ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক ২০০৯ সালের পর ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড ফাঁস হলো স্যামসাং জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রার দাম ও ফিচার হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোরআনের এই ১০ আয়াত চট্টগ্রামের দুর্গতদের পাশে যুবদল সভাপতি মুন্না বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : অর্থমন্ত্রী সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, পরীমণির বাঁধভাঙ্গা উল্লাস জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের হিট লিস্টে ১৩ বিশ্বনেতা দুই মাস পর ঘুরে দাঁড়ালো সঞ্চয়পত্র বিক্রি

শীতের অতিথি পাখি দিন দিন আগমনের সংখ্যা কমে যাচ্ছে

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ শীতের শুরু হলেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে শুরু করে অতিথি পাখি। তাই অতিথি পাখি এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যেন একে অপরের পরিপূরক। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শুনলেই প্রথমে অতিথি পাখির কথা মনে পড়ে যায়।

প্রতিবছর ক্যাম্পাসের লেকগুলোতে আসে অসংখ্য অতিথি পাখি। তবে দিন দিন পাখির আগমনের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। গবেষকরা মনে করছেন, পাখিদের বিরক্ত করায় অতিষ্ঠ হয়ে ক্যাম্পাস ছাড়ছে পরিযায়ী পাখিরা।
যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাখিদের বিরক্ত না করার জন্য বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক ব্যানার, ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। কিন্তু সেগুলো মানছে না কেউ।

লেকের পাশের রাস্তা দিয়ে চলছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য উচ্চশব্দে মাইকিং, শোভাযাত্রার বাদ্য-বাজনা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বহিরাগতদের গাড়ি, মোটরসাইকেলের হর্নের বিকট শব্দ। এমনকি লেকের পারে গাড়ি রেখে উচ্চশব্দে গান শুনতেও দেখা যায় দর্শণার্থীদের। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট সংলগ্ন লেকটি পাখি শূন্য হয়ে পড়ছে।

এ বছর এখন পর্যন্ত রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের লেক ও ট্রান্সপোর্ট সংলগ্ন লেক; এই দুটিতেই দেশীয় সরালি নামের হাঁসজাতীয় পাখির দেখা মিলেছে। সরালি আমাদের দেশীয় প্রজাতিরই পাখি। এরা সাধারণত দেশের উত্তরাঞ্চলের চর ও হাওর-বাওরে বাস করে। জাহাঙ্গীরনগরে যে পাখিগুলো আসে এগুলোর অধিকাংশই আমাদের দেশীয় হাঁসজাতীয় পাখি।

অল্প কয়েক প্রজাতির বিদেশি পাখিও আসে। তবে তারা আসে ডিসেম্বরে। এখন যে পাখিগুলো এসেছে এগুলো সরালি। এরা সাধারণত বাংলাদেশের হিমালয়ের কাছাকাছি দূরত্বের জেলাগুলো ও হাওর-বাওরে বাস করে। জাহাঙ্গীরনগরেও এদের ডিম পাড়া ও বাচ্চা ফোটানোর ঘটনা ঘটেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষণা তথ্যমতে, জাবির লেকগুলোতে ১৯৮৬ সালে সর্বপ্রথম অতিথি পাখি আসে। তখন ক্যাম্পাসে ৯৮ প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ১৯৫ প্রজাতির পাখির দেখা মেলে। এর মধ্যে ১২৬টি দেশীয় প্রজাতির এবং ৬৯টি বিদেশি। পাখি সংরক্ষণ ও গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর পাখি মেলার আয়োজন করে প্রাণিবিদ্যা বিভাগ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক

শীতের অতিথি পাখি দিন দিন আগমনের সংখ্যা কমে যাচ্ছে

আপডেট টাইম : ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ শীতের শুরু হলেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে শুরু করে অতিথি পাখি। তাই অতিথি পাখি এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যেন একে অপরের পরিপূরক। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শুনলেই প্রথমে অতিথি পাখির কথা মনে পড়ে যায়।

প্রতিবছর ক্যাম্পাসের লেকগুলোতে আসে অসংখ্য অতিথি পাখি। তবে দিন দিন পাখির আগমনের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। গবেষকরা মনে করছেন, পাখিদের বিরক্ত করায় অতিষ্ঠ হয়ে ক্যাম্পাস ছাড়ছে পরিযায়ী পাখিরা।
যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাখিদের বিরক্ত না করার জন্য বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক ব্যানার, ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। কিন্তু সেগুলো মানছে না কেউ।

লেকের পাশের রাস্তা দিয়ে চলছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য উচ্চশব্দে মাইকিং, শোভাযাত্রার বাদ্য-বাজনা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বহিরাগতদের গাড়ি, মোটরসাইকেলের হর্নের বিকট শব্দ। এমনকি লেকের পারে গাড়ি রেখে উচ্চশব্দে গান শুনতেও দেখা যায় দর্শণার্থীদের। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট সংলগ্ন লেকটি পাখি শূন্য হয়ে পড়ছে।

এ বছর এখন পর্যন্ত রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের লেক ও ট্রান্সপোর্ট সংলগ্ন লেক; এই দুটিতেই দেশীয় সরালি নামের হাঁসজাতীয় পাখির দেখা মিলেছে। সরালি আমাদের দেশীয় প্রজাতিরই পাখি। এরা সাধারণত দেশের উত্তরাঞ্চলের চর ও হাওর-বাওরে বাস করে। জাহাঙ্গীরনগরে যে পাখিগুলো আসে এগুলোর অধিকাংশই আমাদের দেশীয় হাঁসজাতীয় পাখি।

অল্প কয়েক প্রজাতির বিদেশি পাখিও আসে। তবে তারা আসে ডিসেম্বরে। এখন যে পাখিগুলো এসেছে এগুলো সরালি। এরা সাধারণত বাংলাদেশের হিমালয়ের কাছাকাছি দূরত্বের জেলাগুলো ও হাওর-বাওরে বাস করে। জাহাঙ্গীরনগরেও এদের ডিম পাড়া ও বাচ্চা ফোটানোর ঘটনা ঘটেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষণা তথ্যমতে, জাবির লেকগুলোতে ১৯৮৬ সালে সর্বপ্রথম অতিথি পাখি আসে। তখন ক্যাম্পাসে ৯৮ প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ১৯৫ প্রজাতির পাখির দেখা মেলে। এর মধ্যে ১২৬টি দেশীয় প্রজাতির এবং ৬৯টি বিদেশি। পাখি সংরক্ষণ ও গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর পাখি মেলার আয়োজন করে প্রাণিবিদ্যা বিভাগ।