১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণ ও তার দুঃশাসন, দুর্বৃত্তায়ন, লাগামহীন দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয় বাংলাদেশ। হত্যা, গুম-খুন হয়ে দাঁড়ায় নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। চরম প্রশাসনকি ব্যর্থতা ও আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক দুর্নীতি, লুটপাটের কারণে ১৯৭৪ সালে সারা দেশে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং অনাহারে লাখ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি সংসদীয় এক ক্যু‘র মাধ্যমে গণতন্ত্রের কবর রচনা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা ‘বাকশাল’ কায়েম করেন। এতে সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়। মাত্র চারটি সংবাদপত্র বাদে সকল সংবাদপত্রের প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। মানুষের বাক-স্বাধীনতা ও সংগঠনের স্বাধীনতা হরণ করা হয়। তিনি প্রেসিডেন্ট ওর্ডার নম্বার ৯ জারি করে যেকোনো সরকারি কর্মকর্তাকে অপসারণের ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। অন্যদিকে সংবিধানের ১০২ ধারা রহিত করে হাইকোর্টের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার বিষয়টি নিঃশেষ করে দেন। মুক্তিযুদ্ধের গণতান্ত্রিক চেতনাকে ধ্বংস করে এক ব্যক্তির শাসন তখন মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। মুজিববাদ হয়ে দাঁড়ায় অলিখিত রাষ্ট্রীয় দর্শণ, যার কোনো তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল না বা কোনো আদর্শের ওপর ভিত্তি করে এই বাকশাল ছিল না।
ফলে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে শেখ মুজিব পরিবারের সদস্যসহ নিহত হন। অতঃপর আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হন এবং সামরিক শাসন জারি করেন। ১৯৭৫ সালের ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে এক অভুত্থানে খন্দকার মোশতাককে অপসারিত করে প্রধান বিচারপতি সায়েমকে প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত করা হয় এবং উপ-সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াকে বন্দি করা হয়। ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে সৈনিক ও জনগণের যৌথ বিপ্লবে খালেদ মোশাররফ উৎখাত ও নিহত হলে জেনারেল জিয়াকে সেনাপ্রধান পদে এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে অধিষ্ঠিত করা হয়। অতঃপর দেশের এই সংকট ও ক্রান্তিকাল উত্তরণের জন্য জাতির প্রয়োজনে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবির্ভূত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। তাঁর মাত্র সাড়ে চার বছরের কম সময়ের শাসনকালে তিনি রাষ্ট্রের যে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছিলেন, তা বিস্ময়কর।১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণ ও তার দুঃশাসন, দুর্বৃত্তায়ন, লাগামহীন দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয় বাংলাদেশ। হত্যা, গুম-খুন হয়ে দাঁড়ায় নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। চরম প্রশাসনকি ব্যর্থতা ও আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক দুর্নীতি, লুটপাটের কারণে ১৯৭৪ সালে সারা দেশে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং অনাহারে লাখ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি সংসদীয় এক ক্যু‘র মাধ্যমে গণতন্ত্রের কবর রচনা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা ‘বাকশাল’ কায়েম করেন। এতে সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়। মাত্র চারটি সংবাদপত্র বাদে সকল সংবাদপত্রের প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। মানুষের বাক-স্বাধীনতা ও সংগঠনের স্বাধীনতা হরণ করা হয়। তিনি প্রেসিডেন্ট ওর্ডার নম্বার ৯ জারি করে যেকোনো সরকারি কর্মকর্তাকে অপসারণের ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। অন্যদিকে সংবিধানের ১০২ ধারা রহিত করে হাইকোর্টের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার বিষয়টি নিঃশেষ করে দেন। মুক্তিযুদ্ধের গণতান্ত্রিক চেতনাকে ধ্বংস করে এক ব্যক্তির শাসন তখন মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। মুজিববাদ হয়ে দাঁড়ায় অলিখিত রাষ্ট্রীয় দর্শণ, যার কোনো তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিল না বা কোনো আদর্শের ওপর ভিত্তি করে এই বাকশাল ছিল না। ফলে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে শেখ মুজিব পরিবারের সদস্যসহ নিহত হন। অতঃপর আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হন এবং সামরিক শাসন জারি করেন। ১৯৭৫ সালের ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে এক অভুত্থানে খন্দকার মোশতাককে অপসারিত করে প্রধান বিচারপতি সায়েমকে প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত করা হয় এবং উপ-সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াকে বন্দি করা হয়। ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে সৈনিক ও জনগণের যৌথ বিপ্লবে খালেদ মোশাররফ উৎখাত ও নিহত হলে জেনারেল জিয়াকে সেনাপ্রধান পদে এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে অধিষ্ঠিত করা হয়। অতঃপর দেশের এই সংকট ও ক্রান্তিকাল উত্তরণের জন্য জাতির প্রয়োজনে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবির্ভূত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। তাঁর মাত্র সাড়ে চার বছরের কম সময়ের শাসনকালে তিনি রাষ্ট্রের যে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছিলেন, তা বিস্ময়কর।
জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ সর্বপ্রথম চট্টগ্রামের কালুরঘাট থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং এর আগে ২৫ মার্চ রাতে সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পাকিস্তানি কর্নেল জানজুয়ারের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং দীর্ঘ ৯ মাস স্ত্রী-সন্তানদের কথা না ভেবে দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেন। তিনি সেনাবাহিনীর মধ্যে ‘জেড ফোর্স’ গঠন করে দুর্ধর্ষ এক সেনাদল গঠনের মাধ্যমে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে লড়াই করেন। ১৯৭৫ সালের ২৮ নভেম্বর জেনারেল জিয়া বাংলাদেশ আর্মির নবম ডিভিশন গঠন করেন, যা বর্তমানে ঢাকার সাভারে অবস্থিত। তিনিই প্রথম রক্ষী বাহিনীকে বিলুপ্ত করে সেনাবাহিনীকে দেশের সার্বভৌম রক্ষার্থে একটা জাতীয় আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলেন। ১৯৭৬ সালের ৩১ জানুয়ারি জেনারেল জিয়া বাংলাদেশের ভাষা, সাহিত্য, শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য প্রথম একুশে পদক প্রবর্তন করেন। একই বছরের জানুয়ারি মাসে প্রথমবারের মতো ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশ (ডিএমপি) গঠন করা হয় এবং ফেব্রুয়ারি মাসে জেনারেল জিয়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেট্রোপলিটন পুলিশের সালাম গ্রহণ করেন।
জেনারেল জিয়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৭২ সালে প্রণিত প্রেসিডেন্টের ৯ নম্বর আদেশ বাতিল করেন। এই আদেশ বলে যেকোনো অফিসারকে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা যেত। এভাবে তিনি সিভিল অফিসারদের ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর সরকার ২৪টি মন্ত্রণালয় এবং ২৯টি ডিভিশন গঠন করে এতে ২৪ জন সচিব ও ১১ জন অতিরিক্ত সচিব নিয়োগ দেন।
জিয়াউর রহমান শিশু ও মহিলা-বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করে শিশু একাডেমি ও শিশুপার্ক প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সর্বপ্রথম নারীর ক্ষমতায়নে মেয়েদের চাকরির নিশ্চয়তা, আনসার ভিডিপিতে মেয়েদের নিয়োগ, নারীদের বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে যুব মন্ত্রণালয় গঠন করে যুবকদের প্রশিক্ষণসহ আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা চালু করেন। শিশুদের বিজ্ঞানী হতে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিকাশে তিনি তৈরি করেন ‘শিশু বিজ্ঞান মিউজিয়াম’। তাঁর শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণসহ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বিভিন্ন চাকরির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোটা ব্যবস্থা তিনিই সর্বপ্রথম চালু করেন। এমনকি বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রেও মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়ে রিক্রুটিং এজেন্টদের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন এবং কমপক্ষে ১০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধাকে বিদেশে পাঠানো বাধ্যতামূলক করেন। তিনি এ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য ধর্মমন্ত্রণালয় নামে আলাদা মন্ত্রণালয় স্থাপন করেন এবং মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসারে মাদ্রাসা বোর্ড গঠন করেন।লেখক : অবসরপ্রাপ্ত সচিব (গ্রেড-১ পদমর্যাদা)

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 
























