ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক ২০০৯ সালের পর ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড ফাঁস হলো স্যামসাং জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রার দাম ও ফিচার হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোরআনের এই ১০ আয়াত চট্টগ্রামের দুর্গতদের পাশে যুবদল সভাপতি মুন্না বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : অর্থমন্ত্রী সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, পরীমণির বাঁধভাঙ্গা উল্লাস জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের হিট লিস্টে ১৩ বিশ্বনেতা দুই মাস পর ঘুরে দাঁড়ালো সঞ্চয়পত্র বিক্রি

গাজায় অনাহারে শতাধিক শিশুর মৃত্যু

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি অবরোধের ফলে অপুষ্টি ও অনাহারে ১০০ জনেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।  বুধবার (১৩ আগস্ট) জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) প্রধান জেনারেল ফিলিপ লাজ্জারিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

লাজ্জারিনি এক বিবৃতিতে  বলেন, ‘অপুষ্টি ও ক্ষুধার কারণে কমপক্ষে ১০০ শিশু মারা গেছে।’

তিনি বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে ৪০ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গাজায় কমপক্ষে ১৭ হাজার শিশু ‘অনুসঙ্গহীন এবং বিচ্ছিন্ন’।  এছাড়া ১০ লাখ শিশু গভীরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত এবং শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন।

ইউএনআরডব্লিউএ’র প্রধান আরও বলেন, ‘শিশুরা তো শিশুই। গাজাসহ এই শিশুরা যেখানেই থাকুক না কেন, শিশুরা মারা গেলে বা ভবিষ্যৎ থেকে বঞ্চিত হলে কারও চুপ থাকা উচিত নয়।’

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে, দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টির কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় তিন শিশুসহ আরও আটজন মারা গেছে। এর ফলে উপত্যকাটিতে মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে  দুর্ভিক্ষে মোট মৃতের সংখ্যা ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে ১০৬ জন শিশুও রয়েছে।

গত ২ মার্চ থেকে গাজার গাজার ক্রসিং বন্ধ করে রেখেছে ইসরাইল। যার ফলে উপত্যকাটিতে কোনো মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে পারছে না এবং অঞ্চলটি দুর্ভিক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।  তবে এখন সীমিত পরিমাণ ত্রাণ গাজায় প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে তেল আবিব, তবে তা গাজার অনাহারী জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণের তুলনায় অনেক কম।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজার জনগণের ন্যূনতম মানবিক চাহিদা পূরণের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৬০০ ত্রাণ ট্রাক এবং ৫০টি জ্বালানি ট্রাকের প্রয়োজন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলি ভূখণ্ডে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের যোদ্ধারা।  এদিন ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যার পাশাপাশি ২৫১ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় তারা।

হামাসের হামলার জবাব দিতে এবং জিম্মিদের মুক্ত করতে ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে টানা অভিযান চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী অন্যান্য দেশগুলোর চাপে বাধ্য হয়ে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

কিন্তু বিরতির দু’মাস শেষ হওয়ার আগেই গত ১৮ মার্চ থেকে ফের গাজায় অভিযান শুরু করে আইডিএফ।

এছাড়া গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।  পাশাপাশি উপত্যকাটিতে আগ্রাসনের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখিও রয়েছে ইসরাইল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক

গাজায় অনাহারে শতাধিক শিশুর মৃত্যু

আপডেট টাইম : ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি অবরোধের ফলে অপুষ্টি ও অনাহারে ১০০ জনেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।  বুধবার (১৩ আগস্ট) জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) প্রধান জেনারেল ফিলিপ লাজ্জারিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

লাজ্জারিনি এক বিবৃতিতে  বলেন, ‘অপুষ্টি ও ক্ষুধার কারণে কমপক্ষে ১০০ শিশু মারা গেছে।’

তিনি বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে ৪০ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গাজায় কমপক্ষে ১৭ হাজার শিশু ‘অনুসঙ্গহীন এবং বিচ্ছিন্ন’।  এছাড়া ১০ লাখ শিশু গভীরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত এবং শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন।

ইউএনআরডব্লিউএ’র প্রধান আরও বলেন, ‘শিশুরা তো শিশুই। গাজাসহ এই শিশুরা যেখানেই থাকুক না কেন, শিশুরা মারা গেলে বা ভবিষ্যৎ থেকে বঞ্চিত হলে কারও চুপ থাকা উচিত নয়।’

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে, দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টির কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় তিন শিশুসহ আরও আটজন মারা গেছে। এর ফলে উপত্যকাটিতে মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে  দুর্ভিক্ষে মোট মৃতের সংখ্যা ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে ১০৬ জন শিশুও রয়েছে।

গত ২ মার্চ থেকে গাজার গাজার ক্রসিং বন্ধ করে রেখেছে ইসরাইল। যার ফলে উপত্যকাটিতে কোনো মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে পারছে না এবং অঞ্চলটি দুর্ভিক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।  তবে এখন সীমিত পরিমাণ ত্রাণ গাজায় প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে তেল আবিব, তবে তা গাজার অনাহারী জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণের তুলনায় অনেক কম।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজার জনগণের ন্যূনতম মানবিক চাহিদা পূরণের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৬০০ ত্রাণ ট্রাক এবং ৫০টি জ্বালানি ট্রাকের প্রয়োজন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলি ভূখণ্ডে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের যোদ্ধারা।  এদিন ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যার পাশাপাশি ২৫১ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় তারা।

হামাসের হামলার জবাব দিতে এবং জিম্মিদের মুক্ত করতে ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে টানা অভিযান চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী অন্যান্য দেশগুলোর চাপে বাধ্য হয়ে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

কিন্তু বিরতির দু’মাস শেষ হওয়ার আগেই গত ১৮ মার্চ থেকে ফের গাজায় অভিযান শুরু করে আইডিএফ।

এছাড়া গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।  পাশাপাশি উপত্যকাটিতে আগ্রাসনের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখিও রয়েছে ইসরাইল।