ঢাকা , শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী ভারি বর্ষণ নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস প্রাথমিক-মাধ্যমিকে ১৩৩ বই পরিমার্জন, আসছে চার নতুন বই গ্রামাঞ্চলেও সমান গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ, তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে ইয়ামাল বললেন, ফ্রান্স যদি কাউকে ভয় পায় সেটা স্পেন নিজেই গাড়ি চালিয়ে স্ত্রীর ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী ইমাম-খতিবদের উদ্দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সতর্কবার্তা অনেকে নিরুৎসাহিত করলেও হাল ছাড়েননি হামিদুল্লাহ, বিক্রি প্রায় ২ লাখ বিয়ের অনুমতি নিতেই মোটা টাকা খরচ টেইলর সুইফটের

সেফ জোন প্রতিষ্ঠার সুপারিশ

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্যও এক বড় সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে। গত ২৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে এসেছে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

আগে আসা আরো প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা এখানে অবস্থান করছে। এই ১১ লাখ রোহিঙ্গার খাদ্য, আশ্রয়, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ। তাই রোহিঙ্গা সংকটের আশু সমাধান প্রয়োজন। কূটনীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মিয়ানমারের যে সরকার ও সেনাবাহিনী এ সংকটের জন্য দায়ী, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে খুব একটা লাভ হবে বলে মনে হয় না। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপই শুধু এ সংকটের সমাধান করতে পারে। মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে এবং নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়াসহ মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে। আশার কথা, তেমনই কিছু প্রস্তাব নিয়েছে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন বা আইপিইউ। গত মঙ্গলবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত ১৭৩টি দেশের পার্লামেন্ট প্রতিনিধিদের সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাবে দ্রুত আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয় এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য ‘সেফ জোন’ বা নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন অবিলম্বে বন্ধ করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুর অভিযান নিয়ে মিয়ানমার সরকার শুরু থেকেই মিথ্যাচার করে আসছে এবং এখনো করছে। দেশটির সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলছে, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সেনা অভিযান বন্ধ রয়েছে। নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) বেশ কিছু ভিডিও চিত্র প্রকাশ করেছে গত সোমবার। ড্রোন ও উপগ্রহ থেকে তোলা এসব চিত্র প্রকাশ করে সংস্থাটি দাবি করেছে, ৫ সেপ্টেম্বরের পরও রোহিঙ্গাদের অন্তত ৬৬টি গ্রাম আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফও উপগ্রহচিত্র প্রকাশ করেছে। গতকাল বুধবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে অপরাধ করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। আধুনিক বিশ্বের কোনো একটি দেশ এমন সভ্যতাবিরোধী অপরাধ করে যাচ্ছে কিভাবে? কেন তা বন্ধ করা যাচ্ছে না? বিশ্বব্যাপী এই প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আইপিইউ সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাব একটি সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছে।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি সেফ জোন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও জাতিসংঘে ‘সেফ জোন’সহ পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছিলেন। এই অঞ্চল হবে সম্পূর্ণভাবে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে। আমাদের মনে রাখতে হবে, যে রোহিঙ্গারা প্রাণভয়ে পালিয়ে এসেছে, তারা কোনোভাবেই মিয়ানমার সরকার বা সেনাবাহিনীর দেওয়া নিরাপত্তার আশ্বাসে সেখানে ফিরে যেতে চাইবে না। জাতিসংঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে বাংলাদেশের ১৯৯৩ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, কোনো রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় ফিরে না গেলে তাদের জোর করে ফেরত পাঠানো যাবে না। তাহলে এই বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা কি বাংলাদেশেই থেকে যাবে? রোহিঙ্গা সংকটের যৌক্তিক সমাধানই আমাদের খুঁজতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

সেফ জোন প্রতিষ্ঠার সুপারিশ

আপডেট টাইম : ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৭

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্যও এক বড় সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে। গত ২৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে এসেছে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

আগে আসা আরো প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা এখানে অবস্থান করছে। এই ১১ লাখ রোহিঙ্গার খাদ্য, আশ্রয়, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ। তাই রোহিঙ্গা সংকটের আশু সমাধান প্রয়োজন। কূটনীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মিয়ানমারের যে সরকার ও সেনাবাহিনী এ সংকটের জন্য দায়ী, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে খুব একটা লাভ হবে বলে মনে হয় না। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপই শুধু এ সংকটের সমাধান করতে পারে। মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে এবং নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়াসহ মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে। আশার কথা, তেমনই কিছু প্রস্তাব নিয়েছে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন বা আইপিইউ। গত মঙ্গলবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত ১৭৩টি দেশের পার্লামেন্ট প্রতিনিধিদের সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাবে দ্রুত আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয় এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য ‘সেফ জোন’ বা নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন অবিলম্বে বন্ধ করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুর অভিযান নিয়ে মিয়ানমার সরকার শুরু থেকেই মিথ্যাচার করে আসছে এবং এখনো করছে। দেশটির সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলছে, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সেনা অভিযান বন্ধ রয়েছে। নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) বেশ কিছু ভিডিও চিত্র প্রকাশ করেছে গত সোমবার। ড্রোন ও উপগ্রহ থেকে তোলা এসব চিত্র প্রকাশ করে সংস্থাটি দাবি করেছে, ৫ সেপ্টেম্বরের পরও রোহিঙ্গাদের অন্তত ৬৬টি গ্রাম আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফও উপগ্রহচিত্র প্রকাশ করেছে। গতকাল বুধবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে অপরাধ করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। আধুনিক বিশ্বের কোনো একটি দেশ এমন সভ্যতাবিরোধী অপরাধ করে যাচ্ছে কিভাবে? কেন তা বন্ধ করা যাচ্ছে না? বিশ্বব্যাপী এই প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আইপিইউ সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাব একটি সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছে।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি সেফ জোন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও জাতিসংঘে ‘সেফ জোন’সহ পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছিলেন। এই অঞ্চল হবে সম্পূর্ণভাবে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে। আমাদের মনে রাখতে হবে, যে রোহিঙ্গারা প্রাণভয়ে পালিয়ে এসেছে, তারা কোনোভাবেই মিয়ানমার সরকার বা সেনাবাহিনীর দেওয়া নিরাপত্তার আশ্বাসে সেখানে ফিরে যেতে চাইবে না। জাতিসংঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে বাংলাদেশের ১৯৯৩ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, কোনো রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় ফিরে না গেলে তাদের জোর করে ফেরত পাঠানো যাবে না। তাহলে এই বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা কি বাংলাদেশেই থেকে যাবে? রোহিঙ্গা সংকটের যৌক্তিক সমাধানই আমাদের খুঁজতে হবে।