ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব: জামায়াত আমির ঢাকা মেডিকেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবে : ডা. জুবাইদা রহমান অপতথ্যের বড় লক্ষ্যবস্তু বিএনপি-তারেক রহমান ‘২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া’— দাবিটি বিভ্রান্তিকর এক ঘণ্টায় হাজারো রুটি, কেরানীগঞ্জ কারাগারে অত্যাধুনিক মেশিনের চমক এআই নিয়ে গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী চার বছর পর মুখ খুললেন পরীমণি, জানালেন বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল

চলনবিলে অবাধে পাখি নিধন

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ চলনবিলে শিকারিদের ফাঁদে ধরা পড়ছে পরিযায়ী পাখিসহ দেশীয় নানা প্রজাতির পাখি। এসব পাখি ফেরি করে বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় হাট-বাজারে। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। পাখি নিধনে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।

চলনবিল এলাকায় বন্যার পানি নামতে শুরু করায় খাল, বিল, নালা ও জলাশয়গুলোতে কমছে পানি। জেগে উঠছে খেত। পাওয়া যাচ্ছে ছোটবড় মাছ।এসব মাছ ও ধান খাওয়ার লোভেই নানা প্রজাতির পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে চলনবিলে। কিন্তু বিষটোপ, জাল ও ফাঁদ পেতে নির্বিচারে পাখি শিকার করতে দেখা যাচ্ছে।

নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া, বড়াইগ্রাম, পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর সিরাজগঞ্জের তাড়াশ-রায়গঞ্জ ও নঁওগার আত্রাই উপজেলাকে নিয়ে গঠিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এই চলনবিল। একসময় মাছে সমৃদ্ধ ছিল চলনবিল। তখন থেকেই দেশি ও পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল গড়ে ওঠে এই চলনবিলে। মাছের লোভে শীতের শুরুতে থেকে তীরশুল, মানিকজোড়, সারস, চইহাঁস, বাটুলিয়া, বালিহাঁস, পাখি আসত এই চলনবিলে।

এলাকার প্রবীণ শিক্ষক আবুল কাশেম বলেন, আশির দশক পর্যন্ত মাছ আর পাখির অভয়াশ্রম ছিল চলনবিল। খাদ্যের সন্ধানে পাখির আনাগোনা ছিল লক্ষণীয়। এখন তা অতীত। কারণ অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও বাড়ি নির্মাণের কারণে আগের মতো নেই চলনবিল। কমেছে মাছের উৎপাদন ও পাখির আনাগোনা। এক শ্রেণির লোভী মানুষ চলনবিল থেকে নানা পন্থায় পাখি শিকার করে স্থানীয় হাট-বাজারে ফেরি করে বিক্রি করছেন। রাতের শেষ প্রহর থেকে ভোর পর্যন্ত তারা এসব পাখি শিকার করে থাকেন।

চাঁচকৈড় বাজারের কয়েকজন পাখি বিক্রেতা বলেন, চলনবিলের সব উপজেলায়ই পাখি শিকারি রয়েছেন। সবাই হাটে ফেরি করে বিক্রি করেন না। দেশের বিভিন্ন মোকামে তারা বিক্রি করেন বেশি দামে। প্রতিটি বক ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা, বালিহাঁস ৫০০ টাকা ৬০০ টাকা এবং চাকলা পাখি প্রতি হালি বিক্রি করছেন ৩২০ টাকা ৪০০ টাকায়। তবে পরিযায়ী পাখি ওজন আকৃতি ভেদে দেড় হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, পাখি শিকার জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর। পাখি যাতে হাট-বাজারে বিক্রি না হয়, এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, পাখি বা পরিযায়ী পাখি হত্যা অপরাধ। এ অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

চলনবিলে অবাধে পাখি নিধন

আপডেট টাইম : ০১:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০১৭

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ চলনবিলে শিকারিদের ফাঁদে ধরা পড়ছে পরিযায়ী পাখিসহ দেশীয় নানা প্রজাতির পাখি। এসব পাখি ফেরি করে বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় হাট-বাজারে। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। পাখি নিধনে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।

চলনবিল এলাকায় বন্যার পানি নামতে শুরু করায় খাল, বিল, নালা ও জলাশয়গুলোতে কমছে পানি। জেগে উঠছে খেত। পাওয়া যাচ্ছে ছোটবড় মাছ।এসব মাছ ও ধান খাওয়ার লোভেই নানা প্রজাতির পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে চলনবিলে। কিন্তু বিষটোপ, জাল ও ফাঁদ পেতে নির্বিচারে পাখি শিকার করতে দেখা যাচ্ছে।

নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া, বড়াইগ্রাম, পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর সিরাজগঞ্জের তাড়াশ-রায়গঞ্জ ও নঁওগার আত্রাই উপজেলাকে নিয়ে গঠিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এই চলনবিল। একসময় মাছে সমৃদ্ধ ছিল চলনবিল। তখন থেকেই দেশি ও পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল গড়ে ওঠে এই চলনবিলে। মাছের লোভে শীতের শুরুতে থেকে তীরশুল, মানিকজোড়, সারস, চইহাঁস, বাটুলিয়া, বালিহাঁস, পাখি আসত এই চলনবিলে।

এলাকার প্রবীণ শিক্ষক আবুল কাশেম বলেন, আশির দশক পর্যন্ত মাছ আর পাখির অভয়াশ্রম ছিল চলনবিল। খাদ্যের সন্ধানে পাখির আনাগোনা ছিল লক্ষণীয়। এখন তা অতীত। কারণ অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও বাড়ি নির্মাণের কারণে আগের মতো নেই চলনবিল। কমেছে মাছের উৎপাদন ও পাখির আনাগোনা। এক শ্রেণির লোভী মানুষ চলনবিল থেকে নানা পন্থায় পাখি শিকার করে স্থানীয় হাট-বাজারে ফেরি করে বিক্রি করছেন। রাতের শেষ প্রহর থেকে ভোর পর্যন্ত তারা এসব পাখি শিকার করে থাকেন।

চাঁচকৈড় বাজারের কয়েকজন পাখি বিক্রেতা বলেন, চলনবিলের সব উপজেলায়ই পাখি শিকারি রয়েছেন। সবাই হাটে ফেরি করে বিক্রি করেন না। দেশের বিভিন্ন মোকামে তারা বিক্রি করেন বেশি দামে। প্রতিটি বক ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা, বালিহাঁস ৫০০ টাকা ৬০০ টাকা এবং চাকলা পাখি প্রতি হালি বিক্রি করছেন ৩২০ টাকা ৪০০ টাকায়। তবে পরিযায়ী পাখি ওজন আকৃতি ভেদে দেড় হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, পাখি শিকার জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর। পাখি যাতে হাট-বাজারে বিক্রি না হয়, এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, পাখি বা পরিযায়ী পাখি হত্যা অপরাধ। এ অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে।