ঢাকা , শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফরহাদের স্ত্রী ৩ দিনের রিমান্ডে নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার নারীরা কি গাড়ি চালাতে পারবেন, ইসলাম কী বলে এখানে গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রিত, কর্তার ইচ্ছাই কর্ম হবে: অলি আহমদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য দিল্লি­ অপেক্ষা করছে: দীনেশ ত্রিবেদী মির্জা ফখরুল আগাগোড়া একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব: অর্থমন্ত্রী নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী সৌদির আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের হাফেজ জাকারিয়া মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যে কারণে ভোট দেননি তারা

মসজিদের আজান শুনে আসে সাপ, শেষ হলেই অদৃশ্য

রাজশাহীর দুর্গাপুরে একটি মসজিদকে ঘিরে এক রহস্য তৈরি হয়েছে। মসজিদটিতে আজান শুরু হলেই আশপাশে সাপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অবাক করার বিষয় হলো, আজান শেষ হওয়ার পরপরই সাপগুলো আবার অদৃশ্য হয়ে যায়।

উপজেলার পালশা থান্দারপাড়ায় অবস্থিত প্রায় ২৭০ বছরের পুরোনো এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটিকে ঘিরে  নানা রহস্য আর জল্পনা কল্পনা চলছে।

স্থানীয়দের দাবি, মুঘল আমলের এই প্রাচীন স্থাপনাটিতে প্রায়ই অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হন তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, মসজিদে আজান শুরু হলেই আশপাশে সাপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অবাক করার বিষয় হলো আজান শেষ হওয়ার পরপরই সাপগুলো অদৃশ্য হয়ে যায়। আবার অনেক সময় গভীর রাতে বা ফজরের আগে শোনা যায় ওজুর পানির শব্দ যেন একসঙ্গে অনেক মানুষ ওজু করছেন। তবে কাছে গিয়ে কাউকে দেখা যায় না।

এ ঘটনা বহুবার প্রত্যক্ষ করেছেন বলে জানান মসজিদের সাবেক মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান।

ইতিহাস অনুযায়ী, ১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত ছোট্ট এই এক গম্বুজ মসজিদটি মুঘল আমলের স্থাপত্যশৈলী বহন করে আজও দাঁড়িয়ে আছে। সময়ের পরিক্রমায় আশপাশের পরিবেশ ও বসতবাড়িতে অনেক পরিবর্তন এলেও মসজিদটির প্রাচীন কাঠামো অনেকটাই আগের মতোই রয়েছে।

মসজিদের দীর্ঘদিনের খাদেম আনসার আলী মৃধা বলেন, বহু বছর ধরে তিনি মসজিদটির দেখভাল করছেন এবং মাঝেমধ্যেই এমন অদ্ভুত ঘটনার কথা শুনেছেন ও কিছুটা অনুভবও করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষক আলীম ফজল জানান, ছোটবেলা থেকেই তারা এই মসজিদকে ঘিরে নানা গল্প শুনে আসছেন। কেউ এটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করেন, আবার কেউ মনে করেন এটি প্রাচীন মসজিদের রহস্যময় পরিবেশেরই অংশ।

স্থানীয়দের মতে, এই মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়। বরং এটি এলাকাবাসীর বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। একসময় ছোট্ট এই মসজিদে মাত্র সাতজন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। বর্তমানে পাশেই নতুন একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়, তবে পুরোনো মসজিদটি এখনও ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।

এলাকার অনেক মানুষের বিশ্বাস, এই মসজিদে মানত করলে মনের আশা পূরণ হয়। তাই স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এখানে আসেন নামাজ আদায় করতে কিংবা প্রাচীন এই স্থাপনাটি এক নজর দেখতে।

তবে ঐতিহাসিক মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে কিছুটা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রাচীন স্থাপনাটির মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয়রা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফরহাদের স্ত্রী ৩ দিনের রিমান্ডে

মসজিদের আজান শুনে আসে সাপ, শেষ হলেই অদৃশ্য

আপডেট টাইম : ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

রাজশাহীর দুর্গাপুরে একটি মসজিদকে ঘিরে এক রহস্য তৈরি হয়েছে। মসজিদটিতে আজান শুরু হলেই আশপাশে সাপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অবাক করার বিষয় হলো, আজান শেষ হওয়ার পরপরই সাপগুলো আবার অদৃশ্য হয়ে যায়।

উপজেলার পালশা থান্দারপাড়ায় অবস্থিত প্রায় ২৭০ বছরের পুরোনো এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটিকে ঘিরে  নানা রহস্য আর জল্পনা কল্পনা চলছে।

স্থানীয়দের দাবি, মুঘল আমলের এই প্রাচীন স্থাপনাটিতে প্রায়ই অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হন তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, মসজিদে আজান শুরু হলেই আশপাশে সাপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অবাক করার বিষয় হলো আজান শেষ হওয়ার পরপরই সাপগুলো অদৃশ্য হয়ে যায়। আবার অনেক সময় গভীর রাতে বা ফজরের আগে শোনা যায় ওজুর পানির শব্দ যেন একসঙ্গে অনেক মানুষ ওজু করছেন। তবে কাছে গিয়ে কাউকে দেখা যায় না।

এ ঘটনা বহুবার প্রত্যক্ষ করেছেন বলে জানান মসজিদের সাবেক মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান।

ইতিহাস অনুযায়ী, ১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত ছোট্ট এই এক গম্বুজ মসজিদটি মুঘল আমলের স্থাপত্যশৈলী বহন করে আজও দাঁড়িয়ে আছে। সময়ের পরিক্রমায় আশপাশের পরিবেশ ও বসতবাড়িতে অনেক পরিবর্তন এলেও মসজিদটির প্রাচীন কাঠামো অনেকটাই আগের মতোই রয়েছে।

মসজিদের দীর্ঘদিনের খাদেম আনসার আলী মৃধা বলেন, বহু বছর ধরে তিনি মসজিদটির দেখভাল করছেন এবং মাঝেমধ্যেই এমন অদ্ভুত ঘটনার কথা শুনেছেন ও কিছুটা অনুভবও করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষক আলীম ফজল জানান, ছোটবেলা থেকেই তারা এই মসজিদকে ঘিরে নানা গল্প শুনে আসছেন। কেউ এটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করেন, আবার কেউ মনে করেন এটি প্রাচীন মসজিদের রহস্যময় পরিবেশেরই অংশ।

স্থানীয়দের মতে, এই মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়। বরং এটি এলাকাবাসীর বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। একসময় ছোট্ট এই মসজিদে মাত্র সাতজন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। বর্তমানে পাশেই নতুন একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়, তবে পুরোনো মসজিদটি এখনও ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।

এলাকার অনেক মানুষের বিশ্বাস, এই মসজিদে মানত করলে মনের আশা পূরণ হয়। তাই স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এখানে আসেন নামাজ আদায় করতে কিংবা প্রাচীন এই স্থাপনাটি এক নজর দেখতে।

তবে ঐতিহাসিক মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে কিছুটা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রাচীন স্থাপনাটির মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয়রা।