ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক ২০০৯ সালের পর ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড ফাঁস হলো স্যামসাং জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রার দাম ও ফিচার হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোরআনের এই ১০ আয়াত চট্টগ্রামের দুর্গতদের পাশে যুবদল সভাপতি মুন্না বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : অর্থমন্ত্রী সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, পরীমণির বাঁধভাঙ্গা উল্লাস জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের হিট লিস্টে ১৩ বিশ্বনেতা দুই মাস পর ঘুরে দাঁড়ালো সঞ্চয়পত্র বিক্রি

ভারতের পাখি মানব

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ হরসুখ ভাই দোবারিয়া। বসবাস ভারতের গুজরাট রাজ্যের জুনাগধ শহরে। পেশায় কৃষক এই মানুষটি খুব বেশি অর্থ বিত্তের মালিক না হলেও তার রয়েছে একটি মহৎ হৃদয়। যেখানে মানুষ নানা ধরনের পরিবেশ বিনষ্টকারী কাজের মাধ্যমে পশু-পাখির জীবন বিপন্ন করে তুলছে সেখানে মহৎ হৃদয়ের এই মানুষটি কয়েক হাজার বন্য পাখির দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছেন। তাদের প্রতিদিনের আহার থেকে শুরু করে বাসা বানিয়ে দেওয়ার কাজও করছেন নিজ হাতে। পাখিদের প্রতি এই ভালোবাসার ফলস্বরূপ তিনি পেয়েছেন ‘বার্ড ম্যান’ বা ‘পাখি মানব’র খ্যাতি।
ঘটনার শুরু ২০০০ সালে। এক দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যায় হরসুখের। বাড়িতে শুয়ে বসে কাটছিল দিন। একদিন এক প্রতিবেশী তার কাছে পোষা টিয়া পাখিকে খাওয়ানোর জন্য মিলিট দানা (এক ধরনের শস্য) নিতে আসে। বুদ্ধি খেলে যায় হরসুখের মাথায়। নিজের ঘরের বারান্দায় একটি মিলিট ঝুলিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পরে একটি টিয়া এসে খেয়ে যায় সেটি। পরদিন দুটি টিয়া আসে। এভাবে প্রতিদিন টিয়ার সংখ্যা বাড়তে থাকে। সাথে যোগ হয় চড়ুই।
সেই থেকে শুরু। মাঝখানে কেটে গেছে সতের বছর। তবে দীর্ঘ এই সময়ে একদিনের জন্যও তার এই কাজ থেমে থাকেনি। পাখির সংখ্যা বাড়তে বাড়তে তা পৌঁছেছে তিন হাজারে। বিপুল সংখ্যক এই পাখির আহারের পুরো বন্দোবস্ত নিজ হাতে করে চলেছেন হরসুখ।


পাখির প্রতি তীব্র ভালোবাসার কারণে নিজের বাসস্থান পর্যন্ত পরিবর্তন করেছেন তিনি। এক সময় তিনি থাকতেন শহরের মাঝখানে। বিপুল সংখ্যক পাখি আসার কারণে প্রতিবেশীরা প্রায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করত। প্রতিবেশীদের আভিযোগ আমলে নিয়ে তিনি ২০১২ সালে শহরের পাশে চার একর জায়গা নিয়ে তার স্বপ্নের পাখি আশ্রম গড়ে তুলেছেন।
নিজের এই অদ্ভুত শখ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পাখিদের এই প্রতিপালন আমার জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। পাখিদের ডাকাডাকিতে অনেকেই বিরক্ত হলেও আমি এটাকে আমার জীবনের অংশ হিসেবেই মনে করি।’
তবে হরসুখ একা নন। তার পরিবারের সকলেই পাখিদের এই প্রতিপালন আনন্দ চিত্তে করেন। তার সন্তান কিরিপাল বলেন, ‘পাখিদের আমরা ভালোবাসি এবং তাদের বিরক্তিকর কাজ আমাদের জীবনের অংশস্বরূপ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক

ভারতের পাখি মানব

আপডেট টাইম : ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বাঙালী কণ্ঠ নিউজঃ হরসুখ ভাই দোবারিয়া। বসবাস ভারতের গুজরাট রাজ্যের জুনাগধ শহরে। পেশায় কৃষক এই মানুষটি খুব বেশি অর্থ বিত্তের মালিক না হলেও তার রয়েছে একটি মহৎ হৃদয়। যেখানে মানুষ নানা ধরনের পরিবেশ বিনষ্টকারী কাজের মাধ্যমে পশু-পাখির জীবন বিপন্ন করে তুলছে সেখানে মহৎ হৃদয়ের এই মানুষটি কয়েক হাজার বন্য পাখির দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছেন। তাদের প্রতিদিনের আহার থেকে শুরু করে বাসা বানিয়ে দেওয়ার কাজও করছেন নিজ হাতে। পাখিদের প্রতি এই ভালোবাসার ফলস্বরূপ তিনি পেয়েছেন ‘বার্ড ম্যান’ বা ‘পাখি মানব’র খ্যাতি।
ঘটনার শুরু ২০০০ সালে। এক দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যায় হরসুখের। বাড়িতে শুয়ে বসে কাটছিল দিন। একদিন এক প্রতিবেশী তার কাছে পোষা টিয়া পাখিকে খাওয়ানোর জন্য মিলিট দানা (এক ধরনের শস্য) নিতে আসে। বুদ্ধি খেলে যায় হরসুখের মাথায়। নিজের ঘরের বারান্দায় একটি মিলিট ঝুলিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পরে একটি টিয়া এসে খেয়ে যায় সেটি। পরদিন দুটি টিয়া আসে। এভাবে প্রতিদিন টিয়ার সংখ্যা বাড়তে থাকে। সাথে যোগ হয় চড়ুই।
সেই থেকে শুরু। মাঝখানে কেটে গেছে সতের বছর। তবে দীর্ঘ এই সময়ে একদিনের জন্যও তার এই কাজ থেমে থাকেনি। পাখির সংখ্যা বাড়তে বাড়তে তা পৌঁছেছে তিন হাজারে। বিপুল সংখ্যক এই পাখির আহারের পুরো বন্দোবস্ত নিজ হাতে করে চলেছেন হরসুখ।


পাখির প্রতি তীব্র ভালোবাসার কারণে নিজের বাসস্থান পর্যন্ত পরিবর্তন করেছেন তিনি। এক সময় তিনি থাকতেন শহরের মাঝখানে। বিপুল সংখ্যক পাখি আসার কারণে প্রতিবেশীরা প্রায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করত। প্রতিবেশীদের আভিযোগ আমলে নিয়ে তিনি ২০১২ সালে শহরের পাশে চার একর জায়গা নিয়ে তার স্বপ্নের পাখি আশ্রম গড়ে তুলেছেন।
নিজের এই অদ্ভুত শখ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পাখিদের এই প্রতিপালন আমার জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। পাখিদের ডাকাডাকিতে অনেকেই বিরক্ত হলেও আমি এটাকে আমার জীবনের অংশ হিসেবেই মনে করি।’
তবে হরসুখ একা নন। তার পরিবারের সকলেই পাখিদের এই প্রতিপালন আনন্দ চিত্তে করেন। তার সন্তান কিরিপাল বলেন, ‘পাখিদের আমরা ভালোবাসি এবং তাদের বিরক্তিকর কাজ আমাদের জীবনের অংশস্বরূপ।