ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ও ব্যক্তি জীবেন সাহিত্যের অনুরণন

ড.গোলসান আরা বেগমঃ একই অঙ্গে এতো রুপ ও রুপের প্রতিফলন– এই কথাটি বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। টুঙ্গিপাড়ার অজঁ পাড়া গাঁ থেকে ওঠে আশা তিনি কি ভাবে হলেন স্বর্ণাক্ষরে লেখা অমর কাব্যের মহানায়ক। কপালে রাজটিকা নিয়ে জন্ম নেয়া খোকা নামের ছেলে কৌশরে পা দিয়ে হয়ে গেলো আদরের মিয়া ভাই।দুষ্ট প্রকৃতির এক গুয়ে স্বভাবের, ডানপিঠে এক রোখা ছেলেটি ছিলো অতিশয় মানাবিক। তাই মুসলিম সেবা সমিতি গঠন করে বন্ধুদের নিয়ে বাড়ী বাড়ি ঘুরে মুষ্টি ভিক্ষার চাল সংগ্রহ করতেন। অতঃপর তা বিক্রি করে দরিদ্র অসহায় মুসলিস ছাত্রদের পড়ালেখার খরচ বহন করতে।
সমাজ বির্নিমানের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ভাষায় একজন দক্ষ নেতা হওয়ার জন্য যতগুলো গুনাবলি থাকা দরকার, বঙ্গবন্ধুর তার চেয়ে অনেক বেশী ছিলো। জ্ঞান অর্জনের জন্য নিয়মিত প্রগতিশীল চিন্তা চেতনার পাঠক ছিলেন।তিনি যত বার কারাগারে বন্দি জীবন যাপন করতে যেতেন, অবসরে পড়ার জন্য একগাদা বই নিয়ে যেতেন। তার প্রমান পাওয়া যায়  ” শেখ মুজিব আমার পিতা” বইয়ে। সেই বইয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা লিখেছেন — ১৯৪৯ থেকে আব্বা যতবার জেলে গেছেন, কয়েকখানা নির্দিষ্ট বই ছিলো যা সব সময় আব্বা সঙ্গে রাখতো। জেলখানার বই বেশীর ভাগই জেল লাইব্রেরিতে দান করে দিতেন, কিন্তু আমার মা’র অনুরোধে এই বই কয়টা আব্বা কখনো দিতেন না। সঙ্গে নিয়ে আসতেন।
তার মধ্যে রবীন্দ্র রচনাবলী,শরৎচন্দ্র,নজরুলের রচনা,বার্নার্ড শ’র কয়েকটা বইতে সেন্সর করার সিল দেয়া ছিলো।বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তি জীবনের ইতিহাস থেকে জানতে পেরেছি– শত কাজের চাপে ব্যস্ত থাকা সত্ব্যেও এতটুকু সময় পেলেই সন্তানদের নিয়ে কাব্য আলোচনা করতেন। আবৃত্তি শোনাতেন পরিবারের সদস্যদের। প্রসঙ্গক্রমে বঙ্গমাতা উল্লেখ করে বলেছেন — কোন কারণে আমি মনঃকুন্ন হলে বঙ্গবন্ধু আমাকে কবিগুরুর কবিতা শোনাবার প্রতিশ্রুতি দিতেন। স্ত্রীর মান অভিমান ভাঙ্গনোর জন্য কবিতা আবৃত্তি করতেন– এমন সাহিত্য প্রেমি নেতা কোথায় খোঁজে পাবেন। বিপদের দিনগুলিতে গুন গুনিয়ে গাইতেন — ” বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা “। এই সেই লক্ষ গুণে গুনান্নিত নেতা আমাদের শেখ মুজিব।
তিনি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন না, তারপরও সাহিত্য প্রেম ছিলো তাঁর উন্নত ও বিভিন্ন মাত্রিকতায়। তিনি নিজেই বলেছেন -” আমি সাহিত্যিক নই,শিল্পি নই,কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে,জনগণই সব সাহিত্য ও শিল্পের উৎস। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনোদিন কোন মহৎ সাহিত্য বা উন্নত শিল্পকর্ম সৃষ্টি হতে পারে না “। তার দর্শন ও অভিমত ছিলো ” সাহিত্য শিল্পে ফুটিয়ে তুলতে হবে এদেশের দুঃখী মানুষের আনন্দ বেদনার কথা। সাহিত্য শিল্পকে কাজে লাগাতে হবে তাঁদের কল্যাণে”।
১৯৬৯ সালে পাকিস্তানী সরকার যখন রবীন্দ্র সঙ্গীতের উপর নিষেধাঙ্গা জারি করে, তখন সহোরাওয়ার্দী ঊদ্যানে বঙ্গবন্ধু এক সনসভায় বলেছিলেন “আমরা মির্জা গালিব, সক্রেটিস, শেক্সপিয়ার, এরিস্টটল,লেলিন, দান্তে,মাও সেতুং পড়ি জ্ঞান আহরণের জন্য। আর দেউলিয়া পাকিস্তান  সরকার পাঠ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে রবীন্দ্রনাথের লেখা। যিনি একজন বাঙালি কবি এবং বাংলায় কবিতা লিখে যিনি বিশ্ব কবি হয়েছেন। আমরা রবীন্দ্রনাথের বই পড়বই,আমরা রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইবই,এবং রবীন্দ্র সঙ্গীত এই দেশে গীত হবেই”।
সাহিত্য অনুরাগী এই মানুষটি তার বক্তৃতায় প্রায় সময়ই কাজী নজরুল ইসলাম ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের কবিতার বিখ্যাত উক্তি উচ্চারণ করতেন। ১৯৭১ যখন পাকিস্তানের সামরিক সরকার প্রধান এহিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছিলো, তখন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কবি নজরুলের পংতি উচ্চারণ করে বলে ছিলেন  ” আমি জাহান্নামের আগুনে বসেও হাসি পুষ্পের হাসি”। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথের স্মরণযোগ্য উক্তি উচারণ করে বলেছিলেন ” চারিদিকে নাগিনীরা ফেলিতেছে বিষাক্ত নিঃশ্বাস,শান্তির ললিত বাণী শুনাইবে ব্যর্থ পরিহাস”।
১৯৭১ এর মার্চ মাসে টঙ্গিতে পাকিস্তানী সেনা বাহিনীর গুলিতে বহু শ্রমিক হতাহত হয়েছিলো। উত্তেজিত হয়ে শ্রমিক দল বঙ্গবন্ধুর বাস ভবনে ছুটে গিয়েছিলো। শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য শেষে উচ্চারণ করে বলেছিলেন ” বিত্রোহী রণক্লান্ত, আমি সেই দিন হব শান্ত,যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না,অত্যাচারির খড়ক কৃপান ভীম রণ ভুমে রণিবে না “।
  ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী এক জন সভায় উচ্চারণ করেন  রবীন্দ্রনাথের অমর বাণী–” সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করোনি”। তিনি লেখকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন ” আজ আমাদের সমাজে রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে দূর্নীতির শাখা প্রশাখা বিস্তার করেছে, আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে তার মুখোশ খুলে ধরুন।দুর্নীতির মূলোচ্ছেদে সরকারকে সাহায্য করুন “।
সাহিত্য ও লেখক প্রেমি শেখ মুজিব কারাগারের নির্জন কক্ষে বসে কলম পিষে  নিজেও হয়ে ওঠেন বাঙালীর ইতিহাস খ্যাত ও নমস্য লেখক।অসমাপ্ত আত্মজীবনী, নয়া চীন ভ্রমন, কারাগারের রোজ নামচা ইত্যাদি প্রবন্ধগ্রন্থ লিখে রেখে গেছেন তাঁর অন্তর নিংগড়ানো নানা তথ্য উপাত্ত কথায়।। অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থটি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠিত বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।তা ছাড়া বিভিন্ন ভাষায় এই বইটি অনুদিত হয়েছে। এ সবই হলো নেতৃত্বের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর নিজ্স্ব মেধার প্রতিফলন।
বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১০ জানুয়ারী স্বাধীন বাংলাদেশে বিজয়ের বেশে ফিরে আসেন। সে দিন সহোরাওয়ার্দি উদ্যানের জন সভায় আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথকে উদ্দেশ্য করে ” কবিগুরু আপনি দেখে যান, সাড়ে সাত কোটি বাঙালি মানুষ হয়েছে”। বাঙালি আজ স্বাধীন ও শোষণ মুক্ত। শিল্পী, কবি, সাহিত্যিকবৃন্দের সৃস্টিশীল বিকাশের জন্য যে কোন অন্তরায় আমি এবং আমার দল প্রতিহত করবেই। ভুলে ভরা সমাজ সংশোধনের জন্য লেখকদের প্রতি আহবান রাখেন।
সাহিত্য প্রেমি বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন বিশ্ববন্ধু তাঁর বহুবিধ মেধার সমন্নয়ে। আগামী প্রজন্মকে বলবো স্বনাম ধন্য, বিশ্বখ্যাত হতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বহুবিধ প্রতিভার অধিকারী হতে হবে। বিভন্ন উপায়ে ও কৌশলে গণমনে গ্রহনযোগ্য জায়গা তৈরী করে নিতে হবে। তার রাজনৈতিক পান্ডিত্য,মহানুভবতা, সাহিত্যনুরাগী, জাতির জন্য জীবন উৎসর্গ করার মনোবৃত্তি ইত্যাদির সমন্নয়ের জন্যই শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির কবি বা poet of politics বলা হয়।তোমার জন্ম শত বর্ষ ২০২১ এর ১৭ মার্চে জানাই সেলুট।
 লেখকঃ কবি,কলামিষ্ঠ,রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ও ব্যক্তি জীবেন সাহিত্যের অনুরণন

আপডেট টাইম : ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১
ড.গোলসান আরা বেগমঃ একই অঙ্গে এতো রুপ ও রুপের প্রতিফলন– এই কথাটি বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। টুঙ্গিপাড়ার অজঁ পাড়া গাঁ থেকে ওঠে আশা তিনি কি ভাবে হলেন স্বর্ণাক্ষরে লেখা অমর কাব্যের মহানায়ক। কপালে রাজটিকা নিয়ে জন্ম নেয়া খোকা নামের ছেলে কৌশরে পা দিয়ে হয়ে গেলো আদরের মিয়া ভাই।দুষ্ট প্রকৃতির এক গুয়ে স্বভাবের, ডানপিঠে এক রোখা ছেলেটি ছিলো অতিশয় মানাবিক। তাই মুসলিম সেবা সমিতি গঠন করে বন্ধুদের নিয়ে বাড়ী বাড়ি ঘুরে মুষ্টি ভিক্ষার চাল সংগ্রহ করতেন। অতঃপর তা বিক্রি করে দরিদ্র অসহায় মুসলিস ছাত্রদের পড়ালেখার খরচ বহন করতে।
সমাজ বির্নিমানের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ভাষায় একজন দক্ষ নেতা হওয়ার জন্য যতগুলো গুনাবলি থাকা দরকার, বঙ্গবন্ধুর তার চেয়ে অনেক বেশী ছিলো। জ্ঞান অর্জনের জন্য নিয়মিত প্রগতিশীল চিন্তা চেতনার পাঠক ছিলেন।তিনি যত বার কারাগারে বন্দি জীবন যাপন করতে যেতেন, অবসরে পড়ার জন্য একগাদা বই নিয়ে যেতেন। তার প্রমান পাওয়া যায়  ” শেখ মুজিব আমার পিতা” বইয়ে। সেই বইয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা লিখেছেন — ১৯৪৯ থেকে আব্বা যতবার জেলে গেছেন, কয়েকখানা নির্দিষ্ট বই ছিলো যা সব সময় আব্বা সঙ্গে রাখতো। জেলখানার বই বেশীর ভাগই জেল লাইব্রেরিতে দান করে দিতেন, কিন্তু আমার মা’র অনুরোধে এই বই কয়টা আব্বা কখনো দিতেন না। সঙ্গে নিয়ে আসতেন।
তার মধ্যে রবীন্দ্র রচনাবলী,শরৎচন্দ্র,নজরুলের রচনা,বার্নার্ড শ’র কয়েকটা বইতে সেন্সর করার সিল দেয়া ছিলো।বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তি জীবনের ইতিহাস থেকে জানতে পেরেছি– শত কাজের চাপে ব্যস্ত থাকা সত্ব্যেও এতটুকু সময় পেলেই সন্তানদের নিয়ে কাব্য আলোচনা করতেন। আবৃত্তি শোনাতেন পরিবারের সদস্যদের। প্রসঙ্গক্রমে বঙ্গমাতা উল্লেখ করে বলেছেন — কোন কারণে আমি মনঃকুন্ন হলে বঙ্গবন্ধু আমাকে কবিগুরুর কবিতা শোনাবার প্রতিশ্রুতি দিতেন। স্ত্রীর মান অভিমান ভাঙ্গনোর জন্য কবিতা আবৃত্তি করতেন– এমন সাহিত্য প্রেমি নেতা কোথায় খোঁজে পাবেন। বিপদের দিনগুলিতে গুন গুনিয়ে গাইতেন — ” বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা “। এই সেই লক্ষ গুণে গুনান্নিত নেতা আমাদের শেখ মুজিব।
তিনি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন না, তারপরও সাহিত্য প্রেম ছিলো তাঁর উন্নত ও বিভিন্ন মাত্রিকতায়। তিনি নিজেই বলেছেন -” আমি সাহিত্যিক নই,শিল্পি নই,কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে,জনগণই সব সাহিত্য ও শিল্পের উৎস। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনোদিন কোন মহৎ সাহিত্য বা উন্নত শিল্পকর্ম সৃষ্টি হতে পারে না “। তার দর্শন ও অভিমত ছিলো ” সাহিত্য শিল্পে ফুটিয়ে তুলতে হবে এদেশের দুঃখী মানুষের আনন্দ বেদনার কথা। সাহিত্য শিল্পকে কাজে লাগাতে হবে তাঁদের কল্যাণে”।
১৯৬৯ সালে পাকিস্তানী সরকার যখন রবীন্দ্র সঙ্গীতের উপর নিষেধাঙ্গা জারি করে, তখন সহোরাওয়ার্দী ঊদ্যানে বঙ্গবন্ধু এক সনসভায় বলেছিলেন “আমরা মির্জা গালিব, সক্রেটিস, শেক্সপিয়ার, এরিস্টটল,লেলিন, দান্তে,মাও সেতুং পড়ি জ্ঞান আহরণের জন্য। আর দেউলিয়া পাকিস্তান  সরকার পাঠ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে রবীন্দ্রনাথের লেখা। যিনি একজন বাঙালি কবি এবং বাংলায় কবিতা লিখে যিনি বিশ্ব কবি হয়েছেন। আমরা রবীন্দ্রনাথের বই পড়বই,আমরা রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইবই,এবং রবীন্দ্র সঙ্গীত এই দেশে গীত হবেই”।
সাহিত্য অনুরাগী এই মানুষটি তার বক্তৃতায় প্রায় সময়ই কাজী নজরুল ইসলাম ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের কবিতার বিখ্যাত উক্তি উচ্চারণ করতেন। ১৯৭১ যখন পাকিস্তানের সামরিক সরকার প্রধান এহিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছিলো, তখন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কবি নজরুলের পংতি উচ্চারণ করে বলে ছিলেন  ” আমি জাহান্নামের আগুনে বসেও হাসি পুষ্পের হাসি”। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথের স্মরণযোগ্য উক্তি উচারণ করে বলেছিলেন ” চারিদিকে নাগিনীরা ফেলিতেছে বিষাক্ত নিঃশ্বাস,শান্তির ললিত বাণী শুনাইবে ব্যর্থ পরিহাস”।
১৯৭১ এর মার্চ মাসে টঙ্গিতে পাকিস্তানী সেনা বাহিনীর গুলিতে বহু শ্রমিক হতাহত হয়েছিলো। উত্তেজিত হয়ে শ্রমিক দল বঙ্গবন্ধুর বাস ভবনে ছুটে গিয়েছিলো। শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য শেষে উচ্চারণ করে বলেছিলেন ” বিত্রোহী রণক্লান্ত, আমি সেই দিন হব শান্ত,যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না,অত্যাচারির খড়ক কৃপান ভীম রণ ভুমে রণিবে না “।
  ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী এক জন সভায় উচ্চারণ করেন  রবীন্দ্রনাথের অমর বাণী–” সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করোনি”। তিনি লেখকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন ” আজ আমাদের সমাজে রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে দূর্নীতির শাখা প্রশাখা বিস্তার করেছে, আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে তার মুখোশ খুলে ধরুন।দুর্নীতির মূলোচ্ছেদে সরকারকে সাহায্য করুন “।
সাহিত্য ও লেখক প্রেমি শেখ মুজিব কারাগারের নির্জন কক্ষে বসে কলম পিষে  নিজেও হয়ে ওঠেন বাঙালীর ইতিহাস খ্যাত ও নমস্য লেখক।অসমাপ্ত আত্মজীবনী, নয়া চীন ভ্রমন, কারাগারের রোজ নামচা ইত্যাদি প্রবন্ধগ্রন্থ লিখে রেখে গেছেন তাঁর অন্তর নিংগড়ানো নানা তথ্য উপাত্ত কথায়।। অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থটি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠিত বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।তা ছাড়া বিভিন্ন ভাষায় এই বইটি অনুদিত হয়েছে। এ সবই হলো নেতৃত্বের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর নিজ্স্ব মেধার প্রতিফলন।
বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১০ জানুয়ারী স্বাধীন বাংলাদেশে বিজয়ের বেশে ফিরে আসেন। সে দিন সহোরাওয়ার্দি উদ্যানের জন সভায় আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথকে উদ্দেশ্য করে ” কবিগুরু আপনি দেখে যান, সাড়ে সাত কোটি বাঙালি মানুষ হয়েছে”। বাঙালি আজ স্বাধীন ও শোষণ মুক্ত। শিল্পী, কবি, সাহিত্যিকবৃন্দের সৃস্টিশীল বিকাশের জন্য যে কোন অন্তরায় আমি এবং আমার দল প্রতিহত করবেই। ভুলে ভরা সমাজ সংশোধনের জন্য লেখকদের প্রতি আহবান রাখেন।
সাহিত্য প্রেমি বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন বিশ্ববন্ধু তাঁর বহুবিধ মেধার সমন্নয়ে। আগামী প্রজন্মকে বলবো স্বনাম ধন্য, বিশ্বখ্যাত হতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বহুবিধ প্রতিভার অধিকারী হতে হবে। বিভন্ন উপায়ে ও কৌশলে গণমনে গ্রহনযোগ্য জায়গা তৈরী করে নিতে হবে। তার রাজনৈতিক পান্ডিত্য,মহানুভবতা, সাহিত্যনুরাগী, জাতির জন্য জীবন উৎসর্গ করার মনোবৃত্তি ইত্যাদির সমন্নয়ের জন্যই শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির কবি বা poet of politics বলা হয়।তোমার জন্ম শত বর্ষ ২০২১ এর ১৭ মার্চে জানাই সেলুট।
 লেখকঃ কবি,কলামিষ্ঠ,রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।