ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক ২০০৯ সালের পর ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড ফাঁস হলো স্যামসাং জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রার দাম ও ফিচার হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারে কোরআনের এই ১০ আয়াত চট্টগ্রামের দুর্গতদের পাশে যুবদল সভাপতি মুন্না বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : অর্থমন্ত্রী সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, পরীমণির বাঁধভাঙ্গা উল্লাস জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের হিট লিস্টে ১৩ বিশ্বনেতা দুই মাস পর ঘুরে দাঁড়ালো সঞ্চয়পত্র বিক্রি

আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার: মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার বিরুদ্ধে প্রচুর সমালোচনা হয়। যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফলো করেন তারা ভালো করে জানেন। সমালোচনা হয় এজন্যই কারণ আমি সাধারণ মানুষের কথা বলি, মানবিক মূল্যবোধের কথা বলি। অসাম্প্রতিকতার কথা বলি। এজন্যই আমার সমালোচনা বেশি হয়। তবে আমি মানুষের কথা বলতেই থাকবো, সমালোচনা আমি পরোয়া করি না। আমার ধর্ম আমাকে শেখায়  অন্যের ধর্মকে আঘাত না করতে।

তিনি বলেন, আমরা হিন্দু-মুসলমান সবাই যে যার ধর্মকে বিশ্বাস করি। এ ধর্ম বিশ্বাসকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। আমরা বিভাজন থেকে দূরে থাকবো। বাংলাদেশের সত্যিকার অর্থে একটা শান্তিময় দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমাকে অনেকে অনেক কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের জাগরনী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে এই ইলেকশন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমাদের দেশটাকে আমরা কোন দিকে নিয়ে যাবো। আমরা সামনের দিকে নিয়ে যাবো, না পেছনের দিকে নিয়ে যাবো। বিভাজনের দিকে নিয়ে যাবো নাকি ঐক্যের দিকে নিয়ে যাবো। এই সিদ্ধান্ত আপনাদেরকে নিতে হবে।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আপনারা এটাও ভালো করে জানেন, আমি একজন অসাম্প্রদায়িক লোক। আমি সাম্প্রদায়িকতা বিশ্বাস করি না। আমি এই সিদ্ধান্তগুলোতে এক চুলও নড়বো না। আমাদের রাজনীতি হবে সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি। যে রাজনীতি করতে হবে মানুষের কল্যাণের জন্য। যে রাজনীতি হবে পুরোপুরি মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যারা বিশ্বাস করেনি। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় পাকহানাদার বাহিনীদের হামলার জন্য সাহায্য করেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়েছে। তাদের পক্ষে আমরা থাকতে পারি না। আমরা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি এবং স্বাধীনতার পক্ষে থাকবো। তাই সেই দলকে আমরা কখনোই সমর্থন করি না।

তিনি আরও বলেন, যারা ১৯৭১ সালে আমার দেশে গণহত্যা করেছিলো পাকিস্তানিদের সাহায্য করেছিলো এখন  পর্যন্ত তার জন্য তারা ক্ষমা চায়নি। এটা আমার পরিষ্কার কথা। এটা কেউ আমার ওপর খুশি হতে পারেন আবার অখুশিও হতে পারেন। কিন্তু আমি আমার বাংলাদেশের স্বাধীনতার বাইরে কোনো  কিছুই করতে পারবো না। আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ২৪শে জুলাই যুদ্ধ এই দুইটাকে ধারণ করে সামনে এগোতে চাই।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি ১৫ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করেছি। ভোটের অধিকারের জন্য। দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা আমাকে ধানের শীষে  ভোট দেবেন কিনা সেটা আপনাদের সিদ্ধান্ত। কারণ আমি আপনাদের কাছে নতুন নই, অনেক পুরোনো মানুষ। গত ১৫ বছর আমি আপনাদের সঙ্গে থাকতে পারিনি কারণ আমাকে অনেক চড়াই-উৎরাই পার করতে হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে হয়েছে।  ১১ বার জেলে গেছি, সাড়ে তিন বছর কারভোগ করেছি। তাই আগামী ১২-ই ফেব্রুয়ারি জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

Bangal Kantha

জলাবদ্ধতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি: ডিএসসিসি প্রশাসক

আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার: মির্জা ফখরুল

আপডেট টাইম : ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার বিরুদ্ধে প্রচুর সমালোচনা হয়। যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফলো করেন তারা ভালো করে জানেন। সমালোচনা হয় এজন্যই কারণ আমি সাধারণ মানুষের কথা বলি, মানবিক মূল্যবোধের কথা বলি। অসাম্প্রতিকতার কথা বলি। এজন্যই আমার সমালোচনা বেশি হয়। তবে আমি মানুষের কথা বলতেই থাকবো, সমালোচনা আমি পরোয়া করি না। আমার ধর্ম আমাকে শেখায়  অন্যের ধর্মকে আঘাত না করতে।

তিনি বলেন, আমরা হিন্দু-মুসলমান সবাই যে যার ধর্মকে বিশ্বাস করি। এ ধর্ম বিশ্বাসকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। আমরা বিভাজন থেকে দূরে থাকবো। বাংলাদেশের সত্যিকার অর্থে একটা শান্তিময় দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমাকে অনেকে অনেক কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের জাগরনী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে এই ইলেকশন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমাদের দেশটাকে আমরা কোন দিকে নিয়ে যাবো। আমরা সামনের দিকে নিয়ে যাবো, না পেছনের দিকে নিয়ে যাবো। বিভাজনের দিকে নিয়ে যাবো নাকি ঐক্যের দিকে নিয়ে যাবো। এই সিদ্ধান্ত আপনাদেরকে নিতে হবে।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আপনারা এটাও ভালো করে জানেন, আমি একজন অসাম্প্রদায়িক লোক। আমি সাম্প্রদায়িকতা বিশ্বাস করি না। আমি এই সিদ্ধান্তগুলোতে এক চুলও নড়বো না। আমাদের রাজনীতি হবে সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি। যে রাজনীতি করতে হবে মানুষের কল্যাণের জন্য। যে রাজনীতি হবে পুরোপুরি মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যারা বিশ্বাস করেনি। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় পাকহানাদার বাহিনীদের হামলার জন্য সাহায্য করেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়েছে। তাদের পক্ষে আমরা থাকতে পারি না। আমরা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি এবং স্বাধীনতার পক্ষে থাকবো। তাই সেই দলকে আমরা কখনোই সমর্থন করি না।

তিনি আরও বলেন, যারা ১৯৭১ সালে আমার দেশে গণহত্যা করেছিলো পাকিস্তানিদের সাহায্য করেছিলো এখন  পর্যন্ত তার জন্য তারা ক্ষমা চায়নি। এটা আমার পরিষ্কার কথা। এটা কেউ আমার ওপর খুশি হতে পারেন আবার অখুশিও হতে পারেন। কিন্তু আমি আমার বাংলাদেশের স্বাধীনতার বাইরে কোনো  কিছুই করতে পারবো না। আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ২৪শে জুলাই যুদ্ধ এই দুইটাকে ধারণ করে সামনে এগোতে চাই।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি ১৫ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করেছি। ভোটের অধিকারের জন্য। দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা আমাকে ধানের শীষে  ভোট দেবেন কিনা সেটা আপনাদের সিদ্ধান্ত। কারণ আমি আপনাদের কাছে নতুন নই, অনেক পুরোনো মানুষ। গত ১৫ বছর আমি আপনাদের সঙ্গে থাকতে পারিনি কারণ আমাকে অনেক চড়াই-উৎরাই পার করতে হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে হয়েছে।  ১১ বার জেলে গেছি, সাড়ে তিন বছর কারভোগ করেছি। তাই আগামী ১২-ই ফেব্রুয়ারি জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।