ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাফনের পর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া করা যাবে

প্রশ্ন: আমাদের এলাকায় মায়্যেতকে দাফন করার পর মুসল্লিরা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তার জন্য দোয়া করে থাকে। জানতে চাই, দাফনের পর এভাবে দোয়া করা কি শরীয়তসম্মত?

উত্তর: দাফনের পর কেবলামুখী হয়ে মায়্যেতের জন্য দোয়া করা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত আছে।

উসমান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন– নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়্যেতের দাফনের কাজ শেষ করে সেখানে অবস্থান করতেন এবং বলতেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ইস্তিগফার কর, তার জন্য দৃঢ়তার দোয়া কর (যেন সে সঠিক উত্তর দিতে পারে)। কেননা এখন তাকে প্রশ্ন করা হবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩২১৩)

আরেক হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন– তাবুক যুদ্ধে আমি দেখলাম, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ যুল বিজাদাইনের কবরে নামেন। আবু বকর ও উমর রা. তার সঙ্গে ছিলেন।

নবীজী বলেন, তোমাদের ভাইকে আমার কাছে দাও। তিনি তাকে কেবলার দিক থেকে নিয়ে কবরে রাখেন। অতঃপর তিনি কবর থেকে উঠে বাকি কাজ আবু বকর ও উমর রা.-কে করতে দেন।

দাফন থেকে অবসর হয়ে নবীজী কেবলামুখী হয়ে হাত তুলে এই দোয়া করেন– হে আল্লাহ, আমি তার প্রতি সন্তুষ্ট। সুতরাং আপনিও তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান। (হিলইয়াতুল আউলিয়া ১/১২২; মারিফাতুস সাহাবা ৩/১৩৫)

এসব হাদিসের আলোকে ফকীহরা দাফনের পর মৃতের জন্য দোয়া করাকে মুস্তাহাব বলেছেন। তাই একে অবৈধ বা বিদআত বলা কিছুতেই ঠিক নয়।

আর এক্ষেত্রে একাকী বা সম্মিলিত দুভাবেই দুআ করা যাবে। তবে দোয়া করলে কবরকে সামনে রেখে দোয়া করবে না; বরং কবর থেকে সরে গিয়ে কবরকে পেছনে বা পাশে রেখে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় দুআ করবে।

সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১১৮২৭; ফাতহুল বারী ১১/১৪৮; আলজাওহারাতুন নায়্যিরা ১/১৪১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৬; রদ্দুল মুহতার ২/২৩৭

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

দাফনের পর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া করা যাবে

আপডেট টাইম : ১২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫

প্রশ্ন: আমাদের এলাকায় মায়্যেতকে দাফন করার পর মুসল্লিরা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তার জন্য দোয়া করে থাকে। জানতে চাই, দাফনের পর এভাবে দোয়া করা কি শরীয়তসম্মত?

উত্তর: দাফনের পর কেবলামুখী হয়ে মায়্যেতের জন্য দোয়া করা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত আছে।

উসমান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন– নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়্যেতের দাফনের কাজ শেষ করে সেখানে অবস্থান করতেন এবং বলতেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ইস্তিগফার কর, তার জন্য দৃঢ়তার দোয়া কর (যেন সে সঠিক উত্তর দিতে পারে)। কেননা এখন তাকে প্রশ্ন করা হবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩২১৩)

আরেক হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন– তাবুক যুদ্ধে আমি দেখলাম, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ যুল বিজাদাইনের কবরে নামেন। আবু বকর ও উমর রা. তার সঙ্গে ছিলেন।

নবীজী বলেন, তোমাদের ভাইকে আমার কাছে দাও। তিনি তাকে কেবলার দিক থেকে নিয়ে কবরে রাখেন। অতঃপর তিনি কবর থেকে উঠে বাকি কাজ আবু বকর ও উমর রা.-কে করতে দেন।

দাফন থেকে অবসর হয়ে নবীজী কেবলামুখী হয়ে হাত তুলে এই দোয়া করেন– হে আল্লাহ, আমি তার প্রতি সন্তুষ্ট। সুতরাং আপনিও তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান। (হিলইয়াতুল আউলিয়া ১/১২২; মারিফাতুস সাহাবা ৩/১৩৫)

এসব হাদিসের আলোকে ফকীহরা দাফনের পর মৃতের জন্য দোয়া করাকে মুস্তাহাব বলেছেন। তাই একে অবৈধ বা বিদআত বলা কিছুতেই ঠিক নয়।

আর এক্ষেত্রে একাকী বা সম্মিলিত দুভাবেই দুআ করা যাবে। তবে দোয়া করলে কবরকে সামনে রেখে দোয়া করবে না; বরং কবর থেকে সরে গিয়ে কবরকে পেছনে বা পাশে রেখে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় দুআ করবে।

সূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১১৮২৭; ফাতহুল বারী ১১/১৪৮; আলজাওহারাতুন নায়্যিরা ১/১৪১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৬; রদ্দুল মুহতার ২/২৩৭