কুড়িগ্রামের রাজারহাটে কালভার্ট নির্মাণের কাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন পাঁচ গ্রামের প্রায় ছয় হাজার মানুষ। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম গ্রামে গতিয়াশাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১০০ মিটার দক্ষিণে কালভার্টটির অবস্থান। প্রায় ১৯ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭০ টাকা ব্যয়ে ৪ দশমিক ২৬ মিটার দীর্ঘ কালভার্ট নির্মাণের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের মে মাসে প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো কালভার্টটি প্রায় দেড় বছর আগে ভেঙে ফেলা হয়েছে। এরপর নতুন কালভার্ট নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশ দিয়ে একটি সাঁকো তৈরি করেন। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ ওই সাঁকো দিয়েই গতিয়াশাম, চর গতিয়াশাম, নীরব বাজার ও নকীর পুলসহ আশপাশের পাঁচ গ্রামের মানুষ চলাচল করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ পথে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। কালভার্ট না থাকায় কৃষিকাজ, বাজারে যাতায়াতসহ দৈনন্দিন কাজে তাঁদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষায় সাঁকো পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে কালভার্ট না থাকায় জমিতে যাওয়া, বাজারে যাওয়া—সবকিছুতেই আমাদের ভোগান্তি হচ্ছে। আমরা কাকে বলব এ সমস্যার কথা?’
কালভার্ট নির্মাণের ঠিকাদার নূর আলম বলেন, বৃষ্টি, বন্যা ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজারহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য তাগাদা দেওয়া হয়েছে। আশা করি এ বছরই কাজ শেষ হবে।’

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























