ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি টাকা প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ, ট্যালেন্টপুলে ৩২,৯৬৫ জন বন্যা-পাহাড়ধসে দুর্যোগ মোকাবিলায় বিজিবি মোতায়েন মুজিববর্ষ পালনে ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা খরচ ভারী বর্ষণে রাজধানী জলমগ্ন, নগরবাসীর দুর্ভোগ চরমে চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দর থেকে সরানো হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব: জামায়াত আমির ঢাকা মেডিকেল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবে : ডা. জুবাইদা রহমান

যেখানে বিয়ের উপহার হিসেবে দেয়া হয় ২১টি সাপ!

আত্মীয়ের বিয়েতে কী দেবেন ভাবছেন? মোবাইল, ল্যাপটপ না শাড়ি, গয়না? উপহার পেলে সবাই খুশি হয়৷ তবে ভারতের ছত্তিসগড়ের যোগীনগরের কেউ যদি আপনার পরিচিত হয় তাকে ভুলেও নেমতন্ন করবেন না! তিনি বিয়েতে এলেই সবাই আঁতকে উঠবে৷ কারণ ২১টি জ্যান্ত সাপ নিয়ে আসবেন আপনার সেই বন্ধু বা পরিচিত জন! সৌজন্য রক্ষার খাতিরে উপহার নিতেই হবে৷ এটাই নিয়ম ছত্তিসগড়ের মহাসমুন্দ জেলার যোগীনগরের বাসিন্দাদের৷ তারা বিয়েতে সাপ উপহার দেন৷

স্থানীয় নিয়মানুসারে সেই ২১টি সাপকে পুরো দু মাস খাইয়ে দাইয়ে তোয়াজ করতে হবে৷ বুঝুন এবার কাণ্ড! ঘরের মধ্যে একটা বা দুটো হাঁড়িতে ২১টি সাপ অনবরত কিলবিল করছে৷ মাঝে মধ্যেই ফোঁসফোঁস করে


চলেছে৷ এরকম চলবে পুরো দুটো মাস৷ তারপর সেই সাপগুলোকে আবার জঙ্গলে ছেড়ে দিতে হবে৷ এক অদ্ভুত নিয়ম এই যোগীনগরের৷ এখানে সাপ সন্তানের মতো পালিত হয় প্রতি বাড়িতে৷ কেউ যদি সাপ মেরে ফেলেন তাহলে তাকে বিশাল অনুষ্ঠান করে শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান করতে হবে৷ সঙ্গে অনেক খাওয়া দাওয়া৷

যোগীনগর এলাকাটি সাপুড়েদের জন্য প্রসিদ্ধ৷ এখানকার বাসিন্দাদের মূল পেশা সাপ ধরা৷ আর সাপের খেলা দেখানো৷ ছোট-বড় সবাই মনের আনন্দে গোখরা, কেউটে, চন্দ্রবোড়া, শাঁখামুটিসহ বিভিন্ন ধরণের সাপ ধরতে ওস্তাদ৷ যোগীনগরের প্রচলিত রীতি জঙ্গল থেকে সাপ ধরে মাস দুয়েক পর আবার সাপকে জঙ্গলে ছেড়ে দেয়া৷ আবার বিভিন্ন ওষধি গাছের পাতা দিয়ে চিকিৎসা করেন তারা৷

ছত্তিসগড় বনবিভাগ লাগাতার প্রচার চালিয়েছে-সাপ ধরা নিষেধ৷৷ যোগীনগরের বাসিন্দারা তা মানেননি৷ তাদের দাবি প্রচুর সাপ ধরলেও তাদের কোনোরকম ক্ষতি করা হয়না৷ সাপ ধরা তাদের সামাজিক রীতি৷ সেই রীতি অনুসারে যোগীনগরে কোনো বিয়ে অনুষ্ঠিত হলে কন্যাপণ হিসেবে অন্যান্য উপহারের পাশাপাশি ২১টি সাপ দেয়া হয়৷ সাপ না দিলে বিয়েই হবে না৷ সাপের সংখ্যা কম পড়লে অন্যদের কাছে সাপ ধার করা হয়৷

যোগীনগরের আর্থিক অবস্থা খারাপ৷ অভিযোগ, সরকারী প্রকল্পের অধীনে কোনো কাজ পায়না তারা৷ এলাকায় পৌঁছায়নি বিদ্যুতের লাইনও৷ রোজগারের জন্য তাই সাপ ধরাকেই মূল পেশা হিসেবে বেঁছে নিয়েছেন যোগীনগরবাসী৷

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

সরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি টাকা

যেখানে বিয়ের উপহার হিসেবে দেয়া হয় ২১টি সাপ!

আপডেট টাইম : ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ অগাস্ট ২০১৬

আত্মীয়ের বিয়েতে কী দেবেন ভাবছেন? মোবাইল, ল্যাপটপ না শাড়ি, গয়না? উপহার পেলে সবাই খুশি হয়৷ তবে ভারতের ছত্তিসগড়ের যোগীনগরের কেউ যদি আপনার পরিচিত হয় তাকে ভুলেও নেমতন্ন করবেন না! তিনি বিয়েতে এলেই সবাই আঁতকে উঠবে৷ কারণ ২১টি জ্যান্ত সাপ নিয়ে আসবেন আপনার সেই বন্ধু বা পরিচিত জন! সৌজন্য রক্ষার খাতিরে উপহার নিতেই হবে৷ এটাই নিয়ম ছত্তিসগড়ের মহাসমুন্দ জেলার যোগীনগরের বাসিন্দাদের৷ তারা বিয়েতে সাপ উপহার দেন৷

স্থানীয় নিয়মানুসারে সেই ২১টি সাপকে পুরো দু মাস খাইয়ে দাইয়ে তোয়াজ করতে হবে৷ বুঝুন এবার কাণ্ড! ঘরের মধ্যে একটা বা দুটো হাঁড়িতে ২১টি সাপ অনবরত কিলবিল করছে৷ মাঝে মধ্যেই ফোঁসফোঁস করে


চলেছে৷ এরকম চলবে পুরো দুটো মাস৷ তারপর সেই সাপগুলোকে আবার জঙ্গলে ছেড়ে দিতে হবে৷ এক অদ্ভুত নিয়ম এই যোগীনগরের৷ এখানে সাপ সন্তানের মতো পালিত হয় প্রতি বাড়িতে৷ কেউ যদি সাপ মেরে ফেলেন তাহলে তাকে বিশাল অনুষ্ঠান করে শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান করতে হবে৷ সঙ্গে অনেক খাওয়া দাওয়া৷

যোগীনগর এলাকাটি সাপুড়েদের জন্য প্রসিদ্ধ৷ এখানকার বাসিন্দাদের মূল পেশা সাপ ধরা৷ আর সাপের খেলা দেখানো৷ ছোট-বড় সবাই মনের আনন্দে গোখরা, কেউটে, চন্দ্রবোড়া, শাঁখামুটিসহ বিভিন্ন ধরণের সাপ ধরতে ওস্তাদ৷ যোগীনগরের প্রচলিত রীতি জঙ্গল থেকে সাপ ধরে মাস দুয়েক পর আবার সাপকে জঙ্গলে ছেড়ে দেয়া৷ আবার বিভিন্ন ওষধি গাছের পাতা দিয়ে চিকিৎসা করেন তারা৷

ছত্তিসগড় বনবিভাগ লাগাতার প্রচার চালিয়েছে-সাপ ধরা নিষেধ৷৷ যোগীনগরের বাসিন্দারা তা মানেননি৷ তাদের দাবি প্রচুর সাপ ধরলেও তাদের কোনোরকম ক্ষতি করা হয়না৷ সাপ ধরা তাদের সামাজিক রীতি৷ সেই রীতি অনুসারে যোগীনগরে কোনো বিয়ে অনুষ্ঠিত হলে কন্যাপণ হিসেবে অন্যান্য উপহারের পাশাপাশি ২১টি সাপ দেয়া হয়৷ সাপ না দিলে বিয়েই হবে না৷ সাপের সংখ্যা কম পড়লে অন্যদের কাছে সাপ ধার করা হয়৷

যোগীনগরের আর্থিক অবস্থা খারাপ৷ অভিযোগ, সরকারী প্রকল্পের অধীনে কোনো কাজ পায়না তারা৷ এলাকায় পৌঁছায়নি বিদ্যুতের লাইনও৷ রোজগারের জন্য তাই সাপ ধরাকেই মূল পেশা হিসেবে বেঁছে নিয়েছেন যোগীনগরবাসী৷