ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব: জামায়াত আমির ঢাকা মেডিকেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবে : ডা. জুবাইদা রহমান অপতথ্যের বড় লক্ষ্যবস্তু বিএনপি-তারেক রহমান ‘২ লাখ ৪২ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া’— দাবিটি বিভ্রান্তিকর এক ঘণ্টায় হাজারো রুটি, কেরানীগঞ্জ কারাগারে অত্যাধুনিক মেশিনের চমক এআই নিয়ে গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: আইসিটি মন্ত্রী চার বছর পর মুখ খুললেন পরীমণি, জানালেন বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল

সড়ক নিরাপদ করা কঠিন নয়

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ সড়ক দুর্ঘটনা এখন নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই দেশে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় একটি দুর্ঘটনায় শুধু একজন মানুষেরই মৃত্যু ঘটে না; মৃত ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিবারেরও স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটে। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবা তার সন্তানকে, সন্তান তার মা-বাবাকে, স্ত্রী তার স্বামীকে হারাচ্ছেন। এভাবে প্রিয়জনের বিয়োগ ব্যথা বহন করে সারা জীবন চলতে হয় একেকটি পরিবারকে।

সড়ক দুর্ঘটনার জন্য কয়েকটি কারণ দায়ী। কিছু চালকের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক পথচারী প্রতিদিন রাস্তায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের অসাবধানতাও এ জন্য দায়ী। গণপরিবহনগুলোই দুর্ঘটনার জন্য বেশি দায়ী। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের লোভ এসব গাড়ির চালকরা প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালায়। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক বাস ও ট্রাক চালককে দেখা যায় এত জোরে গাড়ি চালাতে যে, পাশের ছোট গাড়িটি দেখারও তাদের সময় থাকে না। এটিও দুর্ঘটনার একটি কারণ। অনেক সময় দেখা যায়, চালকের আসনে বাসের হেলপার বসে আছেন এবং তিনিই গাড়ি ড্রাইভ করছেন। এই অদক্ষ চালকরা দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ। অনেক অটোরিকশা চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই। তারা এমনভাবে অটোরিকশা চালান যেন রাস্তায় বিমান চালাচ্ছেন! ফলে প্রতিনিয়ত বাস আর অটোরিকশার সংঘর্ষ হচ্ছে। এভাবেই বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অনেকের অকাল মৃত্যু হচ্ছে। আরেকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য- সড়কে চলাচলকারী অনেক মাইক্রোবাস ও পিকআপ ভ্যান পাওয়া যাবে যেগুলোর গ্যাস সিলিন্ডার মেয়াদ উত্তীর্ণ। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণবিহীন চালকের গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যাপারে খেয়াল থাকে না। তাদের খেয়াল থাকে শুধু টাকা আয় করার দিকে। এছাড়া সড়কপথ ছাড়াও লেভেলক্রসিংয়ে প্রতি বছর অনেক পথচারীর মৃত্যু হয়।

জিডিপির একটি অংশ সড়ক দুর্ঘটনার কারণে নষ্ট হচ্ছে। আমরা মনে করি, যারা সড়ক শৃঙ্খলার দায়িত্বে আছেন, তারা আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল হলে অনেক দুর্ঘটনা থেকে মানুষ রক্ষা পাবে। প্রত্যেক শহরে পর্যাপ্তসংখ্যক জেব্রা ক্রসিং, গতি নিয়ন্ত্রক এবং পথচারী সেতু নির্মাণ করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি। মহাসড়কগুলোর উপর যেখানে স্কুল-কলেজ, বাজার রয়েছে, সেখানে গতিনিয়ন্ত্রক থাকতে হবে। আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হলে দুর্ঘটনা কমে আসতে বাধ্য। বাস ও ট্রাক মালিক সমিতির কাছে প্রত্যাশা, আপনারা দক্ষ চালক নিয়োগ দিন। চালকদের বোঝান প্রত্যেকের জীবন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষের সঙ্গে একটি পরিবারের আশা-ভরসা জড়িত থাকে। অবশ্যই একদিন সবাইকে মরতে হবে। তবে দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃত্যু কারও কাম্য নয়। বেশিরভাগ চালকের শিক্ষার মান খুবই কম। এসব চালককে বাধ্যতামূলক প্রতি তিন মাসে একদিন সড়ক দুর্ঘটনার কুফল সম্পর্কে বোঝানোর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে ভালো হয়। প্রত্যাশা করছি, সবার জীবন নিরাপদ হবে। এই নিরাপদ জীবনের জন্য যা করা দরকার, সরকার তা-ই করুক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

সড়ক নিরাপদ করা কঠিন নয়

আপডেট টাইম : ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২০

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ সড়ক দুর্ঘটনা এখন নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই দেশে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় একটি দুর্ঘটনায় শুধু একজন মানুষেরই মৃত্যু ঘটে না; মৃত ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিবারেরও স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটে। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবা তার সন্তানকে, সন্তান তার মা-বাবাকে, স্ত্রী তার স্বামীকে হারাচ্ছেন। এভাবে প্রিয়জনের বিয়োগ ব্যথা বহন করে সারা জীবন চলতে হয় একেকটি পরিবারকে।

সড়ক দুর্ঘটনার জন্য কয়েকটি কারণ দায়ী। কিছু চালকের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক পথচারী প্রতিদিন রাস্তায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের অসাবধানতাও এ জন্য দায়ী। গণপরিবহনগুলোই দুর্ঘটনার জন্য বেশি দায়ী। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের লোভ এসব গাড়ির চালকরা প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালায়। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক বাস ও ট্রাক চালককে দেখা যায় এত জোরে গাড়ি চালাতে যে, পাশের ছোট গাড়িটি দেখারও তাদের সময় থাকে না। এটিও দুর্ঘটনার একটি কারণ। অনেক সময় দেখা যায়, চালকের আসনে বাসের হেলপার বসে আছেন এবং তিনিই গাড়ি ড্রাইভ করছেন। এই অদক্ষ চালকরা দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ। অনেক অটোরিকশা চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই। তারা এমনভাবে অটোরিকশা চালান যেন রাস্তায় বিমান চালাচ্ছেন! ফলে প্রতিনিয়ত বাস আর অটোরিকশার সংঘর্ষ হচ্ছে। এভাবেই বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অনেকের অকাল মৃত্যু হচ্ছে। আরেকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য- সড়কে চলাচলকারী অনেক মাইক্রোবাস ও পিকআপ ভ্যান পাওয়া যাবে যেগুলোর গ্যাস সিলিন্ডার মেয়াদ উত্তীর্ণ। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণবিহীন চালকের গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যাপারে খেয়াল থাকে না। তাদের খেয়াল থাকে শুধু টাকা আয় করার দিকে। এছাড়া সড়কপথ ছাড়াও লেভেলক্রসিংয়ে প্রতি বছর অনেক পথচারীর মৃত্যু হয়।

জিডিপির একটি অংশ সড়ক দুর্ঘটনার কারণে নষ্ট হচ্ছে। আমরা মনে করি, যারা সড়ক শৃঙ্খলার দায়িত্বে আছেন, তারা আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল হলে অনেক দুর্ঘটনা থেকে মানুষ রক্ষা পাবে। প্রত্যেক শহরে পর্যাপ্তসংখ্যক জেব্রা ক্রসিং, গতি নিয়ন্ত্রক এবং পথচারী সেতু নির্মাণ করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি। মহাসড়কগুলোর উপর যেখানে স্কুল-কলেজ, বাজার রয়েছে, সেখানে গতিনিয়ন্ত্রক থাকতে হবে। আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হলে দুর্ঘটনা কমে আসতে বাধ্য। বাস ও ট্রাক মালিক সমিতির কাছে প্রত্যাশা, আপনারা দক্ষ চালক নিয়োগ দিন। চালকদের বোঝান প্রত্যেকের জীবন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষের সঙ্গে একটি পরিবারের আশা-ভরসা জড়িত থাকে। অবশ্যই একদিন সবাইকে মরতে হবে। তবে দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃত্যু কারও কাম্য নয়। বেশিরভাগ চালকের শিক্ষার মান খুবই কম। এসব চালককে বাধ্যতামূলক প্রতি তিন মাসে একদিন সড়ক দুর্ঘটনার কুফল সম্পর্কে বোঝানোর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে ভালো হয়। প্রত্যাশা করছি, সবার জীবন নিরাপদ হবে। এই নিরাপদ জীবনের জন্য যা করা দরকার, সরকার তা-ই করুক।