ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক ২০০৯ সালের পর ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড ফাঁস হলো স্যামসাং জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রার দাম ও ফিচার হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোরআনের এই ১০ আয়াত চট্টগ্রামের দুর্গতদের পাশে যুবদল সভাপতি মুন্না বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : অর্থমন্ত্রী সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, পরীমণির বাঁধভাঙ্গা উল্লাস জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের হিট লিস্টে ১৩ বিশ্বনেতা দুই মাস পর ঘুরে দাঁড়ালো সঞ্চয়পত্র বিক্রি

কম্পিউটার গেমে আসক্তির পরিণতি ভয়াবহ

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ কম্পিউটার গেমে আসক্তি, বিষয়টা একদম নতুন কিছু নয়। বরং কয়েক বছর ধরে এটা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা প্রায় সময়েই শৈশব থেকে শুরু হয় এবং বেশির ভাগ সময় সেটা অভিভাবকদের অজ্ঞতার কারণে ঘটে থাকে। কম্পিউটার একটা টুল। এটা দিয়ে নানা ধরনের কাজ করা যেতে পারে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার ও প্রয়োগ সম্পর্কে এত সুন্দর সুন্দর কথা বলা হয়েছে যে, অনেক সময় অভিভাবকরা ধরে নেন এটা দিয়ে যা কিছু করা হয়, তার সবই ভালো। তাই যখন তারা দেখেন, তাদের সন্তানেরা দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের সামনে বসে আছে, তারা বুঝতে পারেন না যে এর মাঝে সতর্ক হওয়া কতটা জরুরি। অনেকে খোঁজ-খবর নেওয়ারও প্রয়োজন মনে করেন না যে, সন্তানেরা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কী কাজ করছে।
কম্পিউটারে যেমন নানা কাজকর্ম করা যায়, তেমনি নানা ধরনের গেমও খেলা যায়। কম্পিউটারের গেম এক ধরনের বিনোদনের মাধ্যম। এই বিনোদনের আবার নানা রকম মাত্রা রয়েছে। যারা সেটি খেলছে তারা সেটাকে নিছক বিনোদন হিসেবে নিয়ে মাত্রার ভেতরে ব্যবহার করলে সেটি অবশ্যই একটি সুস্থ বিনোদন হবে। কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু প্রায় সময় এটার বিপরীত ঘটনা ঘটে। দেখা গেছে, একটি অবুঝ শিশু থেকে পূর্ণ বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত কম্পিউটার গেমে ক্রমশ আসক্তি হয়ে যায়। কোরিয়ায় একজন টানা ৫০ ঘণ্টা কম্পিউটার গেম খেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিল, চীনের এক দম্পতি কম্পিউটার গেম খেলার অর্থ জোগাড় করতে নিজেদের শিশু সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছিল। এমন ঘটনা ইতিহাসে বিরল হলেও বাংলাদেশেও এমন ঘটনা ঘটছে। আজকাল কম্পিউটার গেমে আসক্তি আত্মহত্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড়ই ভয়ানক কথা।
কম্পিউটার গেম সংক্রান্ত গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো একটা কম্পিউটার গেমে তীব্রভাবে আসক্ত একজন মানুষের মস্তিষ্কে বিশেষ উত্তেজক রাসায়নিক পদার্থের দ্রুত নিঃসরণ হয়। শুধু তাই নয়, যারা সপ্তাহে ছয়দিন টানা দশ ঘণ্টা কম্পিউটার ব্যবহার করে তাদের মস্তিষ্কের গঠনেও এক ধরনের পরিবর্তন হয়ে যায়। এই তাত্পর্যপূর্ণ উদাহরণগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কম্পিউটার গেমে আসক্ত হয়ে যাওয়া মোটেও বিচিত্র কিছু নয়। বরং ক্ষতিকর। এ বিষয়ে একটু সতর্ক না থাকলে খুব সহজেই আসক্ত হয়ে যেতে পারে আমাদের প্রিয় মানুষগুলো, কোমলমতি শিশু-সন্তানেরা, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। অতঃপর এদের ফিরিয়ে আনতে কে দায়িত্ব নিবে?
আমরা জানি, আসক্তি মানেই হচ্ছে এক প্রকার নেশা। আর নেশা সব কিছুর জন্যই খারাপ। নেশা কখনো সুফল বয়ে আনতে পারে না। একটা সুন্দর জীবন ধ্বংস করার জন্য যে-কোনো নেশাই যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। কাজেই আমাদের সকলের মনে রাখতে হবে, কম্পিউটার গেম চমৎকার একটা বিনোদনের মাধ্যম হতে পারে। কখনো কোনো নেশার বস্তু হতে পারে না। আত্মহত্যাস্পৃহাকারী কোনো ডিভাইস হতে পারে না। বরং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার একটি উৎকৃষ্ট ও প্রয়োজনীয় বস্তু হতে পারে। এর যথোপযুক্ত ব্যবহার কখনো ধ্বংস আনতে পারে না। কিন্তু আসল বিষয় হচ্ছে, এতে আসক্ত হওয়া খুব সহজ ব্যাপার। তার পরিণতি মোটেও ভালো নয়, সেটা সবাইকে মনে রেখে কম্পিউটার গেমের প্রতি তীব্র আসক্তি পরিহার করতে হবে।
লেখক :শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)
Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক

কম্পিউটার গেমে আসক্তির পরিণতি ভয়াবহ

আপডেট টাইম : ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৭
বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ কম্পিউটার গেমে আসক্তি, বিষয়টা একদম নতুন কিছু নয়। বরং কয়েক বছর ধরে এটা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা প্রায় সময়েই শৈশব থেকে শুরু হয় এবং বেশির ভাগ সময় সেটা অভিভাবকদের অজ্ঞতার কারণে ঘটে থাকে। কম্পিউটার একটা টুল। এটা দিয়ে নানা ধরনের কাজ করা যেতে পারে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার ও প্রয়োগ সম্পর্কে এত সুন্দর সুন্দর কথা বলা হয়েছে যে, অনেক সময় অভিভাবকরা ধরে নেন এটা দিয়ে যা কিছু করা হয়, তার সবই ভালো। তাই যখন তারা দেখেন, তাদের সন্তানেরা দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের সামনে বসে আছে, তারা বুঝতে পারেন না যে এর মাঝে সতর্ক হওয়া কতটা জরুরি। অনেকে খোঁজ-খবর নেওয়ারও প্রয়োজন মনে করেন না যে, সন্তানেরা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কী কাজ করছে।
কম্পিউটারে যেমন নানা কাজকর্ম করা যায়, তেমনি নানা ধরনের গেমও খেলা যায়। কম্পিউটারের গেম এক ধরনের বিনোদনের মাধ্যম। এই বিনোদনের আবার নানা রকম মাত্রা রয়েছে। যারা সেটি খেলছে তারা সেটাকে নিছক বিনোদন হিসেবে নিয়ে মাত্রার ভেতরে ব্যবহার করলে সেটি অবশ্যই একটি সুস্থ বিনোদন হবে। কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু প্রায় সময় এটার বিপরীত ঘটনা ঘটে। দেখা গেছে, একটি অবুঝ শিশু থেকে পূর্ণ বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত কম্পিউটার গেমে ক্রমশ আসক্তি হয়ে যায়। কোরিয়ায় একজন টানা ৫০ ঘণ্টা কম্পিউটার গেম খেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিল, চীনের এক দম্পতি কম্পিউটার গেম খেলার অর্থ জোগাড় করতে নিজেদের শিশু সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছিল। এমন ঘটনা ইতিহাসে বিরল হলেও বাংলাদেশেও এমন ঘটনা ঘটছে। আজকাল কম্পিউটার গেমে আসক্তি আত্মহত্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড়ই ভয়ানক কথা।
কম্পিউটার গেম সংক্রান্ত গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো একটা কম্পিউটার গেমে তীব্রভাবে আসক্ত একজন মানুষের মস্তিষ্কে বিশেষ উত্তেজক রাসায়নিক পদার্থের দ্রুত নিঃসরণ হয়। শুধু তাই নয়, যারা সপ্তাহে ছয়দিন টানা দশ ঘণ্টা কম্পিউটার ব্যবহার করে তাদের মস্তিষ্কের গঠনেও এক ধরনের পরিবর্তন হয়ে যায়। এই তাত্পর্যপূর্ণ উদাহরণগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কম্পিউটার গেমে আসক্ত হয়ে যাওয়া মোটেও বিচিত্র কিছু নয়। বরং ক্ষতিকর। এ বিষয়ে একটু সতর্ক না থাকলে খুব সহজেই আসক্ত হয়ে যেতে পারে আমাদের প্রিয় মানুষগুলো, কোমলমতি শিশু-সন্তানেরা, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। অতঃপর এদের ফিরিয়ে আনতে কে দায়িত্ব নিবে?
আমরা জানি, আসক্তি মানেই হচ্ছে এক প্রকার নেশা। আর নেশা সব কিছুর জন্যই খারাপ। নেশা কখনো সুফল বয়ে আনতে পারে না। একটা সুন্দর জীবন ধ্বংস করার জন্য যে-কোনো নেশাই যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে। কাজেই আমাদের সকলের মনে রাখতে হবে, কম্পিউটার গেম চমৎকার একটা বিনোদনের মাধ্যম হতে পারে। কখনো কোনো নেশার বস্তু হতে পারে না। আত্মহত্যাস্পৃহাকারী কোনো ডিভাইস হতে পারে না। বরং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার একটি উৎকৃষ্ট ও প্রয়োজনীয় বস্তু হতে পারে। এর যথোপযুক্ত ব্যবহার কখনো ধ্বংস আনতে পারে না। কিন্তু আসল বিষয় হচ্ছে, এতে আসক্ত হওয়া খুব সহজ ব্যাপার। তার পরিণতি মোটেও ভালো নয়, সেটা সবাইকে মনে রেখে কম্পিউটার গেমের প্রতি তীব্র আসক্তি পরিহার করতে হবে।
লেখক :শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)