ঢাকা , বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী

মাওলানা সাদ সংকটে আছে ২ শীর্ষ আলেমের পরামর্শ

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে ১০ জানুয়ারি দুপুরে বাংলাদেশে এসেছেন দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মুরব্বী মাওলানা সাদ কান্ধলভী। এবারের বিশ্ব ইজতেমায় তাঁর অংশগ্রহণের ব্যাপারে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যতম আলেমদের আপত্তি রয়েছে। ইজতেমা না আসার ব্যাপারে তাঁকে বারণ করা হয়েছে।

তিনি ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবেন কিনা বা ইজতেমা আদৌ আংশগ্রহণ করতে পারবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের তাবলিগের প্রধান মারকাজ কাকরাইলে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় অবস্থান করছেন।বাংলাদেশের প্রখ্যাত ২ আলেম মাওলানা সাদ কান্ধলভীর করণীয় সম্পর্কে কিছু প্রস্তাব ও গুরুত্বপূর্ণ নসিহত পেশ করেছেন। তাদের একজন হলেন আল্লামা মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ এবং শাইখুল হাদিস আল্লামা ড. মাওলানা মুশতাক আহমদ।

আল্লামা মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ তাঁর প্রস্তাব উপস্থাপন করে বলেন-

>> বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমানের দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সরকার মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে কাকরাইল মসজিদ থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় শান্তির লক্ষ্যে ভারতে ফেরত পাঠানোই শ্রেয়।

>> শান্তি ও সমাধানের লক্ষ্যে সরকারী উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় কাকরাইলের শুরা, উপদেষ্টা ও দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামার সমন্বয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের ব্যবস্থা করা। এ বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেম ও মুরুব্বিদের মাধ্যমে এবারের বিশ্ব ইজতেমাকে সুন্দরভাবে সফল করার যাবতীয় ব্যবস্থা ও প্রদক্ষেপ গ্রহণ করাও জরুরি।

>> বিশ্ব ইজতেমার সুন্দর পরিবেশকে নষ্ট করার লক্ষ্যে যাত্রবাড়ীর ২১ সদস্যের বৈঠকের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার পক্ষে যারা গোপনে পায়তারায় লিপ্ত হয়েছেন; তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে তাবলিগ জামাতের ঐতিহ্য, সম্মান অক্ষুণ্য রাখা।

আলেম-ওলামা ও কাকরাইলে শুরার যৌথ বৈঠকের বিরোধিতাকারী কোনো সদস্য যদি শুরার সদস্য প্রমাণিত হয়, তবে তাকেরদে স্বসম্মানে কাকরাইল মারকাজ থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাবলিগকে ফিতনা মুক্ত করা।

>> মাওলানা সাদের প্রতি অনুরোধ, আপনার মতো ব্যক্তির জন্য শীর্ষ আলেমদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাবলিগের মুরব্বি হওয়ার স্বপ্ন দেখা মোটেই সমিচীন হবে না। কারণ আপনার এ স্বপ্ন হজরত ইলিয়াস রহ. এর তাবলিগ-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতি নয়। বরং আপনার এ পদক্ষেপ ইসলাম ধ্বংশের তাবলিগে পরিণত হবে।

সুতরাং আপনি বাংলাদেশের আলেম সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে স্বসম্মানে আপনার অবস্থানে ফিরে যান। দেওবন্দের সাথে সংকট সমাধাণ করুন। আপনার উস্তাদদের সাথে মতানৈক্য দূর করুন। দাওয়াত ও তাবলীগকে তার আসলরূপে ফিরিয়ে দেন। তাহলেই আলেম-ওলামাসহ সবার পক্ষ থেকে আপনার জন্য অপেক্ষা করবে আগামী দিনের লাল-গালিচা সংবর্ধনা। ইনশাআল্লাহ।

ডা. মুশতাক আহমেদ হৃদয়ের গভীর থেকে মাওলানা সাদের প্রতি এক উদাত্ত্ব আহ্বান জানিয়েছেন। যা হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তিনি বলেন-

(হে) প্রিয় ভাই সাদ! আপনি হাসিমুখে (নিজামুদ্দিন মারকাজে) ফিরে যান; আপনার ফিরে যাওয়াই আপনাকে সিংহাসনে ডেকে আনবে।

তিনি বলেন, ‘লেবু বেশি টিপলে তিতা হয়ে যায়। হক বা না হকের মাসআলা নয়। ঘরোয়া বিষয়ে কখনো হার্ড লাইনে যাওয়াকে মনোবিজ্ঞানীরাও ঠিক মনে করেন না।

আপনি ঘোষণা দিয়ে হেরে যান। সবাইকে জোরে একটা থ্যাংকস জানিয়ে হাসিমুখে ফিরে যান। বিমানবন্দর থেকে এভাবে একটি বাণী দিয়ে যান-

‘বাঙ্গালী ওলামা আমার। আর আমি তাঁদের শরীরেরই অংশ। বহুকাল পর্যন্ত এ বিজয় আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য অব্যাহত থাকবে।’

আর ফিরে না গেলে হ্যাঁ, পেশী শক্তির বরকতে আপনি জিতবেন। তবে বহু কালের জন্য আপনি ও আপনার আওলাদরা হেরে যাবেন। কোনো ওয়াসিফরা আর আপনাকে বিশ্ব সম্মানের এই চেয়ারে বসাতে পারবে না। আপনারাও বসতে সক্ষম হবেন না।

মনে রাখতে হবে
আল্লার হাবিব হুদাইবিয়ার সন্ধি করে ফিরে গিয়েছিলেন। পেশী শক্তি ব্যবহার করেননি। আল্লাহ এটাকে ফতহে মুবিন বা সুস্পষ্ট বিজয়’ বলে আখ্যা দিয়েছন।

আপনিও দুই বছর অপেক্ষা করুন। সিংহাসন আপনাকে ডেকে আনবে। দুরাকাত সালাতুল হাজত পড়ুন। আর পীর-মুরীদীকে হেয় চোখে দেখবেন না।

উল্লেখিত বরেণ্য ব্যক্তিদের আহ্বান ও পরামর্শ বাস্তবায়নেই বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি আসতে পারে। আগামীকাল ১২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে তাবলিগ জামাতের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপ। ৪ দিন বিরতি দিয়ে আগামী ১৯ জানুয়ারি হবে দ্বিতীয় ও সমাপনি ধাপ শুরু হয়ে ২১ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

মাওলানা সাদ সংকটে আছে ২ শীর্ষ আলেমের পরামর্শ

আপডেট টাইম : ০১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৮

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে ১০ জানুয়ারি দুপুরে বাংলাদেশে এসেছেন দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মুরব্বী মাওলানা সাদ কান্ধলভী। এবারের বিশ্ব ইজতেমায় তাঁর অংশগ্রহণের ব্যাপারে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যতম আলেমদের আপত্তি রয়েছে। ইজতেমা না আসার ব্যাপারে তাঁকে বারণ করা হয়েছে।

তিনি ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবেন কিনা বা ইজতেমা আদৌ আংশগ্রহণ করতে পারবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের তাবলিগের প্রধান মারকাজ কাকরাইলে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় অবস্থান করছেন।বাংলাদেশের প্রখ্যাত ২ আলেম মাওলানা সাদ কান্ধলভীর করণীয় সম্পর্কে কিছু প্রস্তাব ও গুরুত্বপূর্ণ নসিহত পেশ করেছেন। তাদের একজন হলেন আল্লামা মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ এবং শাইখুল হাদিস আল্লামা ড. মাওলানা মুশতাক আহমদ।

আল্লামা মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ তাঁর প্রস্তাব উপস্থাপন করে বলেন-

>> বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমানের দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সরকার মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে কাকরাইল মসজিদ থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় শান্তির লক্ষ্যে ভারতে ফেরত পাঠানোই শ্রেয়।

>> শান্তি ও সমাধানের লক্ষ্যে সরকারী উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় কাকরাইলের শুরা, উপদেষ্টা ও দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামার সমন্বয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের ব্যবস্থা করা। এ বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেম ও মুরুব্বিদের মাধ্যমে এবারের বিশ্ব ইজতেমাকে সুন্দরভাবে সফল করার যাবতীয় ব্যবস্থা ও প্রদক্ষেপ গ্রহণ করাও জরুরি।

>> বিশ্ব ইজতেমার সুন্দর পরিবেশকে নষ্ট করার লক্ষ্যে যাত্রবাড়ীর ২১ সদস্যের বৈঠকের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার পক্ষে যারা গোপনে পায়তারায় লিপ্ত হয়েছেন; তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে তাবলিগ জামাতের ঐতিহ্য, সম্মান অক্ষুণ্য রাখা।

আলেম-ওলামা ও কাকরাইলে শুরার যৌথ বৈঠকের বিরোধিতাকারী কোনো সদস্য যদি শুরার সদস্য প্রমাণিত হয়, তবে তাকেরদে স্বসম্মানে কাকরাইল মারকাজ থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাবলিগকে ফিতনা মুক্ত করা।

>> মাওলানা সাদের প্রতি অনুরোধ, আপনার মতো ব্যক্তির জন্য শীর্ষ আলেমদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাবলিগের মুরব্বি হওয়ার স্বপ্ন দেখা মোটেই সমিচীন হবে না। কারণ আপনার এ স্বপ্ন হজরত ইলিয়াস রহ. এর তাবলিগ-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতি নয়। বরং আপনার এ পদক্ষেপ ইসলাম ধ্বংশের তাবলিগে পরিণত হবে।

সুতরাং আপনি বাংলাদেশের আলেম সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে স্বসম্মানে আপনার অবস্থানে ফিরে যান। দেওবন্দের সাথে সংকট সমাধাণ করুন। আপনার উস্তাদদের সাথে মতানৈক্য দূর করুন। দাওয়াত ও তাবলীগকে তার আসলরূপে ফিরিয়ে দেন। তাহলেই আলেম-ওলামাসহ সবার পক্ষ থেকে আপনার জন্য অপেক্ষা করবে আগামী দিনের লাল-গালিচা সংবর্ধনা। ইনশাআল্লাহ।

ডা. মুশতাক আহমেদ হৃদয়ের গভীর থেকে মাওলানা সাদের প্রতি এক উদাত্ত্ব আহ্বান জানিয়েছেন। যা হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তিনি বলেন-

(হে) প্রিয় ভাই সাদ! আপনি হাসিমুখে (নিজামুদ্দিন মারকাজে) ফিরে যান; আপনার ফিরে যাওয়াই আপনাকে সিংহাসনে ডেকে আনবে।

তিনি বলেন, ‘লেবু বেশি টিপলে তিতা হয়ে যায়। হক বা না হকের মাসআলা নয়। ঘরোয়া বিষয়ে কখনো হার্ড লাইনে যাওয়াকে মনোবিজ্ঞানীরাও ঠিক মনে করেন না।

আপনি ঘোষণা দিয়ে হেরে যান। সবাইকে জোরে একটা থ্যাংকস জানিয়ে হাসিমুখে ফিরে যান। বিমানবন্দর থেকে এভাবে একটি বাণী দিয়ে যান-

‘বাঙ্গালী ওলামা আমার। আর আমি তাঁদের শরীরেরই অংশ। বহুকাল পর্যন্ত এ বিজয় আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য অব্যাহত থাকবে।’

আর ফিরে না গেলে হ্যাঁ, পেশী শক্তির বরকতে আপনি জিতবেন। তবে বহু কালের জন্য আপনি ও আপনার আওলাদরা হেরে যাবেন। কোনো ওয়াসিফরা আর আপনাকে বিশ্ব সম্মানের এই চেয়ারে বসাতে পারবে না। আপনারাও বসতে সক্ষম হবেন না।

মনে রাখতে হবে
আল্লার হাবিব হুদাইবিয়ার সন্ধি করে ফিরে গিয়েছিলেন। পেশী শক্তি ব্যবহার করেননি। আল্লাহ এটাকে ফতহে মুবিন বা সুস্পষ্ট বিজয়’ বলে আখ্যা দিয়েছন।

আপনিও দুই বছর অপেক্ষা করুন। সিংহাসন আপনাকে ডেকে আনবে। দুরাকাত সালাতুল হাজত পড়ুন। আর পীর-মুরীদীকে হেয় চোখে দেখবেন না।

উল্লেখিত বরেণ্য ব্যক্তিদের আহ্বান ও পরামর্শ বাস্তবায়নেই বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি আসতে পারে। আগামীকাল ১২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে তাবলিগ জামাতের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপ। ৪ দিন বিরতি দিয়ে আগামী ১৯ জানুয়ারি হবে দ্বিতীয় ও সমাপনি ধাপ শুরু হয়ে ২১ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।