মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) আজহারুল ইসলামের ছেলে ও জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে। তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি, পণ্যবাহী যানবাহন আটকে টাকা আদায় এবং ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) খাইরুল ইসলাম সজীবকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে রোববার দুপুরে রাজধানী থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহযোগিতায় সজীবকে হেফাজতে নেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। পরে তাকে ঢাকার মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, সজীবের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো এখনও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর একটি বড় শিল্প গ্রুপের গাড়ি আটকে রেখে চাঁদা দাবি করেন সজীবের অনুসারীরা। পরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন কারখানার পণ্যবাহী যানবাহন আটকে টাকা আদায় এবং ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
হেফাজতে নেওয়ার পর সজীবকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নানা অনিয়মে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ স্থগিত ও তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ ও একাধিক শিল্পকারখানা-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও ও কাঁচপুর এলাকার বিভিন্ন শিল্পকারখানার মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সজীবের বিরুদ্ধে। চাহিদামতো টাকা না পেলে সংশ্লিষ্ট কারখানার পণ্যবাহী যানবাহন আটকে রাখার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 

























