চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সভা ও মিছিলের ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম ও আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি খাদিজাতুল আনোয়ার সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতে ফটিকছড়ি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জামাল হোসেন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন। মামলায় ৮০ থেকে ৯০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে দুজন হলেন—নাজিরহাট পৌরসভার পূর্ব সুয়াবিল এলাকার মো. জামান বাবু (২৩) ও সাইফুল ইসলাম সজিব (২৫)। অন্যজনের নাম জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম ও সাবেক এমপি খাদিজাতুল আনোয়ার সনিকে ঘটনার প্রধান হুকুমদাতা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের নাম রয়েছে। আসামির তালিকায় আরও আছেন বখতিয়ার সাঈদ ইরান, সাবরিনা চৌধুরী, জসিম উদ্দিন মুহুরী, ফোরকান উদ্দিন বাচ্চু এবং মো. জসিমসহ অনেকে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফটিকছড়ি থানার একটি টহল দল খবর পায়, উপজেলার রোসাংগিরী ইউনিয়নের আজিমনগর এলাকায় নাজিরহাট-মাইজভান্ডার সড়কে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মশাল মিছিল করছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মিছিল থেকে নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে স্লোগান দেওয়া হয় এবং রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অংশগ্রহণকারীরা হাতে থাকা বাঁশের তৈরি মশাল ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। এসময় ধাওয়া দিয়ে কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারটি বাঁশের তৈরি মশাল জব্দ করা হয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পেরেছে, কয়েকজন শীর্ষ নেতার নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্র এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রস্তুতির উদ্দেশে তারা সেখানে সমবেত হয়েছিল।
এর আগে বৃহস্পতিবার ফটিকছড়ি উপজেলার রোসাঙ্গিরি এলাকার একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ‘বিশ্রামাগারে’ শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভা করে ছাত্রলীগ। সামাজিক মাধ্যমে এ সভার বেশ কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ে।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভা ও মিছিলের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছ। পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 

























