ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

একাত্তরের মতো একটা জাতীয় ঐক্য চাই

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী দলগুলো নিয়ে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ নামে নতুন যে জোট হয়েছে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী। তিনি এই জোটে না যাওয়ার কারণ হিসেবে বলেছেন, তিনি চান আরও বৃহত্তর ঐক্য। সেই ঐক্যে তিনি সরকারি দল আওয়ামী লীগকেও চান। একাত্তর সালে দেশে যে ঐতিহাসিক ঐক্য হয়েছিল সেই ঐক্য প্রত্যাশা করছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক। বুধবার রাতে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের নিয়মিত টক শো ‘আজকের বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। খালিদ মহিউদ্দিনের উপস্থাপনায় তার সঙ্গে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ আরাফাত। বাসা থেকে লাইভে যোগ দেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইব্রাহীম।

‘আপনি সব সময় বলতেন দেশে একটি জাতীয় ঐক্য হওয়া দরকার। সেই জাতীয় ঐক্য হচ্ছে বা হয়েছে তাতে আপনি থাকলেন না, তার কারণ কী আমাদের বলবেন? না কি অন্য কোনো ঐক্যের কথা ভাবছেন?

সঞ্চালকের এমন প্রশ্নে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আপনি যে প্রশ্নটা করেছেন, এটা যথার্থ করেছেন। আমি এর সূচনাতে ছিলাম, বলতে পারেন এখনও আছি। আমি কিন্তু একটা অর্থবহ জাতীয় ঐক্য চাই। আমি একাত্তরের মতো দেশে একটা ঐতিহাসিক ঐক্য চাই, যে ঐক্যের মাধ্যমে আমাদের দেশে মানবিক মূল্যবোধগুলোর অবক্ষয় ঘটছে, সেখান থেকে আমরা যাতে ফিরে আসতে পারি। তাই আমি অন্য কোথাও যাচ্ছি কি না, এটা ভাবার এখনও কোনো কারণ নেই।’

কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি গোপনে কোনো কাজ এ পর্যন্ত করিনি। আর ক’দিন বাঁচব ঠিক জানি না। দেশের মানুষকে আঘাত দিয়ে কোনো গোপন কাজ করতে পারব না।’

‘একাত্তর সালে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে, এখন যেটা যাচ্ছেন সেটা কি কারো বিরুদ্ধে’- সঞ্চালকের এমন প্রশ্নে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘না, না না না। আমি তো আমার বিরুদ্ধেই একতা চাচ্ছি। আমরা যে নিজের দায়িত্ববোধ হারিয়ে ফেলেছি, একে-অন্যকে সম্মান করতে পারি না, ধীরে ধীরে সবই একটা লাগামহীন অবস্থা হয়েছে, সেখান থেকে উত্তরণের জন্যই আমি জাতীয় ঐক্য চাই।’

এখন যে ঐক্যটি হয়েছে, সেটিকে আপনি সে রকম মনে করছেন না? এমন প্রশ্নে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘না, আমি সেটাকে পরিপূর্ণ মনে করছি না। কিন্তু আমি এ ঐক্যকে সাধুবাদ জানাই। বর্তমান সরকার বা সরকারি দল যেভাবে সবকিছুকে হালকা কথা দিয়ে, ছোটখাট কথা দিয়ে ছোট করতে চায়, আমার কাছে এটা খুব ভালো মনে হয় না।’

কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মতো বাক্য উচ্চারণ করুক, কথা বলুক। দেশের একজন মন্ত্রী, একটা মস্তবড় দল, এ দলের সাধারণ সম্পাদক তিনিও দায়িত্ব নিয়ে কথা বলবেন। এত হালকাভাবে বলার কোনো কারণ নেই। জাতীয় ঐক্যের তো অবশ্যই প্রয়োজন। অবশ্যই আমি ক্ষমতাসীনদেরও জাতীয় ঐক্যে চাই, অবশ্যই।’

টকশোতে বাসা থেকে লাইভে যোগ দেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইব্রাহিম। সঞ্চালক বলেন, যে ঐক্য হয়েছে বিএনপির সাথে তাতে আপনি কতটা খুশি, বা কতটা নাখোশ- এমন প্রশ্নে ইব্রাহিম বলেন, ‘আমাদের সমাজে নৈতিকতার যে অধঃপতন এবং ধস নেমেছে, তার সাথে যদি যোগ করি নীতিহীনতা, স্বচ্ছতা বা দেশপ্রেম। সার্বিক ধস নেমেছে, এটা একদিনে হয়নি। একদিনে নয়, দশ বছরে নয়, বেশ কয়েক বছর ধরে। এটি পুনরুদ্ধার করা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপ্রেক্ষিতে। এর জন্য জাতীয় ঐক্য দরকার।’

ইব্রাহীম বলেন, ‘এই মুহূর্তে যে জাতীয় ঐক্যটি করা হয়েছে, এটা একান্তভাবেই একটি রাজনৈতিক ঐক্য। নাম জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। বিএনপি আমাদের প্রতিনিধিত্ব করুক।’

নৈতিকতা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে জাতীয় ঐক্যের কথা বলছিলেন, তাতে এই ঐক্যফ্রন্টে আপনার আশা পূরণ হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে ইব্রাহীম বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগকে এই মুহূর্তে এই ঐক্যফ্রন্টে কল্পনা করছি না। রাজনৈতিক যে ঐক্যটি হয়েছে, আওয়ামী লীগ এবং যারা ঐক্য করেছেন তারা উত্তর এবং দক্ষিণ মেরুর বাসিন্দা রাজনৈতিক অঙ্গনে। অতএব এটা আমি মনে করি এই মুহূর্তের জন্য বেশি চাওয়া।’

এই ঐক্যটিকে কীভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নে সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এই ঐক্যের যা হচ্ছে তাতে এটাকে ঐক্য না বলে আমি বলতে চাই এটা একটি রাজনৈতিক মেরুকরণ। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যেটা দুই দিন আগে হলো, তার সাথে এখানে ২০ দল থেকে বিএনপি এসেছে। মজার বিষয় ২০ দল থেকে আবার দুটো দল বের হয়ে গেছে। ঐক্যের প্রক্রিয়ার মধ্যে আবার ভাঙনও দেখা গেছে। আবার ঐক্যফ্রন্টে যুক্তফ্রন্ট পুরোটা আসেনি। দুজন এসেছেন যুক্তফ্রন্টের, আবার বিকল্পধারা থেকে গেছে।’

আরাফাত বলেন, ‘তাহলে আলটিমেটলি যেটি বলা হচ্ছিল আওয়ামী লীগ, ১৪ দল এবং জাতীয় পার্টি তাদের বাইরে বাকি সবাইকে নিয়ে একটা জাতীয় ঐক্য হবে। আওয়ামী লীগ, ১৪ দল জাতীয় পার্টি যারা এদিকে আছে তারাই মোটামুটি ৬০% মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করে। আপনি যদি ২০০৮ সালের নির্বাচন দেখেন, এর বাইরে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জরিপে যেটা দেখা যায়।’

‘বাকি যে জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে বিএনপি এবং অন্যান্য যারা আছে তারা সবাইকে একাট্টা করার চেষ্টা করেছেন বটে, কিন্তু সেটা হয়ে ওঠেনি। যে কারণে যারা যুক্তফ্রন্ট করলেন কিছুদিন আগে, করে তারাই যুক্তফ্রন্টে থাকতে পারলেন না। তারা আছেন কি না জানি না, তারা ঐক্য বদল করে ঐক্যফ্রন্টে গেলেন। এখানে বি চৌধুরী ছিলেন, এখন কামাল হোসেন আছেন, আর সাথে আছে বিএনপি।’

আরাফাত বলেন, ‘আবার ২০ দল থেকে বলা হচ্ছে, ২০ দলের প্রতিনিধিত্ব করছে বিএনপি এবং সেটাকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু বিএনপি বলছে- না, আমরা এককভাবে আছি, আমাদের সাথে ২০ দল নেই বা জামায়াত আমাদের সাথে আসেনি। যেহেতু ঐক্যফ্রন্টের অন্যান্য নেতা বলছেন আমরা জামায়াতের সাথে ঐক্য করব না। এটি একটি খুবই কনফিউশন, কনফিউস একটা সিচুয়েশনের মধ্যে আছে এখন পর্যন্ত। এটাকে আমি রাজনৈতিক মেরুকরণের এক ধরনের প্রক্রিয়ার বাহিরে ঐক্য, জাতীয় ঐক্যতো পরের কথা। ওই ধরনের কিছু এখন পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছি না।’

সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘যদি ধরেন এমন হতো যুক্তফ্রন্টের সবাই আসতো, বাকি সবাই মিলে একতাবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। তাহলে কারো মধ্যে কোনো সন্দেহ ছিল না। ২০ দলের মধ্যে সুনির্দিষ্ট একটি দল জামায়াতকে কেউ মানছে না। এই নিয়েও যদি কোনো সমস্যা না থাকত, তাহলে বলা যেত আওয়ামী লীগ, ১৪ দল এবং জাতীয় পার্টির বাইরে একটি ঐক্য হয়েছে। কিন্তু বড় জোটটাতো এদিকে আছেই, মহাজোট। তার বাইরে যারা তারা কিন্তু এখনও একতাবদ্ধ হতে পারেনি। এ জন্য আমি মনে করি এই প্রক্রিয়ার মধ্যে এখনও রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যে আছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

একাত্তরের মতো একটা জাতীয় ঐক্য চাই

আপডেট টাইম : ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী দলগুলো নিয়ে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ নামে নতুন যে জোট হয়েছে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী। তিনি এই জোটে না যাওয়ার কারণ হিসেবে বলেছেন, তিনি চান আরও বৃহত্তর ঐক্য। সেই ঐক্যে তিনি সরকারি দল আওয়ামী লীগকেও চান। একাত্তর সালে দেশে যে ঐতিহাসিক ঐক্য হয়েছিল সেই ঐক্য প্রত্যাশা করছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক। বুধবার রাতে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের নিয়মিত টক শো ‘আজকের বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। খালিদ মহিউদ্দিনের উপস্থাপনায় তার সঙ্গে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ আরাফাত। বাসা থেকে লাইভে যোগ দেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইব্রাহীম।

‘আপনি সব সময় বলতেন দেশে একটি জাতীয় ঐক্য হওয়া দরকার। সেই জাতীয় ঐক্য হচ্ছে বা হয়েছে তাতে আপনি থাকলেন না, তার কারণ কী আমাদের বলবেন? না কি অন্য কোনো ঐক্যের কথা ভাবছেন?

সঞ্চালকের এমন প্রশ্নে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আপনি যে প্রশ্নটা করেছেন, এটা যথার্থ করেছেন। আমি এর সূচনাতে ছিলাম, বলতে পারেন এখনও আছি। আমি কিন্তু একটা অর্থবহ জাতীয় ঐক্য চাই। আমি একাত্তরের মতো দেশে একটা ঐতিহাসিক ঐক্য চাই, যে ঐক্যের মাধ্যমে আমাদের দেশে মানবিক মূল্যবোধগুলোর অবক্ষয় ঘটছে, সেখান থেকে আমরা যাতে ফিরে আসতে পারি। তাই আমি অন্য কোথাও যাচ্ছি কি না, এটা ভাবার এখনও কোনো কারণ নেই।’

কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি গোপনে কোনো কাজ এ পর্যন্ত করিনি। আর ক’দিন বাঁচব ঠিক জানি না। দেশের মানুষকে আঘাত দিয়ে কোনো গোপন কাজ করতে পারব না।’

‘একাত্তর সালে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে, এখন যেটা যাচ্ছেন সেটা কি কারো বিরুদ্ধে’- সঞ্চালকের এমন প্রশ্নে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘না, না না না। আমি তো আমার বিরুদ্ধেই একতা চাচ্ছি। আমরা যে নিজের দায়িত্ববোধ হারিয়ে ফেলেছি, একে-অন্যকে সম্মান করতে পারি না, ধীরে ধীরে সবই একটা লাগামহীন অবস্থা হয়েছে, সেখান থেকে উত্তরণের জন্যই আমি জাতীয় ঐক্য চাই।’

এখন যে ঐক্যটি হয়েছে, সেটিকে আপনি সে রকম মনে করছেন না? এমন প্রশ্নে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘না, আমি সেটাকে পরিপূর্ণ মনে করছি না। কিন্তু আমি এ ঐক্যকে সাধুবাদ জানাই। বর্তমান সরকার বা সরকারি দল যেভাবে সবকিছুকে হালকা কথা দিয়ে, ছোটখাট কথা দিয়ে ছোট করতে চায়, আমার কাছে এটা খুব ভালো মনে হয় না।’

কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মতো বাক্য উচ্চারণ করুক, কথা বলুক। দেশের একজন মন্ত্রী, একটা মস্তবড় দল, এ দলের সাধারণ সম্পাদক তিনিও দায়িত্ব নিয়ে কথা বলবেন। এত হালকাভাবে বলার কোনো কারণ নেই। জাতীয় ঐক্যের তো অবশ্যই প্রয়োজন। অবশ্যই আমি ক্ষমতাসীনদেরও জাতীয় ঐক্যে চাই, অবশ্যই।’

টকশোতে বাসা থেকে লাইভে যোগ দেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইব্রাহিম। সঞ্চালক বলেন, যে ঐক্য হয়েছে বিএনপির সাথে তাতে আপনি কতটা খুশি, বা কতটা নাখোশ- এমন প্রশ্নে ইব্রাহিম বলেন, ‘আমাদের সমাজে নৈতিকতার যে অধঃপতন এবং ধস নেমেছে, তার সাথে যদি যোগ করি নীতিহীনতা, স্বচ্ছতা বা দেশপ্রেম। সার্বিক ধস নেমেছে, এটা একদিনে হয়নি। একদিনে নয়, দশ বছরে নয়, বেশ কয়েক বছর ধরে। এটি পুনরুদ্ধার করা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপ্রেক্ষিতে। এর জন্য জাতীয় ঐক্য দরকার।’

ইব্রাহীম বলেন, ‘এই মুহূর্তে যে জাতীয় ঐক্যটি করা হয়েছে, এটা একান্তভাবেই একটি রাজনৈতিক ঐক্য। নাম জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। বিএনপি আমাদের প্রতিনিধিত্ব করুক।’

নৈতিকতা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে জাতীয় ঐক্যের কথা বলছিলেন, তাতে এই ঐক্যফ্রন্টে আপনার আশা পূরণ হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে ইব্রাহীম বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগকে এই মুহূর্তে এই ঐক্যফ্রন্টে কল্পনা করছি না। রাজনৈতিক যে ঐক্যটি হয়েছে, আওয়ামী লীগ এবং যারা ঐক্য করেছেন তারা উত্তর এবং দক্ষিণ মেরুর বাসিন্দা রাজনৈতিক অঙ্গনে। অতএব এটা আমি মনে করি এই মুহূর্তের জন্য বেশি চাওয়া।’

এই ঐক্যটিকে কীভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নে সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এই ঐক্যের যা হচ্ছে তাতে এটাকে ঐক্য না বলে আমি বলতে চাই এটা একটি রাজনৈতিক মেরুকরণ। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যেটা দুই দিন আগে হলো, তার সাথে এখানে ২০ দল থেকে বিএনপি এসেছে। মজার বিষয় ২০ দল থেকে আবার দুটো দল বের হয়ে গেছে। ঐক্যের প্রক্রিয়ার মধ্যে আবার ভাঙনও দেখা গেছে। আবার ঐক্যফ্রন্টে যুক্তফ্রন্ট পুরোটা আসেনি। দুজন এসেছেন যুক্তফ্রন্টের, আবার বিকল্পধারা থেকে গেছে।’

আরাফাত বলেন, ‘তাহলে আলটিমেটলি যেটি বলা হচ্ছিল আওয়ামী লীগ, ১৪ দল এবং জাতীয় পার্টি তাদের বাইরে বাকি সবাইকে নিয়ে একটা জাতীয় ঐক্য হবে। আওয়ামী লীগ, ১৪ দল জাতীয় পার্টি যারা এদিকে আছে তারাই মোটামুটি ৬০% মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করে। আপনি যদি ২০০৮ সালের নির্বাচন দেখেন, এর বাইরে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জরিপে যেটা দেখা যায়।’

‘বাকি যে জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে বিএনপি এবং অন্যান্য যারা আছে তারা সবাইকে একাট্টা করার চেষ্টা করেছেন বটে, কিন্তু সেটা হয়ে ওঠেনি। যে কারণে যারা যুক্তফ্রন্ট করলেন কিছুদিন আগে, করে তারাই যুক্তফ্রন্টে থাকতে পারলেন না। তারা আছেন কি না জানি না, তারা ঐক্য বদল করে ঐক্যফ্রন্টে গেলেন। এখানে বি চৌধুরী ছিলেন, এখন কামাল হোসেন আছেন, আর সাথে আছে বিএনপি।’

আরাফাত বলেন, ‘আবার ২০ দল থেকে বলা হচ্ছে, ২০ দলের প্রতিনিধিত্ব করছে বিএনপি এবং সেটাকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু বিএনপি বলছে- না, আমরা এককভাবে আছি, আমাদের সাথে ২০ দল নেই বা জামায়াত আমাদের সাথে আসেনি। যেহেতু ঐক্যফ্রন্টের অন্যান্য নেতা বলছেন আমরা জামায়াতের সাথে ঐক্য করব না। এটি একটি খুবই কনফিউশন, কনফিউস একটা সিচুয়েশনের মধ্যে আছে এখন পর্যন্ত। এটাকে আমি রাজনৈতিক মেরুকরণের এক ধরনের প্রক্রিয়ার বাহিরে ঐক্য, জাতীয় ঐক্যতো পরের কথা। ওই ধরনের কিছু এখন পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছি না।’

সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘যদি ধরেন এমন হতো যুক্তফ্রন্টের সবাই আসতো, বাকি সবাই মিলে একতাবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। তাহলে কারো মধ্যে কোনো সন্দেহ ছিল না। ২০ দলের মধ্যে সুনির্দিষ্ট একটি দল জামায়াতকে কেউ মানছে না। এই নিয়েও যদি কোনো সমস্যা না থাকত, তাহলে বলা যেত আওয়ামী লীগ, ১৪ দল এবং জাতীয় পার্টির বাইরে একটি ঐক্য হয়েছে। কিন্তু বড় জোটটাতো এদিকে আছেই, মহাজোট। তার বাইরে যারা তারা কিন্তু এখনও একতাবদ্ধ হতে পারেনি। এ জন্য আমি মনে করি এই প্রক্রিয়ার মধ্যে এখনও রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যে আছে।