ঢাকা , শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাঁধে স্কুল ব্যাগের বদলে সংসারের বোঝা শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা শেষে কর্মক্ষম হতে পারে, এমন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়তে হবে: মাহদী আমিন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফরহাদের স্ত্রী ৩ দিনের রিমান্ডে নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার নারীরা কি গাড়ি চালাতে পারবেন, ইসলাম কী বলে এখানে গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রিত, কর্তার ইচ্ছাই কর্ম হবে: অলি আহমদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য দিল্লি­ অপেক্ষা করছে: দীনেশ ত্রিবেদী মির্জা ফখরুল আগাগোড়া একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব: অর্থমন্ত্রী নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী সৌদির আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের হাফেজ জাকারিয়া

তবু ফিরে পেলেন না মেয়েকে

জন্মের পরপর অপহৃত হওয়া শিশুটি এখন ১৯ বছরের তরুণী। বড় হয়েছেন অপহরণকারী নারীর কাছেই। এত দিন তাকেই মা বলে জেনে এসেছেন জেফানি নার্স (ছদ্মনাম)। অপহরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি ওই নারীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার একটি আদালত।

এখন প্রকৃত মা-বাবার কাছে ফিরে যাওয়ার কথা জেফানির। কিন্তু এই তরুণী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি ফিরে যাবেন না তার প্রকৃত মা-বাবার কাছে। এত দিন যাদের বাবা-মা জেনে এসেছেন তাদের কাছে থাকবেন তিনি। খবর বিবিসির।

বিবিসি জানায়, অপহৃত মেয়েটির প্রকৃত বাবা-মা হলেন সিলেস্ট ও মর্নে নার্স। তবে অভিযুক্ত নারী ও জেফানির প্রকৃত নাম প্রকাশ করা হয়নি।

জেফানির পরিচয় উদ্ঘাটন হওয়ার বিষয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুলে জেফানি নার্স ও অন্য একটি শিশুর মধ্যে দারুণ সাদৃশ্য দেখতে পায় সেখানকার লোকজন। পরে পুলিশ ওই দুই শিক্ষার্থীর ডিএনএ পরীক্ষা করে। তাতে বেরিয়ে আসে যে তারা আপন বোন। জেফানিকে যিনি অপহরণ করেন, ৫১ বছর বয়সী ওই নারীকে ২০১৫ সালে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আদালতের বিচারক ওই নারীর উদ্দেশে বলেন, জেফানির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তিনি। অপহরণের দায়ে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

স্থানীয় গণমাধ্যম এর আগে সংবাদ প্রকাশ করেছিল, অপহরণকারী ওই নারীকে মা মনে করেন জেফানি। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, অপহরণকারীর স্বামী যাকে তিনি বাবা বলে ডাকেন, তার পরিবারেই থাকবেন। প্রকৃত মা-বাবার কাছে ফিরে যেতে চান না তিনি।

আদালতের বাইরে জেফানির প্রকৃত দাদি মেরিলিন জানান, জেফানির কথায় তিনি খুশি হতে পারেননি। তবে তিনি আশাবাদী, এখন জেফানির সঙ্গে একটি বন্ধন তৈরির সুযোগ পাবে তার বাবা-মা এবং তাতে একটি সম্পর্ক গড়ে উঠবে তাদের মধ্যে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই মামলায় আসলে কেউ জয়ী হননি। জেফানি যাকে মা বলে ডাকেন তিনি চলে গেলেন কারাগারে। এই নারীর স্বামী বিচ্ছিন্ন হলেন স্ত্রী থেকে। আর জেফানির প্রকৃত মা-বাবা ফিরে পেলেন না তাদের মেয়েকে।

জেফানি নার্স ১৯৯৭ সালের ২৭ এপ্রিল দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী কেপ টাউনের একটি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের তিন দিন পর ওই হাসপাতাল থেকে তাকে অপহরণ করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঁধে স্কুল ব্যাগের বদলে সংসারের বোঝা

তবু ফিরে পেলেন না মেয়েকে

আপডেট টাইম : ০৬:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৬

জন্মের পরপর অপহৃত হওয়া শিশুটি এখন ১৯ বছরের তরুণী। বড় হয়েছেন অপহরণকারী নারীর কাছেই। এত দিন তাকেই মা বলে জেনে এসেছেন জেফানি নার্স (ছদ্মনাম)। অপহরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি ওই নারীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার একটি আদালত।

এখন প্রকৃত মা-বাবার কাছে ফিরে যাওয়ার কথা জেফানির। কিন্তু এই তরুণী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি ফিরে যাবেন না তার প্রকৃত মা-বাবার কাছে। এত দিন যাদের বাবা-মা জেনে এসেছেন তাদের কাছে থাকবেন তিনি। খবর বিবিসির।

বিবিসি জানায়, অপহৃত মেয়েটির প্রকৃত বাবা-মা হলেন সিলেস্ট ও মর্নে নার্স। তবে অভিযুক্ত নারী ও জেফানির প্রকৃত নাম প্রকাশ করা হয়নি।

জেফানির পরিচয় উদ্ঘাটন হওয়ার বিষয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুলে জেফানি নার্স ও অন্য একটি শিশুর মধ্যে দারুণ সাদৃশ্য দেখতে পায় সেখানকার লোকজন। পরে পুলিশ ওই দুই শিক্ষার্থীর ডিএনএ পরীক্ষা করে। তাতে বেরিয়ে আসে যে তারা আপন বোন। জেফানিকে যিনি অপহরণ করেন, ৫১ বছর বয়সী ওই নারীকে ২০১৫ সালে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আদালতের বিচারক ওই নারীর উদ্দেশে বলেন, জেফানির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তিনি। অপহরণের দায়ে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

স্থানীয় গণমাধ্যম এর আগে সংবাদ প্রকাশ করেছিল, অপহরণকারী ওই নারীকে মা মনে করেন জেফানি। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, অপহরণকারীর স্বামী যাকে তিনি বাবা বলে ডাকেন, তার পরিবারেই থাকবেন। প্রকৃত মা-বাবার কাছে ফিরে যেতে চান না তিনি।

আদালতের বাইরে জেফানির প্রকৃত দাদি মেরিলিন জানান, জেফানির কথায় তিনি খুশি হতে পারেননি। তবে তিনি আশাবাদী, এখন জেফানির সঙ্গে একটি বন্ধন তৈরির সুযোগ পাবে তার বাবা-মা এবং তাতে একটি সম্পর্ক গড়ে উঠবে তাদের মধ্যে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই মামলায় আসলে কেউ জয়ী হননি। জেফানি যাকে মা বলে ডাকেন তিনি চলে গেলেন কারাগারে। এই নারীর স্বামী বিচ্ছিন্ন হলেন স্ত্রী থেকে। আর জেফানির প্রকৃত মা-বাবা ফিরে পেলেন না তাদের মেয়েকে।

জেফানি নার্স ১৯৯৭ সালের ২৭ এপ্রিল দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী কেপ টাউনের একটি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের তিন দিন পর ওই হাসপাতাল থেকে তাকে অপহরণ করা হয়।