আকর্ষণীয় ফিচারে নতুন ফোল্ডেবল আইফোন বাজারে এসেছে। বুধবার নতুন এই আইফোনের উন্মোচন হয়েছে। দামও বেশ চড়া। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেই শুরু হচ্ছে ১,৯৯৯ ডলার থেকে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোয় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ধনী প্রযুক্তি প্রেমীদের বাইরে এই ফোনের আসল ক্রেতা কারা?
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অ্যাপলের নির্বাহী কর্মকর্তারা নতুন আইফোন ডুও তে জুম, স্ন্যাক ও নেটফ্লিক্সসহ বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেখান। বড় ডিসপ্লেটিকে কাজ, কন্টেন্ট তৈরি এবং বিনোদনের জন্য কিভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটিও তুলে ধরা হয়। অ্যাপেলের নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা জন টার্নাস বলেন, আইপ্যাডের মতো সহজ ও স্বাভাবিক ব্যবহারযোগ্য বড় ডিসপ্লে ব্যবহারকারীকে ব্যক্তিগতভাবে এআই হাব ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে।
ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিসের বিশ্লেষক ক্যারোলিনা মিলানেসি বলেন, অ্যাপল সাধারণত ক্রেতা কারা তা নির্দিষ্ট করে না, কিন্তু বিশেষ করে এই ক্ষেত্রে তারা বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন যে, আইফোন ডুয়োর শক্তিশালী প্রাথমিক বিক্রি নিশ্চিত করার জন্য অ্যাপলের ব্র্যান্ডের খ্যাতিই যথেষ্ট। কিন্তু তারা সতর্ক করে বলেন, একবার সেই উচ্ছ্বাস কমে গেলে ডিভাইসটির উচ্চ মূল্য এবং এর লক্ষ্য ক্রেতা সম্পর্কে অ্যাপলের স্পষ্ট ধারণার অভাব এটিকে ধনী প্রাথমিক ব্যবহারকারীদের একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলতে পারে যা এই বিভাগটিকে এর উন্মোচনের পর থেকেই জর্জরিত করে আসছে।
গবেষণা সংস্থা আইডিসির মতে, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বাজারের ৩ শতাংশেরও কম অংশ ফোল্ডেবল ফোনের দখলে থাকবে। এমনকি অ্যাপলের প্রবেশের পরও ২০২৭ সালে এই সংখ্যায় খুব বেশি পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশা করছেন না।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট নীল শাহ বলেন, নিঃসন্দেহে এর অবস্থান নির্ধারণে কিছুটা ঘাটতি ছিল। আমাদের দিক থেকে এটা স্পষ্ট ছিল না যে ফোনটি কাজের জন্য নাকি বিনোদনের জন্য, কিন্তু আমি মনে করি আইফোন সবসময় একটি বহুমুখী ডিভাইস হিসেবেই পরিচিত।
একটি ব্যাপক বিপণন কৌশল বেছে নেওয়ার মাধ্যমে অ্যাপল এটা স্পষ্ট করেনি যে, সর্বোচ্চ স্টোরেজ বিকল্পসহ ৩,১৯৯ ডলারে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হতে যাওয়া এই ফোনটির জন্য কোনো ধরনের ক্রেতা অর্থ ব্যয় করবে।
২০১০ সালে যখন অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস আইপ্যাড চালু করেন, তখন তিনি এই ট্যাবলেট কম্পিউটারটিকে মিডিয়া ও বিনোদন উপভোগের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ডিভাইস হিসেবে একটি নতুন ধারার সূচনা করেছে বলে বর্ণনা করেছিলেন।
প্রযুক্তি গবেষণা সংস্থা ওমডিয়ার মতে, অ্যাপলের আগমনের ফলে ২০২১ সালের পর থেকে ফোল্ডেবল স্মার্টফোন শিপমেন্টে বছরের পর বছর সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংস্থাটি ২০২৬ সালের জন্য এর বাজার পূর্বাভাস দিয়েছে ২ কোটি ২৩ লাখ ইউনিট।
টেকনালিসিস রিসার্চের প্রধান বিশ্লেষক বব ও ডোনেল বলেন, আইফোন ডুয়োর উচ্চ মূল্য এর সম্ভাব্য ক্রেতাগোষ্ঠীকে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সীমিত করে দিয়েছে। কিন্তু অ্যাপলের একনিষ্ঠ ভক্তরা প্রাথমিক বিক্রি বাড়াতে সাহায্য করবে।
তিনি বলেন, এটি এমন একটি জিনিস হবে যা পাওয়ার জন্য সবাই আকুল থাকবে। এটি কিছু সময়ের জন্য একটি মর্যাদার প্রতীক হয়ে থাকবে, কারণ আমার মনে হয় এটি পাওয়া কঠিন হবে।

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























