যুদ্ধবিরতি চললেও গাজা উপত্যকায় থেমে নেই ইসরায়েলি বাহিনী বর্বর হামলা। গত ২৪ ঘণ্টায় উপত্যকাজুড়ে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এসব হামলায় ২২ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) ফিলিস্তিনি চিকিৎসা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সর্বশেষ এসব বিমান ও স্থল হামলাগুলো গাজার দেইর আল-বালাহ, খান ইউনুস, জাবালিয়ার আবাসিক ভবন, বেসামরিক যানবাহন এবং জনবহুল এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলের অমানবিক হামলায় উপত্যকার বহু পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এর ধারাবাহিকতায় আরও একটি পরিবারের সবাই নিহত হয়েছে। পরিবারটির বাবা ও তিন ভাইবোন আগেই মারা গেছে এবং গত ২৪ ঘণ্টার হামলা পরিবারের সর্বশেষ সদস্যও নিহত হয়। জানা গেছে, উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের ইয়েমেন আল-সাঈদ হাসপাতালের কাছে হওয়া হামলায় ওই যুবক মারা যায়।
এছাড়া, দেইর আল-বালাহ প্রবেশপথের কাছে একটি যানবাহনকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় মোহাম্মদ আতিয়া জাবর এবং হাজেম আতিয়া জাবর নামে দুই ভাই নিহত হয়েছেন।
চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, গাজা সিটির বন্দরের কাছে আল-সুসি টাওয়ারের একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক শিশুসহ দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ দেইর আল-বালাহর আল-মাশালা এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক নারীসহ আরও দুই জন প্রাণ হারিয়েছেন।
এছাড়া, গাজা সিটির শরিয়া আদালতের পেছনে একটি বেসামরিক যানবাহনে ইসরায়েলি বোমায় আরও চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি, খান ইউনুসের উত্তর-পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি বাসভবন লক্ষ্য করে হামলায় চালালে এক শিশুসহ আরও তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়। গাজা সিটির আল-রিমাল এলাকায় হামলা চালালে আল-থাওরা স্ট্রিটে আরও তিন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ছয়জন আহত হন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর পর থেকে শুরু হওয়া গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৩৫৬ মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরও ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৮৫ জন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে , অক্টোবরে গাজায় ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এক হাজার ২৩০ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৪ হাজার ৭৬ জন আহত হয়েছে।
সূত্র: প্যালেস্টাইন ক্রনিকল

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 























