ঢাকা , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ থাকবে না: ডিএমপি কমিশনার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের কথা জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘এই মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না। কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ থাকবে না।’

আজ শনিবার বিকেলে মোহাম্মদপুরের বছিলা পুলিশ লাইনসে নাগরিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার উল্লেখ করেন, ‘মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাই- এই তিনটি বিষয় নিয়ে নাগরিকরা তাদের বক্তব্যে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে বেশিরভাগ নাগরিক বলেছেন, কিশোর গ্যাং ও মাদক কেনাবেচা আগের চেয়ে কমেছে। ছিনতাইও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে বলে পুলিশের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘গত তিন মাসের সঙ্গে তার আগের তিন মাসের অপরাধের পরিসংখ্যান তুলনা করলে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাইয়ের ক্ষেত্রে উন্নতির চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। তবে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিচার করা ঠিক নয়। নাগরিকরা চান মোহাম্মদপুরে কোনো ছিনতাই, কিশোর গ্যাং বা মাদক থাকবে না। পুলিশও সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।’

মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলন, ‘মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স রয়েছে। তবে শুধু পুলিশের পক্ষে এসব সমস্যা নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। জনতার প্রতিরোধ কিন্তু সবচেয়ে বড় শক্তি। এটা শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা পৃথিবীতে উদাহরণ রয়েছে। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মোহাম্মদপুরের জনগণ যদি এলাকাভিত্তিক প্রতিরোধ করেন তাহলে এই এলাকায় কোনো মাদক, কিশোর গ্যাং থাকতে পারবে না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে প্রচেষ্টার ঘাটতি আছে, অবশ্যই আছে, এটা স্বীকার করতেই হবে।’

মোহাম্মদপুর থানায় আটটি বিট রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কর্মকর্তাদের বিট পুলিশিং আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হলো। আটটি বিটের বিট কর্মকর্তাদের শক্তিশালী করার পাশাপাশি তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি।

মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন মাদক স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানার তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এসব তালিকা ধরে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রতিটি মাদক স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানায় অভিযান আরও জোরদার করতে হবে।

রিকশা ও অটোরিকশার গ্যারেজগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘অটোরিকশার গ্যারেজের ভেতর রাতে যাকেই পাওয়া যাবে তাকেই গ্রেপ্তার করতে হবে।’

কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে র‌্যাব ও ডিএমপি একসঙ্গে কাজ করবে জানিয়ে কমিশনার বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতায় প্রতিদিন অভিযান চালানো হবে এবং অতি সত্বর মোহাম্মদপুরকে কিশোর গ্যাংমুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

ছিনতাইয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স রয়েছে। ছিনতাইকারীর হাতে ছুরি, আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতি বা অন্য কোনো দেশীয় অস্ত্র থাকলে এবং তা দিয়ে কারও ওপর হামলা বা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে আইনগতভাবে অস্ত্র প্রয়োগের কথাও বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে চন্দ্রিমা হাউজিংয়ে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে প্রায় পাঁচ কাঠা জায়গা রয়েছে। জায়গাটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। মামলার রায় পুলিশের পক্ষে এলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেখানে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের কমিউনিটি পুলিশিং, ওয়ার্ডভিত্তিক মাদকবিরোধী ও কিশোর গ্যাংবিরোধী কমিটির মাধ্যমে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় র‌্যার মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গনি, র‍্যাব-২ অধিনায়ক নয়মুল হাসান, তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান, মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, স্থানীয় বাসিন্দাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

আমাদের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে রুপান্তর করা : বিমানমন্ত্রী

মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ থাকবে না: ডিএমপি কমিশনার

আপডেট টাইম : ৪৬ মিনিট আগে

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের কথা জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘এই মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না। কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ থাকবে না।’

আজ শনিবার বিকেলে মোহাম্মদপুরের বছিলা পুলিশ লাইনসে নাগরিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার উল্লেখ করেন, ‘মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাই- এই তিনটি বিষয় নিয়ে নাগরিকরা তাদের বক্তব্যে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে বেশিরভাগ নাগরিক বলেছেন, কিশোর গ্যাং ও মাদক কেনাবেচা আগের চেয়ে কমেছে। ছিনতাইও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে বলে পুলিশের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘গত তিন মাসের সঙ্গে তার আগের তিন মাসের অপরাধের পরিসংখ্যান তুলনা করলে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাইয়ের ক্ষেত্রে উন্নতির চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। তবে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিচার করা ঠিক নয়। নাগরিকরা চান মোহাম্মদপুরে কোনো ছিনতাই, কিশোর গ্যাং বা মাদক থাকবে না। পুলিশও সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।’

মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলন, ‘মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স রয়েছে। তবে শুধু পুলিশের পক্ষে এসব সমস্যা নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। জনতার প্রতিরোধ কিন্তু সবচেয়ে বড় শক্তি। এটা শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা পৃথিবীতে উদাহরণ রয়েছে। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মোহাম্মদপুরের জনগণ যদি এলাকাভিত্তিক প্রতিরোধ করেন তাহলে এই এলাকায় কোনো মাদক, কিশোর গ্যাং থাকতে পারবে না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে প্রচেষ্টার ঘাটতি আছে, অবশ্যই আছে, এটা স্বীকার করতেই হবে।’

মোহাম্মদপুর থানায় আটটি বিট রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কর্মকর্তাদের বিট পুলিশিং আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হলো। আটটি বিটের বিট কর্মকর্তাদের শক্তিশালী করার পাশাপাশি তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি।

মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন মাদক স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানার তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এসব তালিকা ধরে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রতিটি মাদক স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানায় অভিযান আরও জোরদার করতে হবে।

রিকশা ও অটোরিকশার গ্যারেজগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘অটোরিকশার গ্যারেজের ভেতর রাতে যাকেই পাওয়া যাবে তাকেই গ্রেপ্তার করতে হবে।’

কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে র‌্যাব ও ডিএমপি একসঙ্গে কাজ করবে জানিয়ে কমিশনার বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতায় প্রতিদিন অভিযান চালানো হবে এবং অতি সত্বর মোহাম্মদপুরকে কিশোর গ্যাংমুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

ছিনতাইয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স রয়েছে। ছিনতাইকারীর হাতে ছুরি, আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতি বা অন্য কোনো দেশীয় অস্ত্র থাকলে এবং তা দিয়ে কারও ওপর হামলা বা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে আইনগতভাবে অস্ত্র প্রয়োগের কথাও বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে চন্দ্রিমা হাউজিংয়ে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে প্রায় পাঁচ কাঠা জায়গা রয়েছে। জায়গাটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। মামলার রায় পুলিশের পক্ষে এলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেখানে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের কমিউনিটি পুলিশিং, ওয়ার্ডভিত্তিক মাদকবিরোধী ও কিশোর গ্যাংবিরোধী কমিটির মাধ্যমে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় র‌্যার মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গনি, র‍্যাব-২ অধিনায়ক নয়মুল হাসান, তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান, মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, স্থানীয় বাসিন্দাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।