ঢাকা , সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলা কিউআরে দৈনিক লেনদেন ছাড়াল ১১০ কোটি টাকা কঙ্গনার ‘সস্তা কপি’ মন্তব্যের পর তাপসীর রহস্যময় পোস্ট বিয়ের প্রলোভনে আসা যুবতীকে আটকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ নির্দিষ্ট দিনেই হচ্ছে সিলেটের বিয়ানীবাজারের সেই নৌকাবাইচ প্যারিসে আলোচনা সভা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের আহ্বান জামা-কাপড় কিনে এনেই পরছেন? ডেকে আনছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু ২২ দিনে রেমিট্যান্স এল ২১৫ কোটি ডলার পেশাগত দক্ষতা-যোগ্যতা হবে পদোন্নতির মানদণ্ড: প্রধানমন্ত্রীপেশাগত দক্ষতা-যোগ্যতা হবে পদোন্নতির মানদণ্ড: প্রধানমন্ত্রী

গ্রামীণ কুটিরশিল্প রক্ষা করুন

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শিল্পের ব্যাপক সম্প্রসারণ প্রয়োজন। আর এ শিল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কুটিরশিল্প। প্রাচীনকাল থেকেই বাংলার মানুষ এই শিল্পে জড়িত ছিল, কারণ এ শিল্পে ভারি যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না। ঘরোয়া পরিবেশে এর উপকরণ সংগ্রহ করা যায়।

এই উপকরণগুলো দিয়ে শিল্পী বা কারিগররা সুন্দর সুন্দর শিল্পকর্ম তৈরি করেন। বাংলাদেশ গ্রামপ্রধান দেশ হওয়ায় এখানকার অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। আর যারা গ্রামে বসবাস করে, তাদের অধিকাংশই কৃষিকাজ করে। এসব কৃষকের অনেকে আবার কৃষিকাজের পাশাপাশি নানা রকম শৌখিন জিনিস তৈরি করে, যা তাদের বাড়তি আয়ের একটা মাধ্যমে পরিণত হয়।

কুটিরশিল্পে সাধারণত মৃৎশিল্প, বাঁশ-বেতের ঝুড়ি ইত্যাদি তৈরি করা হয়। এর পাশাপাশি অনেকে ঘরোয়া পরিবেশে তাঁত দিয়ে কাপড় তৈরি করে। দুঃখের বিষয় হলো, বর্তমানে এ শিল্পগুলো গ্রাম থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। আগের মতো এখন আর গ্রামের মানুষ এসব শিল্পে কাজ করে না। তারা কৃষিকাজের পাশাপাশি বিকল্প হিসাবে নানারকম কলকারখানায় কাজ করে।

অনেকে বাড়িঘর নির্মাণের কাজও করে। ফলে এসব কুটিরশিল্প কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। একটা সময় ছিল যখন এই বাংলার মসলিন কাপড় ইউরোপ ও আরব বিশ্বে সমধিক পরিচিত ছিল। ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের ফলে মসলিন কাপড়ের জায়গা দখল করে নেয় তাদের তৈরি করা রং-বেরঙের চিকন মিহি কাপড়। ফলে মসলিন কাপড়ের শিল্প হারিয়ে যায়।

আগের দিনে মানুষ নিজের বাড়িতেই তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সব সামগ্রী তৈরি করত। কিন্তু এখন সেসব কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। বাঁশ ও বেতের জায়গা দখল করে নিচ্ছে প্লাস্টিক সামগ্রী। ফলে এ শিল্পগুলো গ্রামবাংলায় তেমন আর চোখে পড়ে না।

এখনও আমরা কুটির শিল্পের মাধ্যমে ঘরোয়া পরিবেশে পণ্য উৎপাদন করে ব্যবহার করতে পারি। এতে দেশ আমদানিনির্ভর অর্থনীতি থেকে মুক্তিলাভ করতে পারে। বিসিকের হিসাব অনুযায়ী, দেশে কুটিরশিল্প থেকে বছরে ৩৯ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকার পণ্য উৎপন্ন হয়। মূল্য সংযোজন হয় ৩১ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা, যা দেশের জিডিপিতে যোগ হয়।

আর দেশে প্রতি বছর কুটিরশিল্পে ১৭ লাখ কর্মক্ষম লোক যুক্ত হয়, যা বেকার সমস্যার সমাধানের একটি অন্যতম মাধ্যম বলে বিবেচিত। তাই সরকারকে কুটিরশিল্প রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।

জাফর ইসলাম : শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলা কিউআরে দৈনিক লেনদেন ছাড়াল ১১০ কোটি টাকা

গ্রামীণ কুটিরশিল্প রক্ষা করুন

আপডেট টাইম : ১০:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১

বাঙালী কণ্ঠ ডেস্কঃ একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শিল্পের ব্যাপক সম্প্রসারণ প্রয়োজন। আর এ শিল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কুটিরশিল্প। প্রাচীনকাল থেকেই বাংলার মানুষ এই শিল্পে জড়িত ছিল, কারণ এ শিল্পে ভারি যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না। ঘরোয়া পরিবেশে এর উপকরণ সংগ্রহ করা যায়।

এই উপকরণগুলো দিয়ে শিল্পী বা কারিগররা সুন্দর সুন্দর শিল্পকর্ম তৈরি করেন। বাংলাদেশ গ্রামপ্রধান দেশ হওয়ায় এখানকার অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। আর যারা গ্রামে বসবাস করে, তাদের অধিকাংশই কৃষিকাজ করে। এসব কৃষকের অনেকে আবার কৃষিকাজের পাশাপাশি নানা রকম শৌখিন জিনিস তৈরি করে, যা তাদের বাড়তি আয়ের একটা মাধ্যমে পরিণত হয়।

কুটিরশিল্পে সাধারণত মৃৎশিল্প, বাঁশ-বেতের ঝুড়ি ইত্যাদি তৈরি করা হয়। এর পাশাপাশি অনেকে ঘরোয়া পরিবেশে তাঁত দিয়ে কাপড় তৈরি করে। দুঃখের বিষয় হলো, বর্তমানে এ শিল্পগুলো গ্রাম থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। আগের মতো এখন আর গ্রামের মানুষ এসব শিল্পে কাজ করে না। তারা কৃষিকাজের পাশাপাশি বিকল্প হিসাবে নানারকম কলকারখানায় কাজ করে।

অনেকে বাড়িঘর নির্মাণের কাজও করে। ফলে এসব কুটিরশিল্প কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। একটা সময় ছিল যখন এই বাংলার মসলিন কাপড় ইউরোপ ও আরব বিশ্বে সমধিক পরিচিত ছিল। ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের ফলে মসলিন কাপড়ের জায়গা দখল করে নেয় তাদের তৈরি করা রং-বেরঙের চিকন মিহি কাপড়। ফলে মসলিন কাপড়ের শিল্প হারিয়ে যায়।

আগের দিনে মানুষ নিজের বাড়িতেই তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সব সামগ্রী তৈরি করত। কিন্তু এখন সেসব কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। বাঁশ ও বেতের জায়গা দখল করে নিচ্ছে প্লাস্টিক সামগ্রী। ফলে এ শিল্পগুলো গ্রামবাংলায় তেমন আর চোখে পড়ে না।

এখনও আমরা কুটির শিল্পের মাধ্যমে ঘরোয়া পরিবেশে পণ্য উৎপাদন করে ব্যবহার করতে পারি। এতে দেশ আমদানিনির্ভর অর্থনীতি থেকে মুক্তিলাভ করতে পারে। বিসিকের হিসাব অনুযায়ী, দেশে কুটিরশিল্প থেকে বছরে ৩৯ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকার পণ্য উৎপন্ন হয়। মূল্য সংযোজন হয় ৩১ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা, যা দেশের জিডিপিতে যোগ হয়।

আর দেশে প্রতি বছর কুটিরশিল্পে ১৭ লাখ কর্মক্ষম লোক যুক্ত হয়, যা বেকার সমস্যার সমাধানের একটি অন্যতম মাধ্যম বলে বিবেচিত। তাই সরকারকে কুটিরশিল্প রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।

জাফর ইসলাম : শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়