,



ওয়াসার ‘শান্তি’ অন্য কোথাও নেই

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ   ওয়াসার বোতলজাত বিশুদ্ধ পানির ব্র্যান্ড নাম শান্তি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিত উপায়ে মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উৎপাদিত হওয়ায় শান্তি পানির গুণগত মান অন্যান্য বোতলজাত পানির চেয়ে ভালো। কিন্তু খুচরা দোকানে এই পানি পাওয়া যায় না। চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এই পানি বাজারজাতকরণে কোনো উদ্যোগ নেই ওয়াসার।

ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, তারা দৈনিক গড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার লিটার পানি উৎপাদন করে। দৈনিক বিভিন্ন আকৃতির বোতল উৎপাদিত হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার। ঢাকা শহরে ওয়াসার ৩০ জন পরিবেশক আছে। পরিবেশকেরা শান্তির ২০ লিটারের বোতলজাত পানি বিক্রি করে। এসব বোতল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বা বাসায় নিয়মিত সরবরাহ করেন পরিবেশকেরা।

ওয়াসা মূল ভবন ও পানি উৎপাদনের প্ল্যান্টসহ মোট সাতটি নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র আছে। এসব বিক্রয়কেন্দ্র থেকে খুচরা ও পাইকারিভাবে পানি বিক্রি করা হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা মূলত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে পানি কিনে থাকেন। আর যাঁরা শান্তির পানি কিনে অভ্যস্ত, তাঁরা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে পানি কিনতে পারেন।

মিরপুরে শান্তি পানি উৎপাদনের প্ল্যান্ট রয়েছে। ২০০৬ সালের জুলাইয়ে এই প্ল্যান্টটি নির্মাণ করা হয়। এরপর একই বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে পানি উৎপাদনে যায় প্ল্যান্টটি। বর্তমানে প্ল্যান্টেও একটি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এখানে ২৫০ মিলিলিটারের বোতল থেকে শুরু করে আধা লিটার, এক লিটার, দেড় লিটার, দুই লিটার, পাঁচ লিটার ও ২০ লিটারের বোতলজাত পানি উৎপাদন করা হয়। এখান থেকে ওয়াসার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তাদের নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্রে পানি সরবরাহ করা হয়।

বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের নামী-বেনামি কোম্পানির ‘বিশুদ্ধ’ বোতলজাত পানি পাওয়া যায়। বোতলজাত পানির বেসরকারি উৎপাদন ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে পেপসিকোর অ্যাকুয়াফিনা, কোকা কোলার কিনলে, পারটেক্স গ্রুপের মাম, মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ, সিটি গ্রুপের জীবন, আকিজ গ্রুপের স্পা, প্রাণ গ্রুপের প্রাণ এবং একমি। এ ছাড়া আরও কিছু পানি বাজারে পাওয়া যায়। বাজারে একজন বিক্রেতা একটি মাম পানির আধা লিটারের বোতল কেনেন ১০ টাকা ২৫ পয়সায়, আর পাইকারি বিক্রয় করেন ১১ টাকা ২৫ পয়সায়। খুচরা বাজারে এই পানির মূল্য ১৫ টাকা। আবার কিনলের একটি আধা লিটার বোতল একজন বিক্রেতা কেনেন ৭ টাকা ৩৩ পয়সায় আর পাইকারি বিক্রি করেন ১০ টাকায়। খুচরা বাজরে এটির মূল্য ১৫ টাকা।

বেসরকারি কোম্পানিগুলো পানির চাহিদা অনুসারে পাইকারি বাজারে দাম কম-বেশি করে থাকে। ওয়াসার শান্তি পানির একটি ২৫০ মিলিলিটারের বোতলের পাইকারি মূল্য ৭ টাকা, খুচরা মূল্য ১০ টাকা। একটি আধা লিটারের বোতলের পাইকারি মূল্য ১০ টাকা, খুচরা মূল্য ১৫ টাকা। এ ছাড়া ৫ লিটারের একটি পানির বোতলের পাইকারি মূল্য ৪৫ টাকা; যা খুচরা বাজারে ৭০ টাকায় কিনতে হয়। পাইকারি মূল্যে শান্তির পানি অন্য পানির তুলনায় একটু বেশি দামি হওয়ার কারণে অনেক বিক্রেতা এই পানি রাখতে চান না। এ ছাড়া ওয়াসার একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ওয়াসা ৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার শান্তি পানি বিক্রি করেছে। তারা দাবি করেছে, এই টাকায় তাদের উৎপাদন খরচ উঠেছে কিন্তু মুনাফা হয়নি।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ অন্তত সাতটি বড় বাজার ঘুরে কোথাও শান্তির পানি পাওয়া যায়নি। এসব বাজারের কয়েকজন বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কম মুনাফা হওয়ায় তাঁরা শান্তি পানি রাখেন না। আর বেসরকারি পানি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচিতি বেশি থাকায় সেগুলো বেশি চলে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একজন বিক্রেতা মো. রবিন। তিনি বলেন, বাজারে যেসব বোতলজাত পানি আগে থেকে মানুষের কাছে পরিচিত, সেসব পানি বেশি চলে। আর শান্তি পানি পাওয়া যায় না বলে ক্রেতারা শান্তি পানি চেনেনও কম। এ ছাড়া এই পানির পাইকারি মূল্য অন্য পানির তুলনায় বেশি হওয়ায় লাভ কম হয়, তাই এটা রাখা হয় না।

কারওয়ান বাজারে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. রুহুল মিয়া বলেন, ‘ওয়াসার শান্তি পানির অনেক সুনাম শুনেছি। এ জন্য ওয়াসার বিক্রয়কেন্দ্র থেকে নিয়মিত এই পানি কিনে খাই। কিন্তু সমস্যা হলো অন্য কোথাও এই পানি কিনতে পারি না। তখন অন্য পানি কিনে খেতে হয়।’

এসব বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান বলেন, বাজারে যাতে কেউ পানির দাম হঠাৎ বাড়াতে না পারে এবং একচেটিয়া ব্যবসা করতে না পারে। এ জন্য সরকারিভাবে শান্তি পানি উৎপাদন ও বিক্রি করা হয়। এটি ব্যবসার জন্য তৈরি করা হয়নি। তাই কোথাও এই পানি বিপণন করা হয় না।

মিরপুর ১০ নম্বরে শান্তি পানি উৎপাদনের প্ল্যান্ট থেকে বের হচ্ছে পানি বহনকারী পিকআপ। ছবি: আবদুস সালামবাজারে তো এই পানি পাওয়াই যায় না, তাহলে কীভাবে ভারসাম্য বাজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তাকসিম এ খান বলেন, বাজারে কেউ যদি বলে ভালো পানি নেই, তখন সেই ব্যক্তি বলবেন তিনি কিসের ভিত্তিতে এ কথা বলেছেন। কারণ, এখানে একটি মান নিয়ন্ত্রিত এবং শতভাগ বিশুদ্ধ পানি, শান্তি পানি তো আছে। এ ছাড়া এই পানি বেসরকারিভাবে যদি বাজারে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে মান ও দাম দুটিই হেরফের হবে বলে তিনি জানান।

এ ছাড়া মিরপুর ১০ নম্বরে শান্তি পানি উৎপাদনের প্ল্যান্ট ব্যবস্থাপক ওয়াহিদুল ইসলামের কাছে কিছু বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তিনি কোনো রকমের কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। ওয়াসার প্রধান কার্যালয় ছাড়া অন্য কোনো জায়গা থেকে কাউকে তথ্য না দেওয়ার একটি নির্দেশনা থাকায় তিনি কোনো কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

Print Friendly, PDF & Email

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর