ঢাকা , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকার আ.লীগের অপতৎপরতায় শঙ্কিত নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপহার কেনার আগে যে ৭টি বিষয় মনে রাখা জরুরি চীনে ৩০ দেশের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের গণমাধ্যম সহযোগিতা সেমিনার আগামী বছরের জানুয়ারিতে হতে পারে ইউপি নির্বাচন: ইসি মাছউদ জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা ও রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা ইমরান খানের বোনকে গ্রেপ্তার, ২৭ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা চীনা নাগরিকের ২.৫ কেজি সোনা উদ্ধার, আনসারের বিচক্ষণতায় পাচারচেষ্টা নস্যাৎ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী হাফেজদের উপহার হিসেবে দেওয়া ‘নেক্সাস’ বই ফেরত নিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

৭ জেলায় বন্যার তাণ্ডব, প্রাণহানি বেড়ে ৫৪; পানিবন্দি সোয়া ১ লাখ পরিবার, ত্রাণে বড় চ্যালেঞ্জ

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড়ধসের প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সরকারি হিসাবে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ জনে। পানিবন্দি রয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তবে মাঠপর্যায়ের প্রশাসন ও স্থানীয়দের মতে, দুর্গম এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো সামনে আসেনি। অনেক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত ক্ষতির হিসাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যার  পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর  পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক এলাকায় হঠাৎ করেই বসতবাড়ি, সড়ক ও কৃষিজমি তলিয়ে যায়। এতে হাজার হাজার পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়।

সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রাণহানির সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কক্সবাজারে। জেলাটিতে মারা গেছেন ৩১ জন, যা মোট মৃত্যুর অর্ধেকেরও বেশি। চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩৯ জন। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন কক্সবাজারের, ১২ জন চট্টগ্রামের, ২ জন বান্দরবানের এবং ১ জন খাগড়াছড়ির বাসিন্দা।

সরকার জানিয়েছে, দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন ৩৮ হাজার ৪২২ জন। তবে এই সংখ্যা পানিবন্দি পরিবারের তুলনায় অনেক কম। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, অনেক মানুষ কি এখনো নিজ বাড়িতে আটকা পড়ে আছেন, নাকি আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি ও গ্রামীণ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘন ঘন ঘটছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগাম সতর্কতা, পাহাড় ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ বসতি এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা না গেলে প্রতিবছর একই ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

এদিকে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সামনে নতুন সংকট দেখা দিচ্ছে। বিশুদ্ধ  পানির অভাব, খাদ্যসংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্বাসন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে দ্রুত ত্রাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

সরকার আ.লীগের অপতৎপরতায় শঙ্কিত নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৭ জেলায় বন্যার তাণ্ডব, প্রাণহানি বেড়ে ৫৪; পানিবন্দি সোয়া ১ লাখ পরিবার, ত্রাণে বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট টাইম : ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড়ধসের প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সরকারি হিসাবে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ জনে। পানিবন্দি রয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তবে মাঠপর্যায়ের প্রশাসন ও স্থানীয়দের মতে, দুর্গম এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো সামনে আসেনি। অনেক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত ক্ষতির হিসাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যার  পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর  পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক এলাকায় হঠাৎ করেই বসতবাড়ি, সড়ক ও কৃষিজমি তলিয়ে যায়। এতে হাজার হাজার পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়।

সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রাণহানির সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কক্সবাজারে। জেলাটিতে মারা গেছেন ৩১ জন, যা মোট মৃত্যুর অর্ধেকেরও বেশি। চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩৯ জন। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন কক্সবাজারের, ১২ জন চট্টগ্রামের, ২ জন বান্দরবানের এবং ১ জন খাগড়াছড়ির বাসিন্দা।

সরকার জানিয়েছে, দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন ৩৮ হাজার ৪২২ জন। তবে এই সংখ্যা পানিবন্দি পরিবারের তুলনায় অনেক কম। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, অনেক মানুষ কি এখনো নিজ বাড়িতে আটকা পড়ে আছেন, নাকি আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি ও গ্রামীণ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘন ঘন ঘটছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগাম সতর্কতা, পাহাড় ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ বসতি এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা না গেলে প্রতিবছর একই ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

এদিকে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সামনে নতুন সংকট দেখা দিচ্ছে। বিশুদ্ধ  পানির অভাব, খাদ্যসংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্বাসন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে দ্রুত ত্রাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।