুই মাস পর ঘুরে দাঁড়ালো সঞ্চয়পত্র বিক্রি

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার পথ বন্ধ : সংসদে পাস হলো নতুন আইন

আওয়ামী লীগের মিছিল, মিটিং, সমাবেশ ও প্রচারণাসহ যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী রূপ নিলো।

বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে ক্ষমতাচ্যুত দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা আগের অধ্যাদেশটি এখন শক্তিশালী আইনি ভিত্তি পেল।

নতুন পাস হওয়া আইনের ৩ ধারায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সত্তা বা সংগঠনের পক্ষে কোনো ধরনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, মুদ্রণ, অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালানো যাবে না। এছাড়া মিছিল, সভা-সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন কিংবা জনসম্মুখে বক্তৃতা প্রদানের ওপরও পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

বিলটি পাসের আগে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এটি পর্যালোচনার জন্য সময় প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, বিলটির কপি হাতে পাওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে এটি পাস করা ঠিক হবে না। তবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কার্যপ্রণালী বিধির দোহাই দিয়ে তার আবেদন নাকচ করে দেন। স্পিকার জানান, নির্ধারিত সময়ে কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না আসায় এখন আর আলোচনার সুযোগ নেই।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, এই সংশোধনীটি মূলত একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য আনা হয়েছে। আপনারা (বিরোধী দল) এবং এনসিপির আন্দোলনের ফলেই যে জনমত তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন এই আইন। এই আইনের সাহায্যেই আওয়ামী লীগের রেজিস্ট্রেশন বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১১ মে একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করে অন্তর্বর্তী সরকার। আজকের এই সংসদীয় অনুমোদনের ফলে সেই স্থগিতাদেশ এখন স্থায়ী আইনি কাঠামোতে রূপান্তর হলো। মন্ত্রীর বক্তব্যের পর কণ্ঠভোটে বিলটি সংসদে পাস হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার পথ বন্ধ : সংসদে পাস হলো নতুন আইন

আপডেট টাইম : ০৫:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

আওয়ামী লীগের মিছিল, মিটিং, সমাবেশ ও প্রচারণাসহ যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী রূপ নিলো।

বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে ক্ষমতাচ্যুত দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা আগের অধ্যাদেশটি এখন শক্তিশালী আইনি ভিত্তি পেল।

নতুন পাস হওয়া আইনের ৩ ধারায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সত্তা বা সংগঠনের পক্ষে কোনো ধরনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, মুদ্রণ, অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালানো যাবে না। এছাড়া মিছিল, সভা-সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন কিংবা জনসম্মুখে বক্তৃতা প্রদানের ওপরও পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

বিলটি পাসের আগে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এটি পর্যালোচনার জন্য সময় প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, বিলটির কপি হাতে পাওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে এটি পাস করা ঠিক হবে না। তবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কার্যপ্রণালী বিধির দোহাই দিয়ে তার আবেদন নাকচ করে দেন। স্পিকার জানান, নির্ধারিত সময়ে কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না আসায় এখন আর আলোচনার সুযোগ নেই।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, এই সংশোধনীটি মূলত একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য আনা হয়েছে। আপনারা (বিরোধী দল) এবং এনসিপির আন্দোলনের ফলেই যে জনমত তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন এই আইন। এই আইনের সাহায্যেই আওয়ামী লীগের রেজিস্ট্রেশন বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১১ মে একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করে অন্তর্বর্তী সরকার। আজকের এই সংসদীয় অনুমোদনের ফলে সেই স্থগিতাদেশ এখন স্থায়ী আইনি কাঠামোতে রূপান্তর হলো। মন্ত্রীর বক্তব্যের পর কণ্ঠভোটে বিলটি সংসদে পাস হয়।