ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক ২০০৯ সালের পর ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড ফাঁস হলো স্যামসাং জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রার দাম ও ফিচার হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোরআনের এই ১০ আয়াত চট্টগ্রামের দুর্গতদের পাশে যুবদল সভাপতি মুন্না বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : অর্থমন্ত্রী সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, পরীমণির বাঁধভাঙ্গা উল্লাস জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের হিট লিস্টে ১৩ বিশ্বনেতা দুই মাস পর ঘুরে দাঁড়ালো সঞ্চয়পত্র বিক্রি

স্বয়ং আল্লাহর নবীর প্রশংসা পেয়েছেন যে কবি

নিজের সভাকবি হাসসান বিন সাবিত (রা.)-এর কাব্য প্রতিভার প্রশংসা করেছেন স্বয়ং আল্লাহর নবী (সা.)। অনুপ্রেরণা দিয়েছেন তাঁকে সাহিত্যচর্চায়। হিজরতের প্রায় ৬০ বছর আগে ৫৬৩ সালে খাজরাজ গোত্রে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। মদিনায় ইসলাম প্রচারের সূচনালগ্নে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁকে বলা হতো ‘শায়িরুর রাসুল বা রাসুলের কবি’। বংশগতভাবেই তাঁদের পরিবারে কবিতার চর্চা ছিল। ঐতিহাসিক আহমদ ইসকান্দারি বলেন, ‘তাঁর বাবা ও দাদা উভয়েই কবি ছিলেন। তাঁর ছেলে আবদুর রহমান ও নাতি সাঈদও কাব্যচর্চা করতেন।’

আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত হাসসান বিন সাবিত (রা.) কবিতা আবৃত্তি শুরু করলে তাঁকে উৎসাহিত করতে কখনো কখনো নবীজি (সা.) সবাইকে শুনিয়ে বলতেন, ‘হাসসানের জিহ্বা যত দিন রাসুলের পক্ষে কবিতা শুনিয়ে যাবে তত দিন তাঁর সঙ্গে জিবরাইলও থাকবে।’ তাঁর কবিতা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, ‘হে হাসসান, আল্লাহর কাছ থেকে তোমার জন্য পুরস্কার হলো জান্নাত।’

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর তাঁর স্মরণে হাসসান বিন সাবিত (রা.) লিখেছিলেন অসাধারণ শোকগাথা। লিখেছিলেন, ‘তুমি ছিলে আমার নয়নের মণি/তোমার মৃত্যুতে আমি অন্ধ হয়ে গেছি/এখন অন্য কারো মৃত্যুতে আমার কোনো প্রতিক্রিয়াই হবে না।’

হাসসান বিন সাবিত (রা.)-এর কবিতার বৈশিষ্ট্য হলো তাতে কোরআনের বাক্যাংশ ব্যবহার করা। সুনানে তিরমিজিতে এসেছে, হাসসান বিন সাবিত (রা.)-এর জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে নববীতে একটি মিম্বার স্থাপন করেছিলেন। তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে কাফিরদের নিন্দাসূচক কবিতার উত্তর দিতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বলতেন, ‘আমার পক্ষ থেকে উত্তর দাও। হে আল্লাহ, রুহুল কুদুস (জিবরাইল আ.)-কে দিয়ে হাসসানকে সাহায্য করো।’

হজরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর খিলাফতকালে ৫৪ হিজরিতে ১২০ বছর বয়সে ইসলামের এই মহান কবি ইন্তেকাল করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক

স্বয়ং আল্লাহর নবীর প্রশংসা পেয়েছেন যে কবি

আপডেট টাইম : ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অগাস্ট ২০১৯

নিজের সভাকবি হাসসান বিন সাবিত (রা.)-এর কাব্য প্রতিভার প্রশংসা করেছেন স্বয়ং আল্লাহর নবী (সা.)। অনুপ্রেরণা দিয়েছেন তাঁকে সাহিত্যচর্চায়। হিজরতের প্রায় ৬০ বছর আগে ৫৬৩ সালে খাজরাজ গোত্রে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। মদিনায় ইসলাম প্রচারের সূচনালগ্নে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁকে বলা হতো ‘শায়িরুর রাসুল বা রাসুলের কবি’। বংশগতভাবেই তাঁদের পরিবারে কবিতার চর্চা ছিল। ঐতিহাসিক আহমদ ইসকান্দারি বলেন, ‘তাঁর বাবা ও দাদা উভয়েই কবি ছিলেন। তাঁর ছেলে আবদুর রহমান ও নাতি সাঈদও কাব্যচর্চা করতেন।’

আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত হাসসান বিন সাবিত (রা.) কবিতা আবৃত্তি শুরু করলে তাঁকে উৎসাহিত করতে কখনো কখনো নবীজি (সা.) সবাইকে শুনিয়ে বলতেন, ‘হাসসানের জিহ্বা যত দিন রাসুলের পক্ষে কবিতা শুনিয়ে যাবে তত দিন তাঁর সঙ্গে জিবরাইলও থাকবে।’ তাঁর কবিতা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, ‘হে হাসসান, আল্লাহর কাছ থেকে তোমার জন্য পুরস্কার হলো জান্নাত।’

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর তাঁর স্মরণে হাসসান বিন সাবিত (রা.) লিখেছিলেন অসাধারণ শোকগাথা। লিখেছিলেন, ‘তুমি ছিলে আমার নয়নের মণি/তোমার মৃত্যুতে আমি অন্ধ হয়ে গেছি/এখন অন্য কারো মৃত্যুতে আমার কোনো প্রতিক্রিয়াই হবে না।’

হাসসান বিন সাবিত (রা.)-এর কবিতার বৈশিষ্ট্য হলো তাতে কোরআনের বাক্যাংশ ব্যবহার করা। সুনানে তিরমিজিতে এসেছে, হাসসান বিন সাবিত (রা.)-এর জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে নববীতে একটি মিম্বার স্থাপন করেছিলেন। তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে কাফিরদের নিন্দাসূচক কবিতার উত্তর দিতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বলতেন, ‘আমার পক্ষ থেকে উত্তর দাও। হে আল্লাহ, রুহুল কুদুস (জিবরাইল আ.)-কে দিয়ে হাসসানকে সাহায্য করো।’

হজরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর খিলাফতকালে ৫৪ হিজরিতে ১২০ বছর বয়সে ইসলামের এই মহান কবি ইন্তেকাল করেন।