ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

মিয়ানমারের লজ্জা

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীকে নির্মূলের জন্য অব্যাহত অভিযান সেব্রেনিসার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। সেব্রেনিসায় যখন হাজার হাজার বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও তরুণকে নিধন করা হচ্ছিল তখন সেখানে জাতিসংঘ বাহিনী পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থেকে দেখেছে। নারী ও শিশুদের বাস ভর্তি করে বসিনিয়াকদের দখলকৃত অঞ্চলে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানে জাতিসংঘ বাহিনীর অধিকাংশ সেনা ছিলো ডাচ। তাদের ওপর তাদেও সরকারের নির্দেশ ছিলো কোন সেনার লাশ দেশে পাঠানো যাবে না। কারো জীবনের ঝুঁকি নেয়া যাবে না। তখন থেকে হল্যা-ের সাধারণ মানুষ তাদের বাহিনীকে অপদস্ত করতে ‘সেব্রেনিসার লজ্জা’ শব্দটি উদ্ভাবন করে।

মিয়ানমারে যখন জাতিগত নির্মূল অভিযানের হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিহত ও নৃশংসতার শিকার হচ্ছে তখনও বিশ^ নিশ্চল দাঁড়িয়ে থেকে অবলোকন করছে। বার্মিজ সেনাবাহিনী সেখানে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, গুম, জোরপূর্বক বহিস্কারের মতো অপরাধ করে চলেছে। এখানে নারী ও শিশুদেরও রেহাই দেয়া হচ্ছে না। স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে পুড়ে যাওয়া শত শত রোহিঙ্গা গ্রাম দেখা যাচ্ছে। এসব গ্রাম থেকে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এই শরণার্থীদের অর্ধেকের বেশি শিশু।

অন্যদিকে, বক্তৃতার ফুলঝুরি ছুটছে, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন প্রধান গলা ফাটিয়ে নিন্দা করছেন। ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কের নেতাদের কাছ থেকে নিন্দাবাদ করা হয়েছে। অন্যদিকে, গণতন্ত্রের ব্যানারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বর্মি জান্তা এসব নিন্দাবাদে কান দিচ্ছে না। কারণ, কেউ তাদেরকে বলছে না যে তাদের নেতাদের জাবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করার জন্য তাদেরকে হেগে’র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মুখোমুখি হতে হবে। সেখানে অপরাধ প্রমাণ হলে যাবজ্জীবন নিশ্চিত।  সার্বিয়ার স্লোবোদান মিলোসেভিচ ও রাটকো ম্লাদিচের ভাগ্যের কথা কেউ মিয়ানমার জান্তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক আইনে যেখানে বিশ্বজনিন বিচার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে সেখানে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কিভাবে তার অপকর্মের জন্য নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পাচ্ছে? দেশটির ওপর কয়েক দশক যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বজায় ছিলো। কিন্তু প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১৬ সালের অক্টোবর তা তুলে নেন। এরপর থেকে দেশটির বিরুদ্ধে আর নতুন কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্ররা অবশ্য রাশিয়া, ইরান, সিরিয়া, ভেনিজুয়েলার মতো দেশগুলোর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বেশি আগ্রহী। মিয়ানমার নেত্রী অং সাং সুচি’কে যে কারণে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছিলো তার সঙ্গে তিনি বিশ^াসঘাতকতা করেছেন বলে অভিযোগে পুরস্কার বাতিলের দাবি উঠেছে। একে মিয়ানমারের লজ্জাজনক কাজের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র আকারের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা আখ্যায়িত করা যায়।

২০০৫ সালে জাতিসংঘের সকল ১৯১ সদস্য ‘রেসপনসিবিলিটি টু প্রটেক্ট’ (আর২পি) নীতি অনুমোদন করেন। এই দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে একটি দেশ তার নিজ নাগরিকদের রক্ষা করবে অথবা তার সার্বভৌমত্ব  বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে। গণহত্যা বিষয়ে ১৯৪৮ সালের জেনেভা কনভেনশনের ভিত্তিতে তৈরি এই নীতিতে বলা হয়েছে, সকল রাষ্ট্র গণহত্যা, জাতিগত শুদ্ধি অভিযান, ও ব্যাপক-আকারে নৃশংসতা প্রতিরোধ, বন্ধ ও শাস্তি দিবে।  যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ‘আর২পি’ পাস করে লিবিয়ায় অভিযান চালিয়ে মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে হত্যা ও তার সরকারকে উৎখাত করে। গাদ্দাফি বেনগাজির বিদ্রোহীদের নির্মূলের হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়। মিয়ানমারে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ তারচেয়েও বেশি গুরুতর; এখানে কোন হুমকি দেয়া হয়নি, সরাসরি নির্মূল অভিযান চালানো হচ্ছে, অনেক বড় আকারে।

‘দ্যা প্রব্লেম ফ্রম হেল’ বইয়ে সামান্থা পাওয়ার উল্লেখ করেছেন যে একের পর এক গণহত্যা – কম্বোডিয়া, ইরাক, বসনিয়া, রুয়ান্ডা – বিশ্বশক্তি কিছু করতে পারেনি। কোন গণহত্যা শুরু হওয়ার আগে জাতিসংঘ ও বিশ্বশক্তিগুলো অনেক সময় পায় তা প্রতিরোধ করার জন্য। কোন দেশ যখন তার নাগরিকদের রক্ষা করে না তখন তাদের রক্ষা করতে জাতিসংঘ সেনা রয়েছে, বিশেষ করে এ ধরনের মিশনের জন্য যারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাদের জন্য বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়। এরা আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে পারে। দেশটিকে জাতিসংঘ হুমকি দিয়ে বলতে পারে যে আর কোন সেব্রেনিসা সহ্য করা হবে না।  কিন্তু মিয়ানমারের ক্ষেত্রে এর কিছুই করা হয়নি।

কেউ কেউ সন্দেহ করেন যে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অর্থবহ কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা থেকে সীমিত সেনা অভিযান চালানোর হুমকি কিছু দেয়া হবে না। কারণ, দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন চীনকে ঠেকানোর কৌশল হিসেবে। আরো ব্যাপক অর্থে এটা হলো চীনের সীমান্তবর্তী দেশগুলো সঙ্গে সামরিক মিত্রতা গড়ে তোলা। যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনামে এ কাজটি করেছিলো। এটা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামা মিয়ানমার সফর করেন। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ওপর নিজের প্রভাব বজায় রাখতে চীনও সচেষ্ট।

এসব ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনাগুলো তাদের জায়গায় থাক। কিন্তু, মিয়ানমারের মতো একটি দেশের সেনাবাহিনী যখন বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন ওই ভূরাজনীতি এক পাশে সরিয়ে রাখা উচিত। তা নাহলে, মানবাধিকার নিয়ে এসব উচ্চস্বরের বক্তব্য ফাঁকা বুলিতে পরিণত হবে। বিশ্বের নেতাদের ওই একই প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হবে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের যখন কচুকাটা করা হচ্ছিলো তখন আপনারা কি করেছেন? আপনারা রুয়ান্ডায় গণহত্যা ঘটতে দিয়েছেন, সেব্রেনিসা দাঁড়িয়ে থেকে দেখেছেন; আপনাদের কথার কি দাম আছে। আপনাদের জন্য লজ্জা, আমাদের জন্যও লজ্জা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

মিয়ানমারের লজ্জা

আপডেট টাইম : ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীকে নির্মূলের জন্য অব্যাহত অভিযান সেব্রেনিসার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। সেব্রেনিসায় যখন হাজার হাজার বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও তরুণকে নিধন করা হচ্ছিল তখন সেখানে জাতিসংঘ বাহিনী পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থেকে দেখেছে। নারী ও শিশুদের বাস ভর্তি করে বসিনিয়াকদের দখলকৃত অঞ্চলে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানে জাতিসংঘ বাহিনীর অধিকাংশ সেনা ছিলো ডাচ। তাদের ওপর তাদেও সরকারের নির্দেশ ছিলো কোন সেনার লাশ দেশে পাঠানো যাবে না। কারো জীবনের ঝুঁকি নেয়া যাবে না। তখন থেকে হল্যা-ের সাধারণ মানুষ তাদের বাহিনীকে অপদস্ত করতে ‘সেব্রেনিসার লজ্জা’ শব্দটি উদ্ভাবন করে।

মিয়ানমারে যখন জাতিগত নির্মূল অভিযানের হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিহত ও নৃশংসতার শিকার হচ্ছে তখনও বিশ^ নিশ্চল দাঁড়িয়ে থেকে অবলোকন করছে। বার্মিজ সেনাবাহিনী সেখানে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, গুম, জোরপূর্বক বহিস্কারের মতো অপরাধ করে চলেছে। এখানে নারী ও শিশুদেরও রেহাই দেয়া হচ্ছে না। স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে পুড়ে যাওয়া শত শত রোহিঙ্গা গ্রাম দেখা যাচ্ছে। এসব গ্রাম থেকে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এই শরণার্থীদের অর্ধেকের বেশি শিশু।

অন্যদিকে, বক্তৃতার ফুলঝুরি ছুটছে, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন প্রধান গলা ফাটিয়ে নিন্দা করছেন। ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কের নেতাদের কাছ থেকে নিন্দাবাদ করা হয়েছে। অন্যদিকে, গণতন্ত্রের ব্যানারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বর্মি জান্তা এসব নিন্দাবাদে কান দিচ্ছে না। কারণ, কেউ তাদেরকে বলছে না যে তাদের নেতাদের জাবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করার জন্য তাদেরকে হেগে’র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মুখোমুখি হতে হবে। সেখানে অপরাধ প্রমাণ হলে যাবজ্জীবন নিশ্চিত।  সার্বিয়ার স্লোবোদান মিলোসেভিচ ও রাটকো ম্লাদিচের ভাগ্যের কথা কেউ মিয়ানমার জান্তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক আইনে যেখানে বিশ্বজনিন বিচার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে সেখানে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কিভাবে তার অপকর্মের জন্য নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পাচ্ছে? দেশটির ওপর কয়েক দশক যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বজায় ছিলো। কিন্তু প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১৬ সালের অক্টোবর তা তুলে নেন। এরপর থেকে দেশটির বিরুদ্ধে আর নতুন কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্ররা অবশ্য রাশিয়া, ইরান, সিরিয়া, ভেনিজুয়েলার মতো দেশগুলোর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বেশি আগ্রহী। মিয়ানমার নেত্রী অং সাং সুচি’কে যে কারণে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছিলো তার সঙ্গে তিনি বিশ^াসঘাতকতা করেছেন বলে অভিযোগে পুরস্কার বাতিলের দাবি উঠেছে। একে মিয়ানমারের লজ্জাজনক কাজের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র আকারের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা আখ্যায়িত করা যায়।

২০০৫ সালে জাতিসংঘের সকল ১৯১ সদস্য ‘রেসপনসিবিলিটি টু প্রটেক্ট’ (আর২পি) নীতি অনুমোদন করেন। এই দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে একটি দেশ তার নিজ নাগরিকদের রক্ষা করবে অথবা তার সার্বভৌমত্ব  বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে। গণহত্যা বিষয়ে ১৯৪৮ সালের জেনেভা কনভেনশনের ভিত্তিতে তৈরি এই নীতিতে বলা হয়েছে, সকল রাষ্ট্র গণহত্যা, জাতিগত শুদ্ধি অভিযান, ও ব্যাপক-আকারে নৃশংসতা প্রতিরোধ, বন্ধ ও শাস্তি দিবে।  যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ‘আর২পি’ পাস করে লিবিয়ায় অভিযান চালিয়ে মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে হত্যা ও তার সরকারকে উৎখাত করে। গাদ্দাফি বেনগাজির বিদ্রোহীদের নির্মূলের হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়। মিয়ানমারে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ তারচেয়েও বেশি গুরুতর; এখানে কোন হুমকি দেয়া হয়নি, সরাসরি নির্মূল অভিযান চালানো হচ্ছে, অনেক বড় আকারে।

‘দ্যা প্রব্লেম ফ্রম হেল’ বইয়ে সামান্থা পাওয়ার উল্লেখ করেছেন যে একের পর এক গণহত্যা – কম্বোডিয়া, ইরাক, বসনিয়া, রুয়ান্ডা – বিশ্বশক্তি কিছু করতে পারেনি। কোন গণহত্যা শুরু হওয়ার আগে জাতিসংঘ ও বিশ্বশক্তিগুলো অনেক সময় পায় তা প্রতিরোধ করার জন্য। কোন দেশ যখন তার নাগরিকদের রক্ষা করে না তখন তাদের রক্ষা করতে জাতিসংঘ সেনা রয়েছে, বিশেষ করে এ ধরনের মিশনের জন্য যারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাদের জন্য বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়। এরা আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে পারে। দেশটিকে জাতিসংঘ হুমকি দিয়ে বলতে পারে যে আর কোন সেব্রেনিসা সহ্য করা হবে না।  কিন্তু মিয়ানমারের ক্ষেত্রে এর কিছুই করা হয়নি।

কেউ কেউ সন্দেহ করেন যে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অর্থবহ কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা থেকে সীমিত সেনা অভিযান চালানোর হুমকি কিছু দেয়া হবে না। কারণ, দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন চীনকে ঠেকানোর কৌশল হিসেবে। আরো ব্যাপক অর্থে এটা হলো চীনের সীমান্তবর্তী দেশগুলো সঙ্গে সামরিক মিত্রতা গড়ে তোলা। যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনামে এ কাজটি করেছিলো। এটা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামা মিয়ানমার সফর করেন। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ওপর নিজের প্রভাব বজায় রাখতে চীনও সচেষ্ট।

এসব ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনাগুলো তাদের জায়গায় থাক। কিন্তু, মিয়ানমারের মতো একটি দেশের সেনাবাহিনী যখন বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন ওই ভূরাজনীতি এক পাশে সরিয়ে রাখা উচিত। তা নাহলে, মানবাধিকার নিয়ে এসব উচ্চস্বরের বক্তব্য ফাঁকা বুলিতে পরিণত হবে। বিশ্বের নেতাদের ওই একই প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হবে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের যখন কচুকাটা করা হচ্ছিলো তখন আপনারা কি করেছেন? আপনারা রুয়ান্ডায় গণহত্যা ঘটতে দিয়েছেন, সেব্রেনিসা দাঁড়িয়ে থেকে দেখেছেন; আপনাদের কথার কি দাম আছে। আপনাদের জন্য লজ্জা, আমাদের জন্যও লজ্জা।