ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক ২০০৯ সালের পর ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড ফাঁস হলো স্যামসাং জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রার দাম ও ফিচার হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোরআনের এই ১০ আয়াত চট্টগ্রামের দুর্গতদের পাশে যুবদল সভাপতি মুন্না বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : অর্থমন্ত্রী সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, পরীমণির বাঁধভাঙ্গা উল্লাস জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের হিট লিস্টে ১৩ বিশ্বনেতা দুই মাস পর ঘুরে দাঁড়ালো সঞ্চয়পত্র বিক্রি

পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ টেকসই ও সময়ে প্রাপ্তি নিশ্চিত হোক

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের ক্ষেত্রে কাগজ, কালি ও ছাপার মানের ওপর জোর দেয়া হয় সব সময়। কারণ অস্বাস্থ্যকর কাগজ ও নিুমানের কালিতে ছাপা হলে সেই বই পড়া, ধরা ও ব্যবহার করার মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে। তবে এবার পাঠ্যবই মুদ্রণের ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে ব্যতিক্রমী এক হিসাব।

আন্তর্জাতিক বাজারে কাগজ তৈরির কাঁচামাল- মণ্ডের দাম কমে যাওয়া, করোনার কারণে কাগজ রফতানি কম হওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাগজের ব্যবহার বন্ধ ইত্যাদি কারণে চাহিদা কম এবং গত বাজেটে কাগজের ওপর থেকে ১০ শতাংশ ভ্যাট কমানো, সর্বোপরি করোনাকালে ব্যাংক ঋণ পরিশোধে নগদ টাকার জন্য মিল মালিকদের কম দামে কাগজ বিক্রির কারণে মুদ্রণে সাশ্রয়ের পথ উন্মোচিত হয়েছে।

এছাড়া মুদ্রকদের এবার সিন্ডিকেটও ছিল না, সবাই স্বাধীনভাবে দরপত্রে অংশ নিয়েছেন। এসব ইতিবাচক, তাতে সন্দেহ নেই। তবে দাম ও খরচের চেয়ে বইয়ের মান, সময়মতো কাজ সম্পূর্ণ করে বই ডেলিভারি দেয়ার বিষয় নিশ্চিত করাই বেশি যৌক্তিক।

জানা যায়, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৫ কোটি বই ছাপানো হবে। এর সম্ভাব্য খরচ ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। মোট ৭টি দরপত্রের মাধ্যমে বইগুলো ছাপানো হবে। অতীতে দেখা গেছে, বেশি দর দিয়েও সময়মতো বই পাওয়া ও কাগজ-কালির মান ঠিক রাখা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি।

এবার কম দামের কারণে যাতে মুদ্রকরা কোনো ধরনের নয়ছয় করতে না পারে, মান ঠিক রাখে এবং সময়মতো বই সরবরাহ করে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। আশার কথা, এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেছেন, দর কম হলেও কারও ফাঁকি দেয়ার সুযোগ থাকবে না।

বইয়ের সামগ্রীর গুণগত মান নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী মান নিশ্চিত করার জন্য মন্ত্রণালয় তৎপর রয়েছে এবং মনিটরিং এজেন্সি ও এনসিটিবির নিজস্ব টিমের পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হবে। বইয়ের পেছনে খরচ কোনো ব্যয় নয়, বরং এটি বিনিয়োগ; শিক্ষিত জাতি গঠনে বৃহত্তর বিনিয়োগ।

ফলে এক্ষেত্রে টাকার পরিমাণের চেয়ে বইয়ের মানের বিষয়টি যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা সহজেই অনুমেয়। আমরা আশা করব, দায়িত্বশীল সব সংস্থা সততার সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের মান নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে। সাধারণত অনিয়ম-দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের কারণে সরকারি কেনাকাটা ও ছাপায় বেশি খরচ হয় এবং অমানসম্পন্ন জিনিস নিতে হয়।

এবার বিনিয়োগ কমের মধ্যেও যদি তেমন কিছু হয় তবে কম খরচে মানসম্মত বই পাওয়া স্বপ্ন থেকে যাবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক

পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ টেকসই ও সময়ে প্রাপ্তি নিশ্চিত হোক

আপডেট টাইম : ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২০

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের ক্ষেত্রে কাগজ, কালি ও ছাপার মানের ওপর জোর দেয়া হয় সব সময়। কারণ অস্বাস্থ্যকর কাগজ ও নিুমানের কালিতে ছাপা হলে সেই বই পড়া, ধরা ও ব্যবহার করার মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে। তবে এবার পাঠ্যবই মুদ্রণের ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে ব্যতিক্রমী এক হিসাব।

আন্তর্জাতিক বাজারে কাগজ তৈরির কাঁচামাল- মণ্ডের দাম কমে যাওয়া, করোনার কারণে কাগজ রফতানি কম হওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাগজের ব্যবহার বন্ধ ইত্যাদি কারণে চাহিদা কম এবং গত বাজেটে কাগজের ওপর থেকে ১০ শতাংশ ভ্যাট কমানো, সর্বোপরি করোনাকালে ব্যাংক ঋণ পরিশোধে নগদ টাকার জন্য মিল মালিকদের কম দামে কাগজ বিক্রির কারণে মুদ্রণে সাশ্রয়ের পথ উন্মোচিত হয়েছে।

এছাড়া মুদ্রকদের এবার সিন্ডিকেটও ছিল না, সবাই স্বাধীনভাবে দরপত্রে অংশ নিয়েছেন। এসব ইতিবাচক, তাতে সন্দেহ নেই। তবে দাম ও খরচের চেয়ে বইয়ের মান, সময়মতো কাজ সম্পূর্ণ করে বই ডেলিভারি দেয়ার বিষয় নিশ্চিত করাই বেশি যৌক্তিক।

জানা যায়, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৫ কোটি বই ছাপানো হবে। এর সম্ভাব্য খরচ ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। মোট ৭টি দরপত্রের মাধ্যমে বইগুলো ছাপানো হবে। অতীতে দেখা গেছে, বেশি দর দিয়েও সময়মতো বই পাওয়া ও কাগজ-কালির মান ঠিক রাখা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি।

এবার কম দামের কারণে যাতে মুদ্রকরা কোনো ধরনের নয়ছয় করতে না পারে, মান ঠিক রাখে এবং সময়মতো বই সরবরাহ করে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। আশার কথা, এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেছেন, দর কম হলেও কারও ফাঁকি দেয়ার সুযোগ থাকবে না।

বইয়ের সামগ্রীর গুণগত মান নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী মান নিশ্চিত করার জন্য মন্ত্রণালয় তৎপর রয়েছে এবং মনিটরিং এজেন্সি ও এনসিটিবির নিজস্ব টিমের পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হবে। বইয়ের পেছনে খরচ কোনো ব্যয় নয়, বরং এটি বিনিয়োগ; শিক্ষিত জাতি গঠনে বৃহত্তর বিনিয়োগ।

ফলে এক্ষেত্রে টাকার পরিমাণের চেয়ে বইয়ের মানের বিষয়টি যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা সহজেই অনুমেয়। আমরা আশা করব, দায়িত্বশীল সব সংস্থা সততার সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের মান নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে। সাধারণত অনিয়ম-দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের কারণে সরকারি কেনাকাটা ও ছাপায় বেশি খরচ হয় এবং অমানসম্পন্ন জিনিস নিতে হয়।

এবার বিনিয়োগ কমের মধ্যেও যদি তেমন কিছু হয় তবে কম খরচে মানসম্মত বই পাওয়া স্বপ্ন থেকে যাবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।