ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ ভিসা নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন রাঙামাটির সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ঘোষণা, বাস্তবায়নে কতটা আশার আলো চাকরিজীবীদের জন্য দুই দফায় মিলবে যে ছুটি প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকার বাইরে রাত না কাটানোর পরামর্শ অলির সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে।  জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি থেকে শিল্পে রুপান্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিবর্তন এআই অভিনেত্রীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা

গ্রামের নারীদের হাতে তৈরি হচ্ছে মোবাইল ফোন

চারদিকে সবুজ ছায়াঘেরা পরিবেশ। ফসলি জমিতে ধানগাছের প্রাকৃতিক মনোলোভার মাঝেই গড়ে উঠেছে হালিমা টেলিকম নামের একটি মোবাইল ফোন তৈরি কারখানা। এই কারখানায় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে মোবাইল তৈরি করছেন নারীরা।

হালিমা টেলিকম নামের প্রতিষ্ঠানটি কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পিয়ারাতলী এলাকায় অবস্থিত। এখানে কর্মরত দুই শতাধিক নারী শ্রমিক। যাদের সিংহভাগই এসএসসির গণ্ডিও পেরোতে পারেননি।

কুমিল্লা শহর থেকে ১০-১২ কিলোমিটার উত্তরে গোমতী নদীর ওপর দিয়ে ফকির বাজার, মাঝিগাছা পেরিয়ে গেলেই পিয়ারাতলী গ্রাম। আশপাশের এলাকার সম্ভবনাময় নারীদের জন্য হালিমা হাইটেক পার্কের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে মোবাইল ফোন তৈরির এই কারখানা। যেখানে নারীদের হাত দিয়ে প্রতিদিন শতশত মোবাইল ফোন তৈরি হচ্ছে।

একটি মোবাইলের প্রায় ৩০টি যন্ত্রণাংশ। যার নামও অনেকের অজানা। গ্রামের নারীরা এই যন্ত্রাংশগুলোকে সমন্বয় করে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিচ্ছেন মোবাইল ফোনে। এসব নারীদের অনেকেই যারা আগে ঘর ঘোচানোর কাজে ব্যস্ত থাকতেন, তাদের হাত দিয়ে তৈরি হচ্ছে মোবাইল ফোন। যা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জন্য এক সম্ভাবনাময় বাজার সৃষ্টি করেছে।

কুমিল্লার উদ্যোক্তা আবুল কালাম হাসান টগর ২০২২ সালে পিয়ারাতলী এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে হালিমা টেলিকম নামে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০২১ সালে করোনা-পরবর্তী সময়ে মোবাইল ফোন উৎপাদনে যায় প্রতিষ্ঠানটি।

উদ্যোক্তা আবুল কালাম হাসান টগর কুমিল্লার মোগলটুলি এলাকার বাসিন্দা। একসময় তিনি হোটেলবয়ের কাজ করেন। দীর্ঘ সংগ্রামের পর এখন তিনি পাঁচ-ছয়টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়েছেন। যাতে শতশত মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে হালিমা টেলিকম মোবাইল তৈরির কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে নারী শ্রমিকদের কর্মচঞ্চলতা।

কোনো কোনো নারী চেক করছেন মাদারবোর্ড, কেউ আবার সেট করছেন মোবাইলের আইএমইআই। কেউ লাগাচ্ছেন ফোনের ডেট লেভেল, এলসিডি, এলসিডি লেন্স, কী প্যাড, আপ হাউজিং, ব্যাক হাউজিং, স্পিকার নেট। অনেককে দেখা গেছে প্যাকিংয়ে। চীন থেকে আমদানি করা এসব মোবাইল পার্টসকে একত্রিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ মোবাইলে রূপ দেওয়ায় দারুণ অভিজ্ঞ এখানকার নারীরা।

১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে কাজ ও অভিজ্ঞতা ভেদে ৪০-৫০ হাজার টাকাও মাসিক বেতন পাচ্ছেন এসব নারী শ্রমিকরা। হালিমা গ্রুপের হালিমা হাইটেক মোবাইল তৈরির এ কারখানায় কাজ শেখে নারীরা নিজেরাও এখন বাড়িতে বসে বসে মোবাইলসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য বানানোর কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। প্রযুক্তি খাতে নারীদের এই অংশগ্রহণ যেমন কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলেছে, তেমনি এগিয়ে নিচ্ছে দেশের শিল্প খাতকে।

সখিনা আক্তার নামের এক নারী শ্রমিক ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি গত তিন বছর ধরে এখানে কাজ করছি। এখানে এসে তিন মাসের মধ্যেই মোবাইল তৈরির কাজ শিখেছি। আমাদের স্যাররা হাতেকলমে এই কাজ শিখিয়েছেন।

লুনা আক্তার নামের এক মোবাইল শ্রমিক ঢাকা পোস্টকে বলেন, মোবাইল তৈরির কাজ খুবই সহজ। সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে কম সময়ের মধ্যে এই কাজ শেখা যায়।

সামিয়া নামের এক মোবাইল কারিগর ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুই বছর ধরে এখানে কাজ করছি। বাড়ির পাশে কর্মসংস্থান পেয়ে আমরা খুশি। এখান থেকে আয় করে সংসার চালাচ্ছি।

স্বল্প শিক্ষিত এসব নারীদের মোবাইল তৈরির কারিগর বানাতে ভূমিকা রয়েছে কয়েকজন টেকনিশিয়ানের। একজন নারীকে মোবাইল ফোন তৈরিতে দক্ষ করে তুলতে দুই থেকে তিন মাসের মতো সময় লাগে তাদের।

হালিমা হাইটেক পার্কের প্রোডাকশন হেড মিজানুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, মোবাইলের যন্ত্রাংশগুলো চায়না থেকে আনা হয়। এসব যন্ত্রাংশ বসানোর জন্য একেক নারীর কাঁধে একেক দায়িত্ব। ধরেন কেউ ডিসপ্লে বসাচ্ছেন। এই কাজটা যখন দিনের পর দিন করেন, তখন এমনিতেই সে দক্ষ হয়ে ওঠে। এমন করে প্রতিটি পার্টসের কাজ আলাদাভাবে করা হয়। যার কারণে সহজেই মোবাইল তৈরিতে অভিজ্ঞ হয়ে উঠছেন নারীরা।

হালিমা টেলিকম মোবাইল কারখানার প্যাকিং এক্সিকিউটিভ মেহেদী হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, নারীদের বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আগে দক্ষ করে তোলা হয়। তারপর তাদের মোবাইল তৈরির পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দেওয়া হয়।

কোম্পানির সেলস এক্সিকিউটিভ ওমর হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের কোম্পানির চেয়ারম্যান স্যারের স্বপ্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের কর্মসংস্থান করা। তাই তিনি এখানে এই প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। শুধু প্রতিষ্ঠানই নয়, এই কারখানায় আসা-যাওয়ার যে সড়কটি ছিল, এটি তিনি নিজ অর্থায়নে পাকা করেছেন। এই কারখানার ফলে এখানকার নারীদের জীবনযাত্রার মান বদলে গেছে।

কুমিল্লার নারীদের হাতে তৈরি এসব মোবাইল ইতোমধ্যে দেশীয় বাজারে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে হালিমা টেলিকম। এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন একজন মানুষ উদ্যোক্তা আবুল কালাম হাসান টগর। তার লক্ষ্য শুধু একটি কারখানা গড়ে তোলা নয়, বরং নারীদের প্রযুক্তি খাতে সম্পৃক্ত করে তাদের জীবনমান উন্নয়ন করা।

হালিমা হাইটেক পার্কের চেয়ারম্যান আবুল কালাম হাসান টগর ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি খুব সংগ্রাম করে আজকে কয়েকটি কোম্পানির মাধ্যমে শতশত মানুষের কর্মসংস্থান করেছি। এটা এত সহজ ছিল না। অনেক বড় চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে আমাকে যেতে হয়েছে। আমরা শুধু মোবাইল ফোনই নয়। আমাদের এখন পাঁচটি কোম্পানি। বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স, ইলেক্ট্রিক পণ্য, মোবাইলের ব্যাটারি, চার্জার, হেডফোন, পাওয়ার ব্যাংকও উৎপাদন করছি। আমার লক্ষ্য আমার নিজ এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখা। আজকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ১৪০০ লোক আমার এখানে কাজ করছেন। এই লোকগুলো এখানে কাজ করে তাদের সংসার চালাচ্ছেন। অবহেলিত, পরিবারের বোঝা যেসব নারী ছিল, তারা এখন মোবাইল ফোন তৈরি করছেন। এটা অনেক বড় আনন্দের। কুমিল্লার এসব কর্মবঞ্চিত মানুষদের নিয়ে আমার আরও অনেক স্বপ্ন আছে। আমি সেই লক্ষ্যে এগোচ্ছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ৬৮ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ

গ্রামের নারীদের হাতে তৈরি হচ্ছে মোবাইল ফোন

আপডেট টাইম : ০১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

চারদিকে সবুজ ছায়াঘেরা পরিবেশ। ফসলি জমিতে ধানগাছের প্রাকৃতিক মনোলোভার মাঝেই গড়ে উঠেছে হালিমা টেলিকম নামের একটি মোবাইল ফোন তৈরি কারখানা। এই কারখানায় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে মোবাইল তৈরি করছেন নারীরা।

হালিমা টেলিকম নামের প্রতিষ্ঠানটি কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পিয়ারাতলী এলাকায় অবস্থিত। এখানে কর্মরত দুই শতাধিক নারী শ্রমিক। যাদের সিংহভাগই এসএসসির গণ্ডিও পেরোতে পারেননি।

কুমিল্লা শহর থেকে ১০-১২ কিলোমিটার উত্তরে গোমতী নদীর ওপর দিয়ে ফকির বাজার, মাঝিগাছা পেরিয়ে গেলেই পিয়ারাতলী গ্রাম। আশপাশের এলাকার সম্ভবনাময় নারীদের জন্য হালিমা হাইটেক পার্কের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে মোবাইল ফোন তৈরির এই কারখানা। যেখানে নারীদের হাত দিয়ে প্রতিদিন শতশত মোবাইল ফোন তৈরি হচ্ছে।

একটি মোবাইলের প্রায় ৩০টি যন্ত্রণাংশ। যার নামও অনেকের অজানা। গ্রামের নারীরা এই যন্ত্রাংশগুলোকে সমন্বয় করে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিচ্ছেন মোবাইল ফোনে। এসব নারীদের অনেকেই যারা আগে ঘর ঘোচানোর কাজে ব্যস্ত থাকতেন, তাদের হাত দিয়ে তৈরি হচ্ছে মোবাইল ফোন। যা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জন্য এক সম্ভাবনাময় বাজার সৃষ্টি করেছে।

কুমিল্লার উদ্যোক্তা আবুল কালাম হাসান টগর ২০২২ সালে পিয়ারাতলী এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে হালিমা টেলিকম নামে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০২১ সালে করোনা-পরবর্তী সময়ে মোবাইল ফোন উৎপাদনে যায় প্রতিষ্ঠানটি।

উদ্যোক্তা আবুল কালাম হাসান টগর কুমিল্লার মোগলটুলি এলাকার বাসিন্দা। একসময় তিনি হোটেলবয়ের কাজ করেন। দীর্ঘ সংগ্রামের পর এখন তিনি পাঁচ-ছয়টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়েছেন। যাতে শতশত মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে হালিমা টেলিকম মোবাইল তৈরির কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে নারী শ্রমিকদের কর্মচঞ্চলতা।

কোনো কোনো নারী চেক করছেন মাদারবোর্ড, কেউ আবার সেট করছেন মোবাইলের আইএমইআই। কেউ লাগাচ্ছেন ফোনের ডেট লেভেল, এলসিডি, এলসিডি লেন্স, কী প্যাড, আপ হাউজিং, ব্যাক হাউজিং, স্পিকার নেট। অনেককে দেখা গেছে প্যাকিংয়ে। চীন থেকে আমদানি করা এসব মোবাইল পার্টসকে একত্রিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ মোবাইলে রূপ দেওয়ায় দারুণ অভিজ্ঞ এখানকার নারীরা।

১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে কাজ ও অভিজ্ঞতা ভেদে ৪০-৫০ হাজার টাকাও মাসিক বেতন পাচ্ছেন এসব নারী শ্রমিকরা। হালিমা গ্রুপের হালিমা হাইটেক মোবাইল তৈরির এ কারখানায় কাজ শেখে নারীরা নিজেরাও এখন বাড়িতে বসে বসে মোবাইলসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য বানানোর কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। প্রযুক্তি খাতে নারীদের এই অংশগ্রহণ যেমন কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলেছে, তেমনি এগিয়ে নিচ্ছে দেশের শিল্প খাতকে।

সখিনা আক্তার নামের এক নারী শ্রমিক ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি গত তিন বছর ধরে এখানে কাজ করছি। এখানে এসে তিন মাসের মধ্যেই মোবাইল তৈরির কাজ শিখেছি। আমাদের স্যাররা হাতেকলমে এই কাজ শিখিয়েছেন।

লুনা আক্তার নামের এক মোবাইল শ্রমিক ঢাকা পোস্টকে বলেন, মোবাইল তৈরির কাজ খুবই সহজ। সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে কম সময়ের মধ্যে এই কাজ শেখা যায়।

সামিয়া নামের এক মোবাইল কারিগর ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুই বছর ধরে এখানে কাজ করছি। বাড়ির পাশে কর্মসংস্থান পেয়ে আমরা খুশি। এখান থেকে আয় করে সংসার চালাচ্ছি।

স্বল্প শিক্ষিত এসব নারীদের মোবাইল তৈরির কারিগর বানাতে ভূমিকা রয়েছে কয়েকজন টেকনিশিয়ানের। একজন নারীকে মোবাইল ফোন তৈরিতে দক্ষ করে তুলতে দুই থেকে তিন মাসের মতো সময় লাগে তাদের।

হালিমা হাইটেক পার্কের প্রোডাকশন হেড মিজানুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, মোবাইলের যন্ত্রাংশগুলো চায়না থেকে আনা হয়। এসব যন্ত্রাংশ বসানোর জন্য একেক নারীর কাঁধে একেক দায়িত্ব। ধরেন কেউ ডিসপ্লে বসাচ্ছেন। এই কাজটা যখন দিনের পর দিন করেন, তখন এমনিতেই সে দক্ষ হয়ে ওঠে। এমন করে প্রতিটি পার্টসের কাজ আলাদাভাবে করা হয়। যার কারণে সহজেই মোবাইল তৈরিতে অভিজ্ঞ হয়ে উঠছেন নারীরা।

হালিমা টেলিকম মোবাইল কারখানার প্যাকিং এক্সিকিউটিভ মেহেদী হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, নারীদের বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আগে দক্ষ করে তোলা হয়। তারপর তাদের মোবাইল তৈরির পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দেওয়া হয়।

কোম্পানির সেলস এক্সিকিউটিভ ওমর হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের কোম্পানির চেয়ারম্যান স্যারের স্বপ্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের কর্মসংস্থান করা। তাই তিনি এখানে এই প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। শুধু প্রতিষ্ঠানই নয়, এই কারখানায় আসা-যাওয়ার যে সড়কটি ছিল, এটি তিনি নিজ অর্থায়নে পাকা করেছেন। এই কারখানার ফলে এখানকার নারীদের জীবনযাত্রার মান বদলে গেছে।

কুমিল্লার নারীদের হাতে তৈরি এসব মোবাইল ইতোমধ্যে দেশীয় বাজারে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে হালিমা টেলিকম। এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন একজন মানুষ উদ্যোক্তা আবুল কালাম হাসান টগর। তার লক্ষ্য শুধু একটি কারখানা গড়ে তোলা নয়, বরং নারীদের প্রযুক্তি খাতে সম্পৃক্ত করে তাদের জীবনমান উন্নয়ন করা।

হালিমা হাইটেক পার্কের চেয়ারম্যান আবুল কালাম হাসান টগর ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি খুব সংগ্রাম করে আজকে কয়েকটি কোম্পানির মাধ্যমে শতশত মানুষের কর্মসংস্থান করেছি। এটা এত সহজ ছিল না। অনেক বড় চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে আমাকে যেতে হয়েছে। আমরা শুধু মোবাইল ফোনই নয়। আমাদের এখন পাঁচটি কোম্পানি। বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স, ইলেক্ট্রিক পণ্য, মোবাইলের ব্যাটারি, চার্জার, হেডফোন, পাওয়ার ব্যাংকও উৎপাদন করছি। আমার লক্ষ্য আমার নিজ এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখা। আজকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ১৪০০ লোক আমার এখানে কাজ করছেন। এই লোকগুলো এখানে কাজ করে তাদের সংসার চালাচ্ছেন। অবহেলিত, পরিবারের বোঝা যেসব নারী ছিল, তারা এখন মোবাইল ফোন তৈরি করছেন। এটা অনেক বড় আনন্দের। কুমিল্লার এসব কর্মবঞ্চিত মানুষদের নিয়ে আমার আরও অনেক স্বপ্ন আছে। আমি সেই লক্ষ্যে এগোচ্ছি।