নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য ৫৮টি স্থানে আবাসন করবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এই ৫৮ স্থানে মোট ১ লাখ আবাসন নির্মাণ করা হবে।
রাজধানীর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) এমনই প্রস্তাব করেছে রাজউক। প্রতিষ্ঠানটি নিচু জমি ভরাট করে প্রকল্প বানিয়ে (যেমন উত্তরা তৃতীয় পর্ব প্রকল্প, ঝিলমিল ও পূর্বাচল) শুধু ধনীদের আরও ধনী করছে এমন অভিযোগ উঠলেও এবারের ড্যাপে নিম্নবিত্তদের টার্গেট করে ব্যবস্থা রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
রাজউকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজউক এসব আবাসন নির্মাণ করবে বেসরকারি অথবা ব্যক্তিগত উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে। এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সুলভে আবাসনের সংস্থান করার বিনিময়ে উন্নয়ন প্রণোদনা পাবেন এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ড্যাপে।
এ প্রসঙ্গে ড্যাপের প্রকল্প পরিচালক ও রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্তের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের বিধান সংযোজন করা হয়েছে। উন্নয়ন স্বত্ব বিনিময় (টিডিআর) কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে বেসরকারি/ব্যক্তিগত উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আবাসন করা হবে।
তবে এই আবাসন নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা। তারা বলছেন, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের দিয়ে আবাসন নির্মাণ করা হবে। তাহলে বরাদ্দপ্রক্রিয়া কেমন হবে? গরীব মানুষকে কি এসব আবাসন কিনে নিতে হবে? এমন অনেক কিছুই ড্যাপের প্রস্তাবনায় অস্পষ্ট।
পরিবেশবাদীরা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করছেন যে খাল-জলাশয়-নিম্নভূমি ভরাট করে আবাসন প্রকল্প করছে রাজউক। সেই প্রকল্পে প্লট যাদের বরাদ্দ দিচ্ছে তারা সমাজের সচ্ছল পেশাজীবী। অথচ সরকারি আবাসন প্রকল্পের টার্গেট হওয়া উচিত ছিল নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।
তাদের অভিযোগ, বিশ্বের কোথাও খাল-জলাশয় ভরাট করে প্রকল্প করা হয় না এবং সেইসব প্রকল্পে ১০ কাঠা করে জমি সচ্ছল নাগরিকদের বরাদ্দ দেওয়া হয় না। অল্প জমিতে ছোট ছোট ফ্ল্যাট করে নিম্ন আয়ের মানুষদের বরাদ্দ দেওয়া হয়। অথচ বাংলাদেশ তার ব্যতিক্রম।
জানতে চাইলে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সভাপতি আবু নাসের খান ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ‘ড্যাপের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে বেসরকারি/ব্যক্তিগত উদ্যোক্তাদের দিয়ে আবাসন করা হবে। এই উদ্যোক্তারা কি ডেভেলপরার কোম্পানি কি না বা গরিব মানুষকে এসব উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে কিনে নিতে হবে কি না সেটি পরিষ্কার নয়।
এক প্রশ্নের জবাবে আবু নাসের খান বলেন, ‘রাজউক ধনীদের জন্য প্লট-ফ্ল্যাট নির্মাণ করতে পারে তাহলে গরিবদের জন্য কেন বেসরকারি উদ্যোক্তাদের দিয়ে করবে সেটিও পরিষ্কার নয়। এটার সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এনজিওদের সঙ্গে নিয়ে করলে হয়তো ভাল হতো।’
আবু নাসের খান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘দেখা যাবে অতীতের মতো এসব আবাসনও প্রকৃত নিম্নবিত্তরা পাবেন না। নিম্নবিত্তদের নাম দিয়ে সচ্ছল মানুষ এগুলোও নিয়ে যাবে।’

বাঙ্গালী কণ্ঠ ডেস্ক 

























